| প্রচ্ছদ

চুরির অপবাদ, অধ্যক্ষের টাকার চাপ ও হয়রানিতে প্রহরীর আত্মহত্যা

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৪২ বার। প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০১৯ ।

গাইবান্ধার সাঘাটা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের নিরাপত্তা প্রহরী (নাইট গার্ড) ভাদু বিশ্বাস (৬২) চুরির অপবাদ সহ্য করতে না পেরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। খবর দেশ রুপান্তর অনলাইন 

রবিবার ভোরে সাঘাটা উপজেলার ঘুরিদহ ইউনিয়নের যাদুরতাইড় গ্রামে নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করেন তিনি। তিনি ওই গ্রামের পূর্ণ চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে।

ভাদু বিশ্বাসের স্ত্রী ও মেয়ের অভিযোগ, গত শুক্রবার অসুস্থ থাকায় কলেজে রাত্রিযাপন করেননি ভাদু। ওই রাতে কলেজটির দুইটি কম্পিউটারসহ অন্যান্য মালামাল চুরি হয়। পরদিন শনিবার চুরির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ভাদু বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কলেজটির অধ্যক্ষ নওয়াব আলী সাজু সাঘাটা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

এ ঘটনার তদন্ত করতে উপপরিদর্শক (এসআই) মোশারফ হোসেন ভাদু বিশ্বাসকে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে অধ্যক্ষ নওয়াব আলী সাজু থানা থেকে নিজের জিম্মায় নিয়ে গিয়ে ভাদু বিশ্বাসকে তার বাড়িতে রেখে যান ও চুরি হয়ে যাওয়া ল্যাপটপ ও কম্পিউটারসহ অন্যান্য মালামালের দাম বাবদ ৩ লাখ টাকা দাবি করে রবিবার সকালের মধ্যে টাকা বুঝিয়ে দিতে চাপ প্রয়োগ করেন। সকালের মধ্যে টাকা না দিলে চুরির অপরাধে তাকে জেলে পাঠানোর হুমকি দিয়ে ভয়ভীতিও দেখান অধ্যক্ষ নওয়াব আলী সাজু। ভয় ও চুরির অপবাদ সইতে না পেরে ভোররাতে নিজ ঘরে বাঁশের ধর্নার সঙ্গে দড়িতে ঝুলে ভাদু বিশ্বাস আত্মহত্যা করেন।

তবে কলেজের অধ্যক্ষ নওয়াব আলী সাজু তার বিরুদ্ধে আনা ৩ লাখ টাকা চাওয়ার দাবি অস্বীকার করেছেন। থানার ওসি বলছেন, ভাদু বিশ্বাস একটি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলেন। পরে হঠাৎ করে রবিবার মারা গেছেন। এ ঘটনায় ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশ লাশ উদ্ধার করেনি, হয়নি মামলাও।

ওই গ্রামের ইউপি সদস্য আনিছুর রহমান বলেন, ভাদু বিশ্বাসের পরিবর্তে তার ছেলে চাকরি করবেন ও কলেজ থেকে যতটা সম্ভব পরিবারটিকে আর্থিক সহযোগিতা করা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ বিষয়ে সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বেলাল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, লোকমুখে ভাদু বিশ্বাসের মৃত্যু ও শেষকৃত্য সম্পন্নের কথা শুনেছি। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার থেকে কেউ অভিযোগ দেয়নি। তাই লাশের ময়নাতদন্ত এবং মামলাও হয়নি।

মন্তব্য