| প্রচ্ছদ

পুলিশের অনুরোধে পৌরসভা কিনছে

বগুড়া শহরের যেসব স্থানে সিসি ক্যামেরা বসছে

পুণ্ড্রকথা রিপোর্ট
পঠিত হয়েছে ৫০৬ বার। প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০১৯ ।

বগুড়া পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ডের মধ্যে মুল শহরে অবস্থিত পুরাতন ১২টি ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ এবং অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোকে ক্লোজ সার্কিট টেলিভিশনের (সিসিটিভি) আওতায় আনা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, মূলত পুলিশের অনুরোধেই পৌরসভার পক্ষ থেকে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর বগুড়া পৌরসভার সাধারণ সভায় এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়েছে।
ওই সভার ভিত্তিতে গত ৭ অক্টোবর নেওয়া পৌর পরিষদের রেজুলেশনে সিসিটিভি ক্যামেরা ক্রয় এবং সেগুলো স্থাপনের ব্যয়ভার পৌরসভার তহবিল থেকেই মেটানোর কথা বলা হয়েছে। এজন্য ওয়ার্ড ভিত্তিক ব্যয়ের সীমা সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকায় সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে সিসিটিভিগুলো টেন্ডারের মাধ্যমে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও ঠিক কতটি কেনা হবে- সে ব্যাপারে এখনও কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তাছাড়া সিসিটিভিগুলোর নিয়ন্ত্রণ পৌরসভা নাকি পুলিশের হাতে থাকবে সে ব্যাপারেও কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। 
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের  অনেকেই সিসিটিভির নিয়ন্ত্রণ পুলিশের হাতেই রাখার পক্ষে। অবশ্য পৌরসভার প্রকৌশল শাখার কর্মর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে ৩ লাখ টাকা হিসেবে ১২টি ওয়ার্ডের জন্য ৩৬ লাখ টাকার যে ব্যয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, তার মধ্যে যতগুলো কেনা সম্ভব ততগুলোই কেনা হবে। আর সিসিটিভির নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি পুলিশের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
১৮৭৬ সালে গঠিত বগুড়া পৌরসভার আয়তন দেড় দশক আগেও মাত্র ১৪ বর্গকিলোমিটার ছিল। ওয়ার্ডের সংখ্যা ছিল ১২টি। তবে ২০০৬ সালে পৌরসভাকে সম্প্রসারিত করতে গিয়ে শহরতলীর কয়েকটি ইউনিয়নের অনেক মহল্লাকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। এতে পৌরসভার আয়তন চারগুণ বেড়ে হয় ৭০ বর্গকিলোমিটার এবং ওয়ার্ডের সংখ্যা আরও ৭টি বেড়ে হয় ২১টি। তবে আয়তন বাড়লেও মূল শহরটি উত্তরে ১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে দক্ষিণে ১২নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
বগুড়া পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১২টি ওয়ার্ডে অর্থাৎ মূল শহরে ব্যস্ততম, গুরুত্বপূর্ণ এবং অপরাধপ্রবণ হিসেবে অর্ধশতাধিক এলাকাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে শহরে উত্তরে বিসিক শিল্পনগরী, কলেজ বটতলা, মহিলা কলেজ মোড়, কালিতলা, উপ-শহর, হাকির মোড়, গোয়ালগাড়ি, নামাজগড় মোড়, নূরানী মোড়, দত্তবাড়ি, বড়গোলা, সাতমাথা, ফতেহ্ আলী মোড়, চেলোপাড়া, এক নম্বর, দুই নম্বর ও তিন নম্বর রেল গেট, চাঁদনী বাজার (কাঁঠালতলা), চকযাদু মোড়, বাদুড়তলা মোড়, শহীদ টিটু মিলনায়তন মোড়, ইয়াকুবিয়া স্কুল মোড়, পিটিআই মোড়, খান্দার মোড়, সেউজগাড়ি মোড়, বকশিবাজার, জলেশ্বরীতলা কালিবাড়ি, ঠনঠনিয়া বাসস্ট্যান্ড, লতিফপুর কলোনী ও স্টেডিয়াম এলাকা অন্যতম।
বগুড়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ সার্জিল আহম্মেদ টিপু জানান, তার ওয়ার্ডের ক্যামেরাগুলো তিনি স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান। তিনি বলেন, ‘যেহেতু বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলার সঙ্গে সম্পৃক্ত তাই সেগুলোর নিয়ন্ত্রণও পুলিশের হাতে থাকা উচিত বলে মনে করি।’ 
বগুড়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, পৌরসভার সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খুব শিগগিরই টেন্ডারের মাধ্যমে সিসিটিভি কেনা হবে। তবে ঠিক কতটি কেনা হবে তা ওয়ার্ডগুলোর আয়তন এবং জনসংখ্যার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে দেড় মাসের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
বগুড়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র-১ সামছুদ্দিন শেখ হেলাল জানান, শহরের গুরুত্বপূর্ণ এবং অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে সিসিটিভির আনার জন্য অনেক আগেই পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে পৌর কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার পর আমরাও পুলিশ সুপারের প্রস্তাবের বিষয়ে একমত হয়েছি এবং এ ব্যাপারে পৌরসভার সাধারণ সভায় সিদ্ধান্তও চুড়ান্ত করা হয়েছে।
বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বলেন, শহরবাসীর নিরপত্তা নিশ্চিত করতেই পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এমন অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বগুড়া শহর অনেক বড়। অর্থনৈতিক কর্মকা-ের পরিধিও দিন দিন বাড়ছে। বাণিজ্যিক, ব্যবসায়িক এবং একই সঙ্গে আবাসিক এলাকাগুলোতে ছিনতাইকারী এবং চোরেরা যাতে কোন অপকর্ম করার সাহস দেখাতে না পারে সেজন্য সিসিটিভির প্রয়োজন রয়েছে। এক বছর আগে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আমি এ ব্যাপারে পৌরসভার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। সিসিটিভি স্থাপন করা গেলে শহরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অনেকাংশে হ্রাস পাবে।’ সিসিটিভিগুলো নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে পৌরসভার নাকি পুলিশের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই বিষয়ে আমরা পৌরসভার সঙ্গে কথা বলবো। যদি অধিক সংখ্যক ক্যামেরা হয় তাহলে হয়তো আমাদেরই তত্ত্বাবধানের কথা ভাবতে হবে।’
বগুড়া পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবুর রহমান জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে করা অনুরোধের কারণেই শহরজুড়ে সিসিটিভি সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘নাগরিকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা কর পুলিশ সুপার যে প্রস্তাব দিয়েছেন সেটি আমাদের কাছে যৌক্তিক মনে হয়েছে। তাই সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়েছে এবং সিসিটিভিগুলো পৌরসভার নিজস্ব অর্থ থেকেই কেনা হবে।’

মন্তব্য