| প্রচ্ছদ

স্বামীকে মুক্তিযোদ্ধার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদানের দাবিতে বগুড়ায় স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

অসীম কুমার কৌশিক
পঠিত হয়েছে ৬৭ বার। প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০১৯ ।

স্বামীকে মুক্তিযোদ্ধার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদানের দাবিতে বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার স্ত্রী ফিরোজা বেগম। তিনি সদরের লাহিরিপাড়া ইউনিয়নের মধুমাঝিরড়া গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের স্ত্রী। পেশায় তিনি একজন গৃহিণী। 

শনিবার বেলা ১২ টায় ওই সংবাদ সম্মেলনে ফিরোজা বলেন, তার স্বামী পাকিস্তানী সেনা বাহিনীর মেডিকেল কোরের (নং-৬৮০৪৫৩০) পদে কর্মরত থাকা অবস্থায় মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। সেসময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ ই মার্চের ভাষণ শুনে তার স্বামীসহ ৭ জন সৈনিক তৎকালীন কর্মস্থল পাকিস্তানের মালির ক্যান্টনমেন্ট থেকে পালিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। এরপর বিএসএফ’র সহযোগিতায় মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীর সাথে সাক্ষাত করলে তাদের তৎকালীন ১ম ইস্ট বেঙ্গলের কমান্ডিং অফিসার মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদের তত্তাবধানে দেওয়া হয়। মেজর হাফিজ উদ্দিন তার স্বামীকে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার দায়িত্ব প্রদান করেন।

সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ১ নং সেক্টরে মেজর হাফিজের নেতৃত্বে তার স্বামী যশোর, ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চলে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে অঙ্গশ নেন। মেজর হাফিজ তাকে একটি প্রত্য্যনপত্রও প্রদান করেন। এছাড়াও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের প্রকাশিত ‘প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা’ খণ্ড-৭ এ ২৪৬১ নাম্বারে তার স্বামীর নাম লিপিবদ্ধ রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ফিরোজা বেগম বলেন, ব্রেন স্ট্রোক করার পর দীর্ঘদীন তার স্বামী শয্যাশায়ী হন। এরপর ২০১৫ সালে তিনি মারা যান। এরপর স্বামীর নাম মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করার জন্য প্রতিটি কাগজপত্র সংগ্রহ করে ফিরোজা বেগম মন্ত্রণালয়সহ জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে জমা দেন। যেখানে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জেলা, উপজেলা, ও ইউনিয়নের কমান্ডার ও আহবায়কগণ সুপারিশ করেন। তার দাবি এতকিছু করার পরও তিনি ব্যার্থ হন। এখন দুই ছেলেমেয়ে নিয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলন শেষে ফিরোজা বেগম তার স্বামীর নাম যথাযথ মর্যাদায় গেজেটভুক্ত করার আকুতি জানান প্রধানমন্ত্রীর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি। 

মন্তব্য