| প্রচ্ছদ

বগুড়ায় পুলিশ কনস্টেবলের বিচক্ষণতায় হারানো ৫০ হাজার টাকা ফিরে পেলেন এক নারী

পুণ্ড্রকথা রিপোর্ট
পঠিত হয়েছে ১২৪ বার। প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০১৯ ।

পথে হারিয়ে ফেলা ৫০ হাজার টাকা ট্রাফিক পুলিশের এক কনস্টেবলের বিচক্ষণতায় ফিরে পেলেন মালেকা বেগম নামে এক নারী। ঘটনাটি ঘটেছে রোববার দুপুরে বগুড়া শহরের ফতেহ্ আলী মোড়ে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে শত শত মানুষ অজিত কুমার মÐল নামে পুলিশের সেই সদস্যকে ধন্যবাদ জানাতে থাকেন। দুপুর ২টায় দেওয়া ফেসবুকের ওই পোস্টটিতে তিন ঘন্টায় ১ হাজার লাইক পড়েছে এবং ৫৮জন শেয়ার করেছেন।
বগুড়া ট্রাফিক পুলিশের কনস্টেবল অজিত কুমার মণ্ডল জানান, রোববার দুপুরে তিনি শহরের ফতেহ্ আলী মোড়ের দক্ষিণ কোণে দায়িত্ব পালন করছিলেন। আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে তিনি লক্ষ্য করেন উত্তর দিকে ফতেহ্ আলী বাজারের গেটের বাম পাশে একটি ব্যাগ পড়ে আছে। হঠাৎ করে এক রিকশা চালক পড়ে থাকা সেই ব্যাগ তুলে তার ভেতর থেকে বান্ডেল করা কিছু একটা বের করে সেটি তার কোমরে গুঁজে ফেলছে। এর পর তিনি দ্রুত ওই রিকশা চালকের কাছে যান পথে পড়ে থাকা ব্যাগ থেকে কি বের করে কোমরে গুঁজেছে সে কথা জানতে চান। কিন্তু রিকশা চালক কোন কিছু তার কোমরে গুঁজে রাখার কথা অস্বীকার করে। 
তখন কনস্টেবল অজিত কুমার মণ্ডল মোফাজ্জল হোসেন নামে ওই রিকশা চালকের কোমরে হাত দিয়ে তার ভেতরে বান্ডিল করা টাকা দেখতে পান। পরে তিনি পথে পড়ে থাকা ওই ব্যাগ এবং টাকাসহ রিকশা চালক মোফাজ্জ্বলকে নিয়ে নওয়াববাড়ি সড়কে সদর ট্রাফিক ফাঁড়িতে যান। 
ট্রাফিক কনস্টেবল অজিত কুমার বলেন, ‘ফাঁড়িতে এসে বিষয়টি ইন্সপেক্টর আনোয়ার হোসেন এবং রেজা খানকে জানাই। এরপর গুণে দেখা যায় ওই বান্ডিলে ৫০ হাজার টাকা রয়েছে। সঙ্গে থাকা সেই ব্যাগের ভেতরে এক নারীর জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে আমাদের সবার ধারণা হয় যে টাকাগুলোর মালিক তিনিই হবেন।’
পরবর্তীতে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর রেজা খান পুরো ঘটনাটি বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞাকে জানান। এরই মধ্যে খোয়া যাওয়ার টাকার সন্ধানে মালেকা বেগম ট্রাফিক পুলিশ ফাঁড়িতে যান। বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার চরপাড়ার বাসিন্দা মালেকা বেগম ওই টাকাগুলো নিজের দাবি করে জানান,তার এক ছেলে বিদেশে থাকে। সেই টাকাগুলো পাঠিয়েছে। রোববার দুপুরে ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকাগুলো তুলে তারপর ব্যাগে ভওে তিনি বাড়ি ফিরে যাচ্ছিলেন। তবে কিছদূর যাওয়ার পর তিনি বুঝতে পারেন টাকাসহ ব্যাগটি তিনি হারিয়ে ফেলেছেন। পরে আবার পথে খুঁজতে শুরু করেন এবং ফতেহ্ আলী মোড়ে আসার পর লোকজন আমাকে ফাঁড়িতে যেতে বলে।’
ইন্সপেক্টর রেজা খান জানান, পড়ে থাকা ব্যাগের ভেতরর জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে মালেকা বেগমের চেহারাসহ সব বর্ণনা মিলে পাওয়ায় তাকে ও কনস্টেবল অজিত কুমারকে দুপুর ২টার দিকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে টাকাগুলো ফেরত পাওয়ার আনন্দে মালেকা বেগম পুলিশ সুপার আলী আশরাফের সামনেই কেঁদে ফেলেন এবং কনস্টেবল অজিত কুমারসহ পুলিশ সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। মালেকা বেগম বলেন, ‘টাকাগুলো হারিয়ে আমি পাগলের মত হয়েগিয়েছিলাম। পুলিশ দেখেছে বলেই আমি টাকাগুলো ফিরে পেয়েছি। অন্য কেউ পেলে টাকাগুলো আর পেতাম না।’ ইন্সপেক্টর রেজা খান কনস্টেবল অজিতের প্রশংসা করে বলেন, ‘অজিত অত্যন্ত সৎ এবং দক্ষ একজন পুলিশ সদস্য। এর আগে রাজশাহীতেও সে আমার অধীনে কর্মরত ছিল। সেখানেও সে সততার পরিচয় দিয়েছে।’
বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘কনস্টেবল অজিত কুমার মণ্ডল মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন। তার কাছ থেকে শুধু পুলিশেরই নয় আমাদের সবারই শেখার আছে।’

 

মন্তব্য