| প্রচ্ছদ

যুব ছায়া সংসদ অধিবেশনের মতো কার্যক্রমে তরুণদের যুক্ত করতে হবে-স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
পঠিত হয়েছে ৪৫ বার। প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০১৯ ।

যুব ছায়া সংসদের যে ধারণা, এই চর্চা মুক্ত চিন্তার বিকাশ ঘটায়। মুক্ত চিন্তা একটি জাতিকে এগিয়ে নিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে যারা উদীয়মান শিক্ষার্থী, আগামী দিনে যারা বিভিন্ন পেশায় দায়িত্ব নেবে তোমাদের এই ধরণের চর্চার সঙ্গে যুক্ত থাকা জরুরি। পাশাপাশি তরুণদের যে বাক স্বাধীনতা আছে তা কাজে লাগাতে হবে। আমরা তরুণদের বক্তব্যের স্বচ্ছতা, যুক্তি-তর্কের উপস্থাপনকে গুরুত্ব দিতে চাই। তরুণরা যদি এই ছায়া সংসদের মতো এই ধরণের চর্চা অব্যাহত রাখে তাহলে নিজেদের উন্নত করার পাশাপাশি পরমতসহিষ্ণু হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন। আমার মতের সঙ্গে অন্যের মতের মিল হচ্ছে না বলে গ্রহণ করবো না, অন্যের মত সঠিক হলেও মানবো না এ ধরণের মনোভাব ত্যাগ করতে হবে।

শনিবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নবাব নওয়াব আলী সিনেট ভবনে আমার অধিকার ফাউন্ডেশন, হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড ও ইয়ূথ এগেইনষ্ট হাঙ্গারসহ দেশের চল্লিশটি স্বেচ্ছাব্রতী সংগঠনের আয়োজনে বাংলাদেশ যুব ছায়া সংসদের ৮ম অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।খাদ্য অপচয় রোধ, পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করুণ, যুব ক্ষমতায়নে অগ্রাধিকার দিন” এই প্রতিপাদ্য নিয়ে নবাব নওয়াব আলী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে এই অধিবেশন। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সংসদীয় নির্বাচনী এলাকার আদলে ৩০০ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনের ৫০ জনসহ মোট ৩৫০ জন শিক্ষার্থী এই বাংলাদেশ যুব ছায়া সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন। ছায়া সংসদের বক্তাদের বক্তব্য শুনে তরুণদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন স্পিকার।

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আমার যখনই আসার সুযোগ পাই, আমি মনে করি এটি একটি বিরল সুযোগ। তরুণদের চিন্তা-বক্তব্য শোনার মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ আরও একধাপ এগিয়ে যাওয়ার ও সামনের দিকে পথ রচনার যে রেখা আমরা দেখতে পাই, সেটি আমাদের জন্য আশাব্যঞ্জক, উৎসাহদায়ক বলে মনে করি।

নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টি নিয়ে স্পিকার বলেন, একটা শিশুর পুষ্টি তাঁর মায়ের গর্ভ থেকে নিশ্চিত করতে হয়। কাজেই একজন গর্ভবতী মাকে ঠিকমতো যত্ন নিতে হবে। মাতৃগর্ভ থেকে দুই বছর পর্যন্ত শিশুর মস্তিষ্কের যে বিকাশ সেখানে পুষ্টি নিয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। মায়ের দুগ্ধ পান বিষয়ে প্রচার করতে হবে,সচেতন করতে হবে। শিশুদের মায়ের দুধ খাওয়ানোর জন্য মায়েদের বিশেষ একটি দিবস আছে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরকার মায়েদের জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতার ব্যবস্থা করেছে। এগুলো অত্যন্ত সহায়ক কার্যক্রম। এছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের কৃষিতে জোর দিতে হবে। সরকার এ বিষয়ে জোর দিচ্ছেন। ১০ টাকার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আমাদের দেশে একটা অভিনব পদক্ষেপ। সরকার সব বিষয়ে পর্যায়ক্রমে উন্নয়ন করছে। আমরা এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ।

অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরমা দত্ত এমপি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আনোয়ার ফারুক, হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ডের কান্ট্রি ডিরেক্টর আতাউর রহমান মিটন। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপ (এপিপিজি’স) সেক্রেটারি জেনারেল ও আমার অধিকার ফাউন্ডেশনের
চেয়ারপার্সন শিশির শীল।

আরমা দত্ত এমপি বলেন, তরুণরা আগামী দিনের কর্ণধার। দেশ নিয়ে তাদের চিন্তাশক্তি দেখে মুগ্ধ হয়েছি। তরুণদের অনেক দাবির সঙ্গে আমি একমত হয়েছি। বঙ্গবন্ধু এক রক্তাক্ত বাংলাদেশকে আজ যে পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছেন সেজন্য আমরা গর্বিত। বিশ্বাস করি, এই তরুণরা একদিন দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, যুব ছায়া সংসদ অধিবেশন একটি ব্যতিক্রমধর্মী পদক্ষেপ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাই যারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই আয়োজনে যুক্ত হয়েছে। ছায়া সংসদ অধিবেশনে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করল তারা শুধু শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত নয়, সহশিক্ষা কার্যক্রমেও যুক্ত আছে। বিশ্বাস করি তোমরা আজ যেমন এখানে অংশ নিলে একদিন মূল সংসদের কার্যক্রমে যুক্ত হবে।

বাংলাদেশ যুব ছায়া সংসদ কর্তৃক আয়োজিত ৮ম অধিবেশনে ঢাকা -১৩ মাননীয় বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য সাদিয়া বাতেন যুথি কর্তৃক আনীত প্রস্তাব æখাদ্য অপচয় রোধ, পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করুণ, যুব ক্ষমতায়নে অগ্রাধিকার দিন” উক্ত প্রস্তাবের ওপর বাংলাদেশ যুব ছায়া সংসদ ৮ম অধিবেশনের সাধারণ আলোচনায় ২৫ জন সরকারী ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য আলোচনায় অংশ নেন। আলোচনায় উত্থাপিত প্রস্তাবটি সর্ব সম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। ‘দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে যুব নেতৃত্ব বিকাশ, তাদের মধ্যে গণতান্ত্রিক চর্চা বৃদ্ধি, তারুণ্যের অগ্রযাত্রায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলায় প্রণোদনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে মহান জাতীয় সংসদের আদলে ২০১৪ সাল থেকে যুব ছায়া সংসদ এর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং এই পর্যন্ত ৭টি অধিবেশন সম্পন্ন হয়েছে। আর ১৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত অধিবেশনটি ‘বাংলাদেশ যুব ছায়া সংসদ’র ৮ম অধিবেশন।

উল্লেখ্য, খাদ্য মানুষের সর্বজনীন মৌলিক অধিকার এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো খাদ্যকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত দেয়া হয়নি। যদিও খাদ্য ঘাটতির দেশ থেকে আমরা এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ কিন্তু তারপরও পুষ্টিসম্মত নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির নিশ্চয়তার আইনি স্বীকৃতি থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন একজন মানুষের ২ হাজার ১২২ কিলো. ক্যালরি পরিমাণ সুষম খাদ্যের নিশ্চয়তা থাকা প্রয়োজন। গ্লোবাল নিউট্রেশন রিপোর্ট অনুযায়ী দেশের ৪৪ শতাংশ নারী রক্ত স্বল্পতায় ভোগেন। এছাড়াও খাদ্য অপচয় আমাদের দেশের জন্য একটি বড় হুমকি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এর তথ্যমতে প্রতিবছর ৩৭ লাখ টন খাদ্যশস্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।


এছাড়াও সরকার যুব ক্ষমতায়নে যুব নীতি ২০১৭ এবং যুব ইশতেহার ২০১৮ প্রণয়ন করলেও সেগুলোর ভূমিকাও অতটা চোখে পড়ার মতো না। তাই বাংলাদেশ যুব ছায়া সংসদ এসব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোকে কেন্দ্র করে æখাদ্য অপচয় রোধ, পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করুণ, যুব ক্ষমতায়নে অগ্রাধিকার দিন” এই প্রতিপাদ্য নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সংসদীয় নির্বাচনী এলাকার আদলে ৩০০ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনের ৫০ জন মোট ৩৫০ জন শিক্ষার্থী এই বাংলাদেশ যুব ছায়া সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন।
 

মন্তব্য