| প্রচ্ছদ

নুসরাত হত্যায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তদের যত চাঞ্চল্যকর তথ্য

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৭৪ বার। প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০১৯ ।

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে হাত-পা বেঁধে আগুনে পুড়িয়ে মারা হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডাদেশ এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। রাফির পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি দেশবাসীর প্রত্যাশিত রায় ছিল এটি। আপিল ও দোষীদের সাজা কার্যকরের প্রশ্ন এখন সবার সামনে চলে এসেছে। বেশ কয়েকজন আসামি নিতান্তই গরিব। এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড ও আপিল খরচ বহনে বিপাকে পড়তে হবে তাদের।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে দণ্ডপ্রাপ্তদের যত চাঞ্চল্যকর তথ্য।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হচ্ছেন- সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ ও মামলার প্রধান আসামি এসএম সিরাজ-উদ-দৌলা, মো. নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, সাইফুর রহমান ওরফে জোবায়ের আহম্মদ, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আবছার উদ্দিন, আবদুর রহিম শরীফ, মো. শামীম, এমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার উদ্দিন রানা, মহিউদ্দিন শাকিল ওরফে শাকিল মাহমুদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মো. রুহুল আমিন, উম্মে সুলতানা পপি ও কামরুন নাহার মণি।

সিরাজ-উদ-দৌলাহ উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের চরকৃষ্ণজয় গ্রামের করিম উল্যাহ সওদাগর বাড়ির মৃত কলিম উল্যাহর ছেলে। নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার বীরত্বের জন্য তার সঙ্গে নামের মিল রেখে তার পিতা-মাতা তার নাম রাখেন এসএম সিরাজ-উদ-দৌলা। পিতা ছিলেন আমির উদ্দিন মুন্সির হাটের চা দোকানী। গ্রামবাসী ও পিতার অক্লান্ত পরিশ্রমে সিরাজ কামিল পাস করেন।

কামিল পাস করে ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নের দৌলতপুর সালামতিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন। সেখানে ৬ বছর চাকরি করার পর এক ছাত্রকে যৌন হয়রানি ও দুর্নীতির দায়ে সেখান থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়। পরে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রঙমালা মাদ্রাসায় চাকরি নিলে একই অপরাধে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

২০০০ সালের ১ জুন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসায় উপাধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। চাকরিতে যোগদানের সময় অভিজ্ঞতা সনদ জাল করে তিনি ওই পদে চাকরি নেন। বিএনপি-জামায়াতের নেতাদের ম্যানেজ করে তিনি জামায়াতের একজন নেতা হিসেবে ২০০১ সালের ১ মে অধ্যক্ষ হিসেবে নতুন করে নিয়োগ পান।

রাজনৈতিক জীবনে এক সময়ে জামায়াতের রোকনের দায়িত্বে থাকলেও উপজেলা জামায়াতের আমির মো. মোস্তফা এবং সেক্রেটারির দাবি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ২০১৬ সালে জামায়াত থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

তবে আওয়ামী লীগ নেতাদের ম্যানেজ করে মাদ্রাসায় নানা অনিয়ম-দুর্নীতি করলেও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগদান করেননি। ১১০ জন জামায়াত নেতাকে সংগঠিত করে উম্মুল কোরান নামের ফাউন্ডেশন করে একটি মাদ্রাসা ও জমি কেনাবেচা শুরু করলে অর্থ আত্মসাতের দায়ে সেই ফাউন্ডেশনে ভাঙন সৃষ্টি হয়।

ইতিমধ্যে প্রায় ৫০ জন শেয়ারহোল্ডারের পাওনা টাকা পরিশোধ করলেও আরও প্রায় অর্ধশত গ্রাহক তাদের টাকা পাওনা রয়েছে। আবদুল কাইয়ুম নিশান নামে একজন শেয়ারহোল্ডার ১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। যা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ফেনী মডেল থানায় একটি নাশকতার মামলাসহ ৩টি মামলা রয়েছে।

ফেনী শহরে একটি দোতলা বাড়ি রয়েছে। পারিবারিক জীবনে ৫ ভাই ও ৩ বোনের মধ্যে সিরাজ ছিল মেঝ। বাকি ভাইয়েরা সবাই দিনমজুর দরিদ্রসীমার নিচে বসবাস করছে। ২ মেয়ে ও ২ ছেলে সন্তানের জনক। দুই কন্যা বিবাহিত। ছেলে ডাক্তারি বিষয়ে অধ্যয়নরত। মেয়ে বিবাহিত। স্ত্রীও জীবিত রয়েছে।

আসামি মো. নূর উদ্দিন চরচান্দিয়া ইউনিয়নের উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের দক্ষিণ সর্দার বাড়ির দিনমজুর আহসান উল্যাহর ছেলে। তার মা ক্ষুদ্র কুটির শিল্পের কাজ করেন। ৫ ভাইয়ের মধ্যে নূর উদ্দিন সবার বড়। বাকি ভাইয়েরাও ওই মাদ্রাসার ছাত্র।

তার মায়ের আবেদনের প্রক্ষিতে সেও তার ভাইদের অর্ধেক বেতনে পড়ালেখার সুযোগ করে দিতেন অধ্যক্ষ সিরাজ। অধ্যক্ষের অনুগত হিসেবে পরিচিত। তবে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। যদিও উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাসান মাহমুদ দাবি করেছেন সে ছাত্রদলের কেউ নয়। সে ওই মাদ্রাসার ফাজিল এবং ফেনী কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

আসামি শাহাদাত হোসেন শামীম চরচান্দিয়া ইউনিয়নের চরচান্দিয়া গ্রামের নওয়াব আলী টেন্ডল বাড়ির আবদুর রাজ্জাকের ছেলে। ৩ ভাই ও এক বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। ছোটবেলা থেকে বেপরোয়া জীবনযাপন করত সে। মাদ্রাসা ছাত্রলীগের সভাপতি ও চরচান্দিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক।

এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার কারণে প্রায় তিন বছর আগে অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকা অবস্থায় গণধোলাইয়ের শিকার হয় শামীম। স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশে দিলে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে তখন থানা থেকে ছাড়া পায় সে। ওই নারীর ঘর ভেঙেছে তার পরকীয়ার কারণে।

পড়ালেখার পাশাপাশি স্থানীয় ভূঞার হাটে মোবাইল ফোনের ব্যবসা করত সে। তার পিতা আবুধাবি থাকলেও বর্তমানে দেশে অবসরে আছেন। দুই ভাই মালয়েশিয়া প্রবাসী। বোন বিবাহিত। ওই মাদ্রাসার ফাজিল ও ফেনী কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সে।

অধ্যক্ষ সিরাজের অনুগত হিসেবে মাদ্রাসার অভ্যন্তরে একটি কক্ষে ছাত্র সংসদের নামে নিয়মিত অফিস নিয়ে বসতেন শামীম। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে চাঁদা আদায় করে অধ্যক্ষ ও তার সহযোগীরা ভাগবাটোয়ারা করে নিত। নুসরাতকে একাধিকবার প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হন শামীম।

আসামি কাউন্সিলর মাকসুদ আলম সোনাগাজী বাজার সংলগ্ন পাণ্ডব বাড়ির মরহুম আহসান উল্যাহর ছেলে। ৭ ভাই ও ৪ বোনের মধ্যে মাকসুদ সবার বড়। সে পৌর আওয়ামী লীগের সদ্য বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক এবং ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। পেশায় এক সময় সবজি বিক্রেতা ছিলেন। তার পিতাও সোনাগাজী বাজারের একজন সবজি বিক্রেতা ছিলেন। সে ওই মাদ্রাসার বাতিল হওয়া পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন।

আসামি জোবায়ের আহম্মদ ওরফে সাইফুর রহমান জোবায়ের সোনাগাজী পৌর এলাকার ৬নং ওয়ার্ডের তুলাতলি গ্রামের মৌলভী খায়েজ আহম্মদের বাড়ির আবুল বশরের ছেলে। পিতা সোনাগাজী হাসপাতালের সামনে আল হেরা ফার্মেসির মালিক। ৪ ভাইয়ের মধ্যে জোবায়ের সবার বড়।

তার পিতা জামায়াত সমর্থক হলেও সে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। ছাত্রলীগকর্মী হিসেবে এলাকায় দাপিয়ে বেড়াত। ছাত্রলীগের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কয়েকটি মোবাইল ছিনতাইসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে সে । ওই মাদ্রাসার ফাজিল ও ফেনী কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। নুসরাত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৪নং আসামি।

আসামি সাখাওয়াত হোসেন ওরফে জাবেদ হোসেন চরচান্দিয়া ইউনিয়নের উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের রহমত উল্যাহর ছেলে। ৪ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে সে চতুর্থ। সে ওই মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিল। তার বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলা আদালতে বিচারাধীন। তার পিতা চরচান্দিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। সে মাদ্রাসা ছাত্রলীগ কমিটির সদস্য এবং চরচান্দিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি।

আসামি হাফেজ আবদুল কাদের নুসরাত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৭নং আসামি। সে উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব সফরপুর গ্রামের মনছুর খান পাঠান বাড়ির আবুল কাসেমের ছেলে। তার বাবা সাহেবের হাটের চা দোকানী। চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে হাফেজ আবদুল কাদের পঞ্চম।

সে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক এবং ফাজিল দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার অনুগত হিসেবে মাদ্রাসার হোস্টেলে থাকত আবদুল কাদের। তার পিতা আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে এলাকায় পরিচিত।

সে সরাসরি শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। তবে উপজেলা জামায়াতের আমির মো. মোস্তফা জানিয়েছেন ইতিপূর্বে অপকর্মের দায়ে তাকে শিবির থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

আসামি আবছার উদ্দিন ওই মাদ্রাসার ইংরেজির প্রভাষক। তিনি মাদ্রাসার পাশাপাশি অতিথি শিক্ষক হিসেবে ইংরেজি পড়াতেন সোনাগাজী এনায়েত উল্যাহ মহিলা কলেজে। এ ছাড়াও রয়েছে নিজের একটি কোচিং সেন্টার। নুসরাতও তার কাছে প্রাইভেট পড়তেন বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী।

তিনি চরচান্দিয়া ইউনিয়নের উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের সওদাগর মাঝি বাড়ির আবদুল হকের ছেলে। দুই ভাই এবং ৫ বোনের মধ্যে আবছার সবার ছোট। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত না থাকলেও বিএনপির সমর্থক বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

আসামি আবদুর রহিম শরীফ ওই মাদ্রাসার ফাজিল প্রথম বর্ষ ও ফেনী পলিটেকনিক কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। সে চরচান্দিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ পূর্ব চরচান্দিয়া গ্রামের আবদুল মালেক চৌকিদার বাড়ির হাজী আবদুর শুক্কুরের ছেলে। ৪ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। ব্যক্তিগত জীবনে সে বিবাহিত।

পড়ালেখার পাশাপাশি সোনাগাজী বাজারের একটি দোকানে মোবাইল মেকানিক হিসেবে কাজ করত। সে সরাসরি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। পিতাও আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ একজন কর্মী। আগে তিনি সৌদি আরবে ছিলেন। বর্তমানে বাড়িতে থাকেন। পুরো পরিবার আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

আসামি মো. শামীম সোনাগাজী পৌর এলাকার ৫নং ওয়ার্ডের পশ্চিম তুলাতলি গ্রামের আলী জমাদার বাড়ির কৃষক শফি উল্যাহর ছেলে। ৪ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে সে পঞ্চম। সে ওই মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী। অধ্যক্ষ সিরাজের মুক্তি পরিষদ আন্দোলনের কমিটির সদস্য ছিলেন। ২৮ ও ৩০ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজের মুক্তি আন্দোলনের মিছিলে নেতৃত্ব দেন।

আসামি এমরান হোসেন মামুন সোনাগাজী পৌর এলাকার ৯নং ওয়ার্ডের চরগণেশ গ্রামের প্রবাসী এনামুল হকের ছেলে। ২ বোন ও ১ ভাইয়ের মাঝে সে মেঝ। মামুন ফেনী কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

আসামি ইফতেখার উদ্দিন রানা সোনাগাজী পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ঈমান আলী হাজী বাড়ির জামাল উদ্দিনের ছেলে। তার পিতা টিঅ্যান্ডটির অফিস সহকারী। বর্তমানে রাঙ্গামাটিতে কর্মরত রয়েছেন। সে ওই মাদ্রাসার আলীম পরীক্ষার্থী ছিল। ২ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে সে সবার বড়। সে মাদ্রাসা ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী ছিল।

আসামি শাকিল মাহমুদ ওরফে মহি উদ্দিন শাকিল চরচান্দিয়া ইউনিয়নের উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের প্রবাসী রুহুল আমিনের ছেলে। সে এলাকায় ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে পরিচিত। ২ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে শাকিল তৃতীয়।

আসামি মো. রুহুল আমিন সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদ্য সাবেক সভাপতি মো. রুহুল আমিন। সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির (বাতিলকৃত) সহ-সভাপতি ছিলেন তিনি। সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের চরচান্দিয়া গ্রামের কেরানী বাড়ির কোরবান আলীর ছেলে রুহুল আমিন।

তিন ভাইয়ের মাঝে রুহুল আমিন সবার বড়। পিতা মাতা, ভাই, স্ত্রী ও সন্তানেরা সবাই আমেরিকা প্রবাসী। ২০১৮ সালের শুরুতে উপজেলা আওয়ামী লীগের এক সভায় রুহুল আমিনকে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়। গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তাকে দলের সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

আসামি উম্মে সুলতানা পপি ওরফে শম্পা অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার শ্যালিকার মেয়ে। উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের দরিদ্র রিকশাচালক শহীদ উল্যাহর মেয়ে।

আসামি কামরুন নাহার মণি সোনাগাজী পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ঈমান আলী হাজী বড়ির মরহুম বিজিবি সদস্য আজিজুল হকের পালিত কন্যা। ওই মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন।

সে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বার সময় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে কন্যা প্রসব করে। নবাবপুর ইউনিয়নের মহদিয়া গ্রামের মেজবাউল আলম খান মিলনের ছেলে রাশেদ খান রাজুর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুললে প্রায় এক বছর পূর্বে পারিবারিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

মন্তব্য