| প্রচ্ছদ

কর্মীদের নভেম্বরের বেতন দিতে পারবে না জাতিসংঘ

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৪৪ বার। প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০১৯ ।

গত এক যুগে এই প্রথম চরম অর্থসঙ্কটে পড়েছে জাতিসংঘ। আর্ন্তজাতিক এই সংস্থাটি তাদের বিভিন্ন অঙ্গসংস্থায় কর্মরত ব্যক্তিদের আগামী মাসের বেতন দিতে পারবে না।

সেই অর্থ নেই সংস্থাটির ফান্ডে।

মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ বাজেট কমিটির এক বৈঠকে সংস্থাটির মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এমন তথ্য দেন।

তিনি জানান, আগামী নভেম্বর মাসে কর্মীদের বেতন দিতে পারবে না জাতিসংঘ। শুধু তাই নায় অঙ্গসংস্থাগুলোর কার্যক্রমও চালিয়ে যাওয়াটা সম্ভব হবে না।

এর জন্য সদস্য দেশগুলোকে দায়ী করেন তিনি।

মহাসচিব বলেন, সদস্য দেশগুলো বরাদ্দকৃত অর্থ পরিশোধ না করায় জাতিসংঘের ফান্ড প্রায় শূন্য।

জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য দেশকে উদ্দেশ্য করে গুতেরেস বলেন, এ বছর সদস্য দেশগুলোর প্রতিশ্রুত সাহায্য পূরণ না হওয়ায় জাতিসংঘের অর্থ তহবিলে চরম ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ বছর যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা অর্থ তহবিল এখন পর্যন্ত পরিশোধ করেনি। গত এক যুগে এই প্রথম সংস্থাটি চরম অর্থসঙ্কটে পড়ল। শিগগিরই তহবিলে অর্থ জমা না পড়লে এই নভেম্বরেই সংস্থাটির আংশিক কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে।

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, সদস্য দেশগুলোর কাছে আমরা বারবার অর্থ চেয়েছি। প্রতিবছর বিভিন্ন খাতে কমপক্ষে ৮৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে জাতিসংঘ। অথচ চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১২৮টি দেশ থেকে তহবিলে জমা পড়েছে মাত্র ১৭ হাজার কোটি টাকা। এ অর্থ দিয়ে অঙ্গসংস্থাগুলোর কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া মোটেই সম্ভব নয়।

জাতিসংঘ মহাসচিব ও মুখপাত্রের পাল্টা বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এ বছর জাতিসংঘকে ১৬ হাজার কোটি টাকা অর্থ দিয়েছি। আরও অর্থসাহায্য দেয়া ওয়াশিংটনের জন্য বোঝা হয়ে যায়। সংস্থাটির বিভিন্ন খাতে ব্যয় কমাতে জাতিসংঘকে অনুরোধ করছি।

প্রসঙ্গত জাতিসংঘকে আর্থিকভাবে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিবছর সংস্থাটির রাজনৈতিক, মানবিক ও সামাজিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা অর্থ জাতিসংঘের তহবিলে জমা দেয় যুক্তরাষ্ট। এছাড়াও রাশিয়া, চীন, জাপানের মতো উন্নত দেশগুলো জাতিসংঘকে অর্থ সহায়তা দিয়ে থাকে।

এদিকে শান্তিরক্ষা মিশনে জাতিসংঘকে সৈন্য সহায়তা করে থাকে বাংলাদেশ, ভারত, ইথিওপিয়া, নেপাল ও রুয়ান্ডা।

মন্তব্য