| প্রচ্ছদ

শত শত টন পেঁয়াজ আসছে সীমান্ত দিয়ে

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৪০ বার। প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০১৯ ।

পেঁয়াজের বাজার স্বাভাবিক করতে ফের আনা হচ্ছে শত শত টন পেঁয়াজ। দু'দিন বন্ধ থাকার পর মিয়ানমার থেকে বুধবার আট ব্যবসায়ী তিন ট্রলারভর্তি ৯ হাজার বস্তা পেঁয়াজ এনেছেন। যেগুলোর ওজন প্রায় ৩৭০ টন। আগামী এক সপ্তাহে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে আরও প্রায় এক হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির কথা রয়েছে। খবর সমকাল অনলাইন

এদিকে মাত্র দু'দিন আমদানি বন্ধের সুযোগ নিয়ে যারা পেঁয়াজের বাজার অস্থির করেছে তাদের ব্যাপারে ফের সক্রিয় হয়েছেন গোয়েন্দারা। জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত চট্টগ্রামের পাইকারি মোকাম খাতুনগঞ্জে গিয়ে কারসাজির প্রমাণও পেয়েছেন। ৪২ টাকায় কেনা পেঁয়াজ ৭০ টাকায় বিক্রি করায় দুই ব্যবসায়ীকে করা হয়েছে জরিমানাও।

এ অভিযান আরও জোরদার করতে নির্দেশ এসেছে মন্ত্রণালয় থেকে। তাই পেঁয়াজের বাজার অস্থির করতে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের তৎপরতা আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জানতে চাইলে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম বলেন, 'খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের দাম নিয়ে যারা ফের কারসাজি করার চেষ্টা করছে, তাদের আমরা চিহ্নিত করছি নতুন করে। এরই মধ্যে অভিযান চালিয়ে দুটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছি। ৪২ টাকায় কেনা মিয়ানমারের পেঁয়াজ মেসার্স আজমির ভাণ্ডার ৭০ টাকা ও শাহ আমানত ট্রেডার্সের ৬৫ টাকা করে বিক্রি করার প্রমাণ হাতেনাতে পেয়েছি। কয়েকজনকে আমরা সতর্ক করে এসেছি। শিগগির আরও সাঁড়াশি অভিযান চালাব পাইকারি ও খুচরা উভয় মোকামে।'

জানা গেছে, দু'দিন বন্ধ থাকার পর বুধবার আবার পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে। দুটি ট্রলারে করে টেকনাফের আট ব্যবসায়ী সাড়ে ৯ হাজার বস্তায় ৩৭০ টন পেঁয়াজ এনেছেন। এর আগে চলতি মাসের প্রথম ১৩ দিনে মিয়ানমার থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরে আসে আট হাজার ৪৯৭ দশমিক ১১০ টন পেঁয়াজ। সর্বশেষ ১৩ অক্টোবর ৫৩ হাজার বস্তায় দুই হাজার ৮০ টন পেঁয়াজ আসে মিয়ানমার থেকে।

জানতে চাইলে টেকনাফ সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এহতেশামুল হক বাহাদুর বলেন, 'দু'দিন বন্ধ থাকার পর মিয়ানমার থেকে তিনটি পেঁয়াজের ট্রলার এসেছে। তবে এর আগে মিয়ানমার থেকে আমদানি করা তিন হাজারের বেশি পেঁয়াজের বস্তা খালাসে দেরি হওয়ায় নষ্ট হয়ে গেছে। এ জন্য ব্যবসায়ীদের ব্যাপক লোকসান গুনতে হয়েছে। অনেকে এ কারণে পেঁয়াজ আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। এখনও স্থলবন্দরে অবকাঠামোর অনেক অভাব রয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে একসময় ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করে দিতে পারেন।'

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে টেকনাফ স্থলবন্দরের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, 'মিয়ানমার থেকে  পেঁয়াজের তিনটি ট্রলার ঘাটে পৌঁছেছে। তার মধ্যে দুই ব্যবসায়ীর কাগজপত্র হাতে পেয়েছি। ফলে তাদের পেঁয়াজ খালাসের প্রস্তুতি চলছে। বাকি ব্যবসায়ীদের কাগজপত্র হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খালাস শুরু হবে। সরকারের নির্দেশ অনুসারে পেঁয়াজভর্তি ট্রলার সবার আগে খালাস করে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। স্থলবন্দরে অব্যবস্থাপনা ও গাফিলতি নেই। ব্যবসায়ীরা নিম্নমানের পেঁয়াজ এনে সেটি বন্দরের কারণে নষ্ট হচ্ছে বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে।'

অভিন্ন মন্তব্য করে টেকনাফ স্থলবন্দরের শুল্ক কর্মকর্তা আবছার উদ্দিন বলেন, 'পেঁয়াজ আসার সঙ্গে সঙ্গে তা খালাসের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি আমরা। এখানে শুল্ক কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি নেই।'

শুল্ক কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করলেও পেঁয়াজ খালাসে স্থলবন্দরে অব্যবস্থাপনা আছে বলে দাবি করে আসছেন ব্যবসায়ীরা। এ জন্য তিন হাজারেরও বেশি পেঁয়াজের বস্তা এরই মধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। টেকনাফ স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সোহেল বলেন, 'বন্দরে পেঁয়াজের ট্রলার পৌঁছার পর অব্যবস্থাপনার কারণে সেটি খালাস হতে চার-পাঁচ দিন সময় লেগে যাচ্ছে। এতে করে পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মিয়ানমারের টংগু এলাকা থেকে পেঁয়াজ লোড হয় ট্রলারে। সেই ট্রলার টেকনাফে পৌঁছাতে ১২ ঘণ্টা সময় লাগে। স্থলবন্দরে আসার পর তাই দ্রুত খালাস করতে হয় পেঁয়াজ।'

নুর আলম নামে আরেক পেঁয়াজ ব্যবসায়ী জানান, অন্যজনের ট্রলারে করে তার কিছু পেঁয়াজ এসেছিল। খালাসে দেরি হওয়ায় পেঁয়াজগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। এ লোকসান পুষিয়ে আনতে অনেক সময় লাগবে।

তবে ব্যবসায়ীদের এ দাবি অসত্য বলছে প্রশাসনও। চট্টগ্রামের পাইকারি মোকাম খাতুনগঞ্জে গিয়ে তারা কম দামে কেনা পেঁয়াজ বেশি দামে বিক্রি হওয়ার প্রমাণ পেয়েছে। কেউ কেউ নিম্নমানের পেঁয়াজ বেশি দামে বিক্রি করছেন। মাত্র দু'দিন আমদানি বন্ধ থাকার সুযোগে ফের পেঁয়াজের দামে সেঞ্চুরি হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে মনে করছে প্রশাসন। বিষয়টি চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে গিয়ে কঠিনভাবে বলে এসেছেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। কারা কারসাজি করছেন সে ব্যাপারেও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তারা। 

মন্তব্য