| প্রচ্ছদ

অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

বগুড়ার শেরপুরে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির পদ হারালেন আ.লীগ নেতা

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
পঠিত হয়েছে ৭৯ বার। প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০১৯ ।

বগুড়ার শেরপুরে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে দোয়ালসাড়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির পদ হারালেন এক আওয়ামীলীগ নেতা। ওই নেতার নাম মো. রাশেদুল ইসলাম রাজু। তিনি উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি। এছাড়া ওই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু একই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর মোহাম্মদের পক্ষ থেকে সভাপতির বিরুদ্ধে দেয়া অভিযোগগুলো প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় পদটি থেকে ওই আ.লীগ নেতাকে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সভাপতির শুন্যপদে নতুন সভাপতি নির্বাচন করতেও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড রাজশাহীর চেয়ারম্যানের নির্দেশে বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক এক স্মরকে এই আদেশ দেন। গেল দুইদিন আগে শিক্ষা বোর্ড থেকে পাঠানো ওই আদেশের কপিটি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ একাধিক দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধানের কাছে এসে পৌঁছায়। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অত্র বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শ্যামাপদ শিক্ষাবোর্ড থেকে পাঠানো আদেশের কপিটি হাতে পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, সরকারি ছুটির কারণে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভা ডাকা সম্ভব হয়নি। তাই দু-একদিনের মধ্যেই সভা ডেকে বোর্ডের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হবে। এক্ষেত্রে কোন সময়ক্ষেপন করা হবে না বলেও দাবি করেন তিনি।


অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রাজু স্থানীয় দোয়ালসাড়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন। কিন্তু তিনি সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। বিশেষ করে নিয়োগ বার্ণিজ্য ও একাধিক প্রকাশনীর নিকট থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে তাদের গাইড বই কিনতে বাধ্য করা উল্লেখযোগ্য। এসব বিষয়ে মতবিরোধ ও বাধা দেয়ায় কারণে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর মোহাম্মদকে অবৈধভাবে বরখাস্ত করেন। একইসঙ্গে শিক্ষক শ্যামাপদকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেন তিনি। পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষক নুর মোহাম্মদ বিষয়টি জানিয়ে জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) নিকট লিখিত অভিযোগ করেন। পরে তিনি অভিযোগগুলো সরেজমিন তদন্ত করে প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠান। আর সেই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতেই বোর্ড পরিদর্শক আ.লীগ নেতা রাশেদুল ইসলাম রাজুর সভাপতির পদ বাতিলের এই আদেশ দেয়া হয়।


অভিযোগকারী প্রধান শিক্ষক নুর মোহাম্মদ বলেন, সভাপতির নানা অনিয়ম-দুর্নীতির বিরোধীতা করায় তাকে অবৈধভাবে বরখাস্ত করা হয়। যা ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। তাই ন্যায় বিচার পেয়ে ভিশন খুশি বলে জানান তিনি। তবে সভাপতির পদ হারানো অভিযুক্ত আ.লীগ রাশেদুল ইসলাম রাজু এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য যেসব অভিযোগ এনে প্রধান শিক্ষক নুর মোহাম্মদকে বরখাস্ত করা হয়। উল্টো সেসব অভিযোগ এনে তারই সভাপতির পদ বাতিল করা হলো বলে দাবি করেন তিনি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, শিক্ষাবোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় প্রধান ও পরিচালনা কমিটিকে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে তারা কাজও শুরু করেছেন বলে এই কর্মকর্তা জানান।
 

মন্তব্য