| প্রচ্ছদ

রাজশাহীতে আ’লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৩১ বার। প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০১৯ ।

রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে দুইজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের ফুলতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আহত দুইজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। 

এদের মধ্যে ২৮ নম্বর ওয়ার্ড (পশ্চিম) স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক জুবায়ের হাসান জনির (২৬) ডান পায়ে গুলি লেগেছে। তিনি কাজলার ফুলতলা এলাকার আসলামের ছেলে।

অন্যজন হলেন একই এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে সুজন (২৮)। তিনি একই ওয়ার্ডের যুবলীগের সদস্য। তার বাম হাতের কনুই থেকে কজ্বি পর্যন্ত চাপাতির আঘাত রয়েছে। 

স্থানীয়রা জানান, বালুর ব্যবসা করার জন্য ২০১০ সালে ফুলতলা ২৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত সভাপতি আব্দুস সাত্তার বিভিন্নজনের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেন। সেই অর্থ দিয়ে পরবর্তীতে কেনা হয় ড্রেজার। কিন্তু পরিকল্পিত বালুর ব্যবসাটি বন্ধ হয়ে যায়। ব্যবসায় যারা অর্থ দিয়ে বিনিয়োগ করেছিলেন তারা একাধিকবার সেই অর্থ ফেরত দিতে আব্দুস সাত্তারকে বলেন। কিন্তু তিনি এতে অসম্মতি জানান। এ বছর সেই ড্রেজারটি পুনরায় চালু করে ব্যবসা চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হলে আব্দুস সাত্তার বাধা দেন। পরে মিমাংসার আহ্বান জানালে তিনি মিমাংসাও করেননি।

শুক্রবার সকালে ২৮ নম্বর পশ্চিম ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক জুবায়ের হাসান জনি (২৬), কর্মী সুজনসহ (২৮) আরও অনেকে গিয়ে ড্রেজারটি ঠিক আছে কিনা দেখতে গেলে তাদের উপর চড়াও হয় সাত্তারের ছেলে টনি এবং ডনিসহ অন্তত ২০ জন। ড্রেজারে থাকা অবস্থায় জনিকে উদ্দেশ্য করে গুলি ছোড়েন তারা। এতে জনির ডান পায়ে গুলি লাগলে তিনি ড্রেজার থেকে নিচে পড়ে যান। এসময় সুজনকে ধারালো চাপাতি দিয়ে কোপানো হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয়রা।

হাসপাতালে আহতাবস্থায় জুবায়ের হাসান জনি বলেন, ড্রেজার চালু করা নিয়ে বেশ ক’দিন থেকেই আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে স্থানীয়দের বিবাদ চলছিল। শুক্রবার সকালে তারা ড্রেজার চেক করতে গেছে শুনে সাত্তার তার ছেলে টনি ও ডনিকে পিস্তল দিয়ে পাঠায়। তার সঙ্গে আরও অন্তত ২০ জন এসে মারধর করে। এরপর তারা তিনটি গুলি ছোঁড়ে, যার একটি আমার পায়ে লাগে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগরীর রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, ফুলতলা এলাকায় ড্রেজার নিয়ে একটি বিবাদের ঘটনা শুনেছি। এ ঘটনায় দুইজন আহত হয়েছেন। তাদের রামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। একজনের পায়ে গুলি লেগেছে বলে শুনেছি। ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য