| প্রচ্ছদ

থানার সামনে আত্মহত্যা: পুলিশের দোষ পেয়েছে মানবাধিকার কমিশন

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৩৮ বার। প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০১৯ ।

রাজশাহীতে থানার পাশেই নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে কলেজছাত্রী লিজা রহমানের আত্মহননের ঘটনা তদন্তের কাজ শেষ করেছে মানবাধিকার কমিশনের দল।

শিগগিরই তারা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে বলে জানিয়েছে।

এদিকে, তদন্তে পুলিশ ও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের দেওয়া তথ্যে কিছুটা গরমিল খুঁজে পেয়েছে মানবাধিকার কমিশন।

তদন্তে এসে শুক্রবার সকালে রাজশাহীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তদন্ত দলের প্রধান বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক (অভিযোগ ও তদন্ত) আল মাহমুদ ফয়জুল কবির এসব জানান।

তদন্ত কমিটি পুলিশ, ভিকটিম সার্পোট সেন্টার, লিজার পরিবার, স্বামী শাখাওয়াতের পরিবার ও দুজনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘিরে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। আল মাহমুদ ফয়জুল কবির জানান, শাহমখদুম থানা পুলিশ ও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের তদন্ত কমিশনকে দেওয়া তথ্য, ভিডিও ফুটেজ, এজাহার ও সাধারণ ডায়েরির তথ্য এবং সাক্ষীর দেওয়া তথ্যে গরমিল রয়েছে।

তিনি জানান, সাধারণ ডায়েরিতে লিজার শ্বশুর-শাশুড়ির নাম থাকলেও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার তথ্য দিয়েছিল লিজা তার শ্বশুর-শাশুড়ির নাম জানতেই বাইরে গিয়েছিল এবং বাইরে গিয়ে শরীরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে আরো বলা হয়,

লিজা তার মৃত্যুর আগে তার ভাইকে দেওয়া ভিডিও বার্তায় বলে গেছে , থানায় তার মামলা না নেওয়া ও তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করার কারণেই তিনি আত্মহত্যার এ পথ বেছে নেন।

ফয়জুল কবির বলেন, পুরো তদন্ত প্রতিবেদন আকারে প্রকাশ করা হবে, তখন বিস্তারিত বলা হবে। এ ছাড়া এখানে পুলিশের ভূমিকা আরো সহনশীল হওয়ার কথাও এ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হবে বলে জানান তিনি।

২৮ সেপ্টেম্বর শাহমখদুম থানায় পারিবারিক কলহ নিয়ে অভিযোগ করতে গিয়ে থানা থেকে বেরিয়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন কলেজছাত্রী লিজা রহমান (২০)।

ওই দিন প্রথমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে ওই রাতেই তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২ অক্টোবর লিজার মৃত্যু হয়।

ওই দিনই লিজার বাবা আলম মিয়া বাদী হয়ে মহানগরীর শাহ মখদুম থানায় আত্মহত্যা প্ররোচনায় একটি মামলা দায়ের করেন।

পরদিনই এ মামলায় লিজার স্বামী সাখাওয়াত হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মন্তব্য