| প্রচ্ছদ

প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালেন নুসরাতের মা

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ১৩ বার। প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০১৯ ।

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার। রায় দ্রুত কার্যকর করার আহ্বানও জানান তিনি। 

বৃহস্পতিবার রায় পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় নুসরাতের মা বলেন, ‘প্রথমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই। আমি আলহামদুলিল্লাহ অনেক খুশি।’ খবর ইউএনবির 

মিডিয়া ও প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি চাই, অতি দ্রুত যেন রায়টা কার্যকর হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আগেও আমাদের পাশে ছিল এখনও আমাদের পাশে থাকবেন। তিনি আমাদের বলেছেন যে, নুসরাত হত্যার কেউ ছাড় পাবে না, আমি তার জন্য মন থেকে অনেক দোয়া করি। এছাড়া প্রশাসন, আইনের লোকের পাশাপাশি মিডিয়ার যতজন আমার মেয়ের জন্য ন্যায়বিচার চেয়েছে, আমি তাদের জন্য দোয়া করি, ধন্যবাদ জানাই।’

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার কিছু পর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ ১৬ আসমির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। এই টাকা আদায় করে নুসরাতের পরিবারকে দেওয়ার আদেশ দেন বিচারক।

রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ফেনীর আদালত ও তার আশপাশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আইনজীবী ও সাংবাদিক ছাড়া আদালত ভবনে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। রায় ঘোষণার সময় আসামিদের আত্মীয় স্বজন ও উৎসুক শত শত মানুষকে আদালত চত্বরে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে।

গত ২৭ মার্চ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার হাতে যৌন হয়রানির শিকার হন নুসরাত। এ ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। মামলা তুলে নিতে আসামিপক্ষ নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করে। নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন নুসরাত।

এর জেরে ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম প্রথম পত্রের পরীক্ষা দিতে গেলে ডেকে নিয়ে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ৮০ শতাংশ পোড়া শরীর নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে পাঁচ দিন লড়ার পর মারা যান নুসরাত। এ ঘটনায় সোনাগাজী থানায় হত্যা মামলা করে নুসরাতের পরিবার।

মন্তব্য