| প্রচ্ছদ

বগুড়ায় বিশ্ব দৃষ্টি দিবস উদযাপিত

জাকির আরেফিন শুভ
পঠিত হয়েছে ৫৮ বার। প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০১৯ ।

“সবার আগে দৃষ্টি” এই শ্লোগান নিয়ে বগুড়ায় বিশ্ব দৃষ্টি দিবস পালিত হয়েছে।  এবারের কর্মসূচীতে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সাথে যৌথভাবে অংশগ্রহণ করেন মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ, জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তার কার্যালয়, নার্সিং ইন্সটিটিউট, বগুড়া পৌরসভা, সিনিয়র তথ্য অফিসারের কার্যালয়, গ্রামীণ জিসি চক্ষু হাসপাতাল, গ্রাম উন্নয়ন কর্ম (গাক), বগুড়া ডায়াবেটিক সমিতি, বগুড়া খ্রিস্টিয়ান মিশন হাসপাতাল, টিএমএসএস, সূর্যের হাসি ক্লিনিক, ব্র্যাক, পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প (পিউইপি), মেরী স্টোপস ক্লিনিকসহ অন্যান্য সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ।

 
দিবসের প্রধান কর্মসূচী হিসাবে সকাল ৯টায় বগুড়া সিভিল সার্জন অফিস থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালীতে অংশগ্রহন করেন বগুড়ার সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ গওসুল আজিম চৌধুরী, পৌরসভার মেয়র এ্যাডঃ একেএম মাহবুবুর রহমান, মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ এটিএম নুরুজ্জামান, বগুড়া ডায়াবেটিক হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাঃ মোঃ জাকিরুল ইসলাম, চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাঃ শাহীন, সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডাঃ ফারজানুল ইসলাম নির্ঝরসহ সকল সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।


র‌্যালী শেষে সিভিল সার্জন অফিসের সভাকক্ষে সিভিল সার্জনের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের তত্বাবধায়ন ডাঃ এটিএম নুরুজ্জামান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডাঃ মোঃ জাকিরুল ইসলাম ও ডাঃ শাহীন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিভিল সার্জন অফিসের পরিসংখ্যানবিদ শাহারুল ইসলাম। 


এদিকে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পর বেলা ১১টায় বগুড়া ডায়াবেটিক হাসপাতালের হলরুমেও বিশ^ দৃষ্টি দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বগুড়া ডায়াবেটিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ্যাডঃ মকবুল হোসেন মুকুলের সভাপতিত্বে উক্ত আলোচনা সভায় সমিতির নির্বাহী কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। বিষয়ভিত্তিক বক্তব্য রাখেন বগুড়া স্বাস্থ্যসেবা হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাঃ জাকিরুল ইসলাম।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, “ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি” অর্থাৎ চোখের মধ্যকার রক্তক্ষরণের সমস্যাটিই এখন বেশি আশংকার কারন হয়ে দাড়িয়েছে। তারা ডায়াবেটিস রোগীদের অন্ধত্ব এড়াতে বৎসরে অন্তত একবার অবশ্যই চক্ষু পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।


বক্তারা বলেন, চক্ষু চিকিৎসায় বিভিন্ন কুসংস্কারও অনেক বড় বাধা। উদাহরণ হিসাবে ডাঃ শাহীন বলেন, ছানির সমস্যা নিয়ে যে সকল শিশু ভুমিষ্ট হয় তাদের তাৎক্ষনিকভাবে ছানি অপারেশন করা জরুরী। কারণ ছানির কারনে বাচ্চার চোখের মধ্যে সূর্য আলো না ঢুকলে চোখের রেটিনার বিকাশ হবে না। সাধারনত জন্মের ৩ মাসের মধ্যে রেটিনার বিকাশ পরিপূর্ণ হয়। অথচ গ্রামাঞ্চলের বয়োজৈষ্ঠ্যরা শিশুদের ছানি অপারেশনের কথা শুনলে আতকে উঠেন। 


বক্তারা আরও বলেন, চিকিৎসক সংকট আমাদের আরও এক বড় বাধা। প্রতি দশ লক্ষ মানুষদের মধ্যে আনুমানিক ১২শত মানুষ প্রতি বছর নতুন করে ছানির সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে। দেশের মাত্র ১২শ চক্ষু চিকিৎসক দিয়ে এই বিপুল পরিমান জনগনের চক্ষু সেবা প্রদান একটি দুরুহ কাজ। তারপর আবার শতকরা ৮০ ভাগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বসবাস করে বড় বড় শহরে অন্যদিকে শতকরা ৮০ ভাগ চক্ষু রোগী বসবাস করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে।

মন্তব্য