| প্রচ্ছদ

আগামী ৭ ডিসেম্বর সম্মেলন

বগুড়ায় আ’লীগে সভাপতি ও সা. সম্পাদক পদে কারা আসছেন?

পুণ্ড্রকথা রিপোর্ট
পঠিত হয়েছে ১৫০৮ বার। প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০১৯ ।

বগুড়ায় মেয়াদ উত্তীর্ণ আওয়ামী লীগের জেলা কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ৭ ডিসেম্বর সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। গত রোববার রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করেন।
রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত ওই বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা থেকে সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পর পরই বগুড়ায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব প্রত্যাশী এবং তাদের অনুসারীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সরব হতে শুরু করেন। অনুসারীদের অনেকে তাদের পছন্দের নেতাদের ছবি দিয়ে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগে সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক পদে যোগ্য দাবি করে দোয়া ও সমর্থন কামনা করা শুরু করেন। প্রতি ঘন্টায় এমন অনুসারীদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
বগুড়ায় আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৪ সালের ১০ ডিসেম্বর। ওই সম্মেলন শেষে উপস্থিত কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ১৯৯৪ সাল থেকে সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসা প্রয়াত মমতাজ উদ্দিনকে সভাপতি পদে পুনর্নির্বাচিত ঘোষণা করেন। একইভাবে সাধারণ সম্পাদক পদে মজিবর রহমান মজনুকেও দ্বিতীয় দফায় ওই পদে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। এছাড়া ওই সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী তিন নেতা রাগেবুল আহসান রিপু, টি জামান নিকেতা ও মঞ্জুরুল আলম মোহনকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। ওই সম্মেলনের প্রায় ২২ মাস পর ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর ৭১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
দলীয় গঠনতন্ত্রে তিন বছর পর পর সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের কথা উল্লেখ থাকলেও বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হচ্ছে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর পর। বগুড়ায় এবার আওয়ামী লীগের সম্মেলন নানা কারণে নেতা-কর্মীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসব কারণের মধ্যে অন্যতম হলো প্রায় পঁচিশ বছর পর বগুড়ায় দলটির জন্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কারণ সেই ১৯৯৪ সাল থেকে সভাপতি পদে আসীন মমতাজ উদ্দিন চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রয়াত হয়েছেন। তার মৃত্যুতে ওই পদে নতুন মুখের কোন বিকল্প নেই। আর সাধারণ সম্পাদক পদে প্রায় ১৮ বছর দায়িত্ব পালন করে আসা মজিবর রহমান মজনুকে পদোন্নতি দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সেক্ষেত্রে সভাপতির মত সাধারণ সম্পাদক পদেও নতুন মুখ দেখা যেতে পারে। এবার আওয়ামী লীগের পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে আরও যে বিষয়টি লক্ষ্যণীয় সেটি হলো -এতদিন প্রয়াত মমতাজ উদ্দিনের অনুসারীরই জেলা কমিটির সিংহভাগ পদে স্থান পেতেন কিন্তুতার অবর্তমানে কি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে তা নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে বেশ কৌতুহল রয়েছে।
বগুড়ায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দল পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বেশ কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তারা হলেন- বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. মকবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনু, দুই সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মন্টু ও অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন মুকুল এবং তিন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে রাগেবুল আহসান রিপু, টি. জামান নিকেতা ও মঞ্জুরুল আলম মোহন। এর বাইরে  জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুর রহমান দুলু এবং প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক সুলতান মাহমুদ খান রনির অনুসারিরাও ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে তাদের জন্য দোয়া কামনা করছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে দলের ভেতরে দুই ধরনর আলোচনা রয়েছে। একটি অংশ বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত সভাপতিকে ভারমুক্ত করা এবং সাধারণ সম্পাদককে স্বপদে বহাল রাখার পক্ষে। অন্য একটি অংশ দলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনুকে সভাপতির দায়িত্ব দিয়ে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নতুন কাউকে খুঁজে নেওয়ার পক্ষপাতি। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধিকাংশই মজিবর রহমান মজনুকে সভাপতি পদে দেখতে আগ্রহী।
পুনর্গঠন প্রসঙ্গে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু ইতিপূর্বে বলেন, ‘আমরা দলে কোন দুর্বৃত্তায়ন দেখতে চাই না। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা যে দৃঢ়তা দেখিয়ে যাচ্ছেন তাতে আমরা আশাবাদী।’ দলের জেলা কমিটির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনু বলেন, ‘দীর্ঘদিন সাধারণ সম্পাদকের পালন করেছি। এখন যদি নেতা-কর্মীরা আমাকে সভাপতির দায়িত্ব দিতে চান তাহলে আমি তা নিতে প্রস্তুত আছি এবং সবার মতামতের ভিত্তিতে দলকে আরও সুসংগঠিত করার চেষ্টা করে যাব।’
 

মন্তব্য