| প্রচ্ছদ

দুদকের অভিযান: ৪৫ হাজা টাকা জব্দ

বগুড়ায় নিজ দপ্তরের কর্মীদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার সময় আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

স্টাফ রিপোর্টার
পঠিত হয়েছে ১৫০ বার। প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০১৯ ।

অধীনস্ত কর্মীদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার সময় বগুড়ায় আনিছুর রহমান (৩৫) নামে আনসার-ভিডিপি’র এক কর্মকর্তাকে হাতে-নাতে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার সন্ধ্যার আগ মুহুর্তে শহরের মালতিনগর এলাকায় আনসার-ভিডিপি কার্যালয় থেকে গ্রেফতার করা হয়। 
অভিযুক্ত আনিছুর রহমান বগুড়া সদর উপজেলা আনসর ভিডিপি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার চন্দগাতি গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের জয়নাল আবদীনের ছেলে। গ্রেপ্তার আনিছুর রহমানের কাছ থেকে ঘুষের ৪৫ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুদক বগুড়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে একই দপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ মনিরুজ্জামানে দপ্তরে মামলা করেছেন। 
মামলার বাদী দুদক কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, গ্রেফতার আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা আনিছুর রহমান নানা অজুহাতে তার অধীনস্ত কর্মীদের (যারা সরকারিভাবে শুধু ভাতা পেয়ে থাকেন) কাছ থেকে ঘুষ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ গত ৯ সেপ্টেম্বর আনসার-ভিডিপি কার্যালয়ের উদ্যোগে চারা বিতরণ ও র‌্যালী কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ না করার অজুহাতে তিনি তার দপ্তরের ওয়ার্ড পর্যায়ের ৬ দল নেতার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করেন। এরপর তিনি ওই ৬ কর্মীর সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে বলেন টাকা ওই টাকা না দিলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক পর্যায়ে আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা আনিছুর রহমান কর্মীদের সঙ্গে দরকষাকষি শুরু করেন এবং পরে প্রতেককে ১০ হাজার টাকা দিতে বলেন। সেই অনুযায়ী কোন কোন কর্মী তাকে তার দাবি অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা করে দিয়েও দেন। তবে ওয়ার্ড দলনেতাদের মধ্যে শাকিল আল মামুনসহ দু’জন কর্মী আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা আনিছুর রহমানের দাবি করা ঘুষের বিষয়টি দুদক কার্যালয়ে অবহিত করেন। 
দুদক বগুড়া কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মনিরুজ্জামান জানান, বিষয়টি জানার পর শাকিল আল মামুনসহ দু’জনকে ২০ হাজার টাকাসহ রোববার বিকেলে বগুড়া সদর উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা আনিছুর রহমানের কাছে পাঠানো হয়। ঠিক ওই সময় দুদকের ৬ কর্মকর্তাও সেখানে ওঁৎ পেতে থাকেন। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আনিছুর রহমান ঘুষের ২০ হাজার টাকা নেওয়ার সময় দুদক কর্মকর্তারা তাকে হাতে-নাতে গ্রেপ্তার করেন। এ সময় তার টেবিলের ড্রয়ার থেকে আগে নেওয়ার ঘুষের আরও ২৫ হাজারসহ মোট ৪৫ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। পরে তাকে গ্রেফতার করে দুদক কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে পুলিশের মাধ্যমে বগুড়া সদর থানায় পাঠানো হয়।
দুদক বগুড়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের অপর সহকারি পরিচালক রবীন্দ্রনাথ চাকী জানান, স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচন এবং দূর্গা পূজাসহ অন্যান্য সময় আনসার-ভিডিপি সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন শেষে যখন তাদের ভাতা উত্তোলন করতে যান তখন অভিযুক্ত আনিছুর রহমান  ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি জানান, গ্রেপ্তার আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে দদুক আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে।

 

মন্তব্য