| প্রচ্ছদ

বগুড়ায় বিদেশগমনেচ্ছু ৩০০ নারীকে প্রশিক্ষণ দিবে লাইট হাউস

আকতারুজ্জামান সোহাগ
পঠিত হয়েছে ১২৮ বার। প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০১৯ ।

চাকরি নিয়ে বিদেশগমনেচ্ছু ৩০০ নারীকে প্রশিক্ষণ দিবে বেসরকারি সংস্থা লাইট হাউস। বুধবার বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশে নারীর নিরাপদঅভিবাসন’ শীর্ষক এক কর্মশালায় এ তথ্য জানান সংস্থাটির নির্বাহী প্রধান হারুন অর রশিদ। সকাল ১১টায় কর্মশালা উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি বগুড়ার জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ।
নিরাপদ অভিবাসনের লক্ষ্যে অধিকার, সুরক্ষা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় ওই কর্মশালায় সরকারি এবং বেসরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা, নারী প্রতিনিধি, গণমাধ্যম কর্মী এবং বিদেশে চাকরির প্রলোভনে প্রতারণার শিকার দু’জন নারী অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালার শুরুতে লাইট হাউসের পক্ষ থেকে নারীর নিরাপদ অভিবাসনের ক্ষেত্রে তাদের অধিকার, সুরক্ষা এবং সক্ষমতার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করেন  সংস্থাটির প্রধান।  তিনি জানান, অভিবাসন প্রত্যাশী অর্থাৎ কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশ যেতে ইচ্ছুক নারীদের বগুড়ায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এসব নারীদের মধ্য থেকে ৩০০জনকে তাদের সুরক্ষার কৌশল সম্পর্কে ধারণা দিতে প্রশিক্ষণ দিবে লাইট হাউস। খুব শিগগিরই বগুড়ায় তাদের প্রশিক্ষণ শুরু হবে।
লাইট হাউস প্রধান হারুন অর রশিদ বলেন, ‘আমাদের প্রশিক্ষণের আওতায় বিদেশগামী নারীদের বিমান বন্দর প্রবেশের পর থেকে কাক্সিক্ষত দেশে পৌঁছার পর কোথায় কি ধরনের সেবা পাওয়া যায়- সেসব তথ্য জানার পদ্ধতি শেখানো হবে। এছাড়া স্মার্ট ফোন ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, হোয়াটস্ অ্যাপ ও ইমু ব্যবহার করে পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের কৌশলও শেখানো হবে। যার মাধ্যমে তিনি নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পারবেন।’
পরে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, ন্যুনতম শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ ছাড়া নারীদের বিদেশে যাওয়া উচিত নয়। অভিবাসনকে বাংলাদেশের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে উল্লেখ করে বগুড়ার জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ বলেন, ২০১৭ সালে এ খাত থেকে সাড়ে ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হয়েছে। আগামীতে এ খাতের আয় আরও বাড়বে। তিনি বিদেশ গমনেচ্ছু নারীদেরকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং যে দেশে অভিবাসী হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন সেই দেশের ভাষা শেখার তাগিদ দেন। তিনি বলেন, ‘নারীদের শুধু গৃহকর্মী হিসেবে আমরা দেখতে চাই না। বরং তাদের দক্ষ কর্মী হিসেবে আমরা দেখতে চাই। এজন্য সরকারিভাবে টিটিসিসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে।’
কর্মশালায় পারুল আকতার নামে বিদেশ ফেরত এক নারী তার প্রবাস জীবনের তিক্ত কিছু অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারি পরিচালক আতিকুর রহমান, লাইট হাউজের প্রকল্প ব্যস্থাপক ওয়াহিদা ইয়াসমিন, প্রকল্প সহযোগী রকিবুল হক খান, টিম লিডার সালাউদ্দিন ও  প্রকল্প সমন্বয়কারী সামছুজ্জোহা। 

মন্তব্য