| প্রচ্ছদ

৩৩ মাসেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি যুবদলের

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৩০ বার। প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০১৯ ।

জাতীয়তাবাদী যুবদলের অবস্থা অনেকটাই লেজেগোবরে। ৫ সদস্যের কমিটি দিয়েই মেয়াদ পার করতে যাচ্ছে যুবদল। বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হতে আর তিন মাস বাকি। সংগঠনটির শীর্ষ দুই নেতার দ্বন্দ্বে ৩৩ মাসেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে পারেনি বিএনপির এই অন্যতম সহযোগী সংগঠন। এমন অভিযোগ করে যুবদলের পদপ্রত্যাশীরা বলছেন, কোন্দল ও দূরদর্শী নেতৃত্বের অভাবেই রাজপথে দাঁড়াতে পারছে না একসময়কার বিএনপির ভ্যানগার্ড যুবদল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দিবসকেন্দ্রিক কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত যুবদল। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, দলীয় প্রধানের শাহাদাতবার্ষিকী ও জন্মদিন এসব কর্মসূচি দিয়ে সময় পার করেছে যুবদল। ৩০ ডিসেম্বরের একতরফা নির্বাচনের প্রতিবাদ এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মাঠে দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা নেই সংগঠনটির নেতাকর্মীদের।

২০১৭ সালের ৩ জানুয়ারি সাইফুল আলম নীরবকে সভাপতি ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের কমিটি ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সুপার ফাইভ কমিটিতে সিনিয়র সহসভাপতি করা হয় মোরতাজুল করিম বাদরুকে, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক করা হয় সাবেক ছাত্রনেতা নুরুল ইসলাম নয়ন আর সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয় মামুন হাসানকে।

তিন বছরমেয়াদি এ কমিটির বয়স ৩৩ মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত সংগঠনটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেননি দায়িত্বপ্রাপ্তরা। সর্বশেষ গত ৯ অক্টোবর যুবদলের ৫ নেতার সঙ্গে স্কাইপে বৈঠক করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেই বৈঠকে তিনি ২০ অক্টোবরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে নির্দেশ দেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা দিতে পারেনি যুবদল।

তারেক রহমানের বেঁধে দেয়া তারিখের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা না হওয়ার বিষয়ে যুবদল সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু গণমাধ্যমকে বলেন, তারেক রহমান কমিটি গঠন নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ বেঁধে দেননি। বলেছেন, দ্রুত কমিটি দিতে। আশা করি এক মাসের কম সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারব আমরা।

যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, ত্যাগী, পরীক্ষিত ও রাজপথের নেতাদের নিয়ে যুবদলের কমিটি হবে। সেটা যাচাই-বাছাই করতে সময় লাগছে। এ কারণে ২০ অক্টোবরের মধ্যে কমিটি ঘোষণা করতে পারিনি। সময় বাড়ানোর জন্য তারেক রহমানকে অনুরোধ করেছি। তিনি সেটা অনুমোদন করেছেন। আশা করি শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারবো।’

সংগঠনটির পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা বলছেন, যুবদলের গত কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক থাকাবস্থায় সাইফুল আলম নীরবের নিজস্ব বলয় ছিল। এখন পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তিনি নিজের আস্থাভাজনদের রাখতে চান। অন্যদিকে, ছাত্রদলের সভাপতি থাকাবস্থায় সুলতান সালাউদ্দিন টুকু তার নিজস্ব একটি বলয় তৈরি করেছেন। তিনি আস্থাভাজনদের কমিটি করতে চান।

এই দুই নেতার দ্বন্দ্বের কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয় না। এ কারণে নেতাকর্মীরা ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন বা বিএনপির কর্মসূচিতে অংশ নেন না। কারণ আন্দোলন করতে গিয়ে কোনো নেতাকর্মী গ্রেফতার হলে তখন তার রাজনৈতিক পরিচয় কী হবে? পদপদবি থাকলে নেতাকর্মীরা সেটা বাঁচানোর জন্য হলেও মাঠে নামতো।

তবে নিজেদের দ্বন্দ্বের কথা অস্বীকার করেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, আমাদের কমিটি হওয়ার আগে থেকে খালেদা জিয়াকে সপ্তাহে ৩-৪ দিন আদালতে হাজিরা দিতে হয়েছে। তখন আদালতে আসা-যাওয়ার পথে সময় চলে গেছে। এর পর তিনি গ্রেফতার হলে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে কখনও আমি, কখনও সভাপতি গ্রেফতার হয়েছেন। ফলে চাইলেও আমরা কমিটি দিতে পারিনি।

মন্তব্য