| প্রচ্ছদ

জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষায় যে ১০ দফা নির্দেশনা দিল মন্ত্রণালয়

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৬৮ বার। প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০১৯ ।

২ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া জেএসসি (জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট) ও জেডিসি (জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট) পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস বন্ধসহ সার্বিক শৃঙ্খলা বিধানে বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ১০ দফা নির্দেশনা ও সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। এ সময় তিনি জানিয়েছেন, ২ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা চলাকালে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সব কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে গুজব ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

১০ দফা নির্দেশনা হলো-

১। পরীক্ষার্থীদের ৭ টি বিষয়ে ৬৫০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হবে । ইংরেজি ছাড়া সকল বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা দিতে হবে।

২। শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা, চারু ও কারুকলা, কৃষি শিক্ষা, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, আরবি, সংস্কৃত, পালি বিষয়সমূহ এনসিটিবির নির্দেশনা অনুসারে ধারাবাহিক মূল্যায়নের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

৩। পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদেরকে অবশ্যই হলে প্রবেশ করতে হবে। তবে অনিবার্য কারণে কোনো পরীক্ষার্থীকে এ সময়ের পরে হলে প্রবেশ করতে দিলে তার বা তাদের নাম, রোল নম্বর, প্রবেশের সময়, দেরি হওয়ার কারণ ইত্যাদি একটি রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করে ঐদিনই সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে প্রতিবেদন দিতে হবে।

৪। শ্রবণ প্রতিবন্ধীসহ অন্যান্য প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় দেয়া হয়েছে । দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, সেরিব্রাল পালসিজনিত প্রতিবন্ধী এবং যাদের হাত নেই তাদের জন্য শ্রুতি লেখকের সুযোগ রাখা হয়েছে।

৫। প্রতিবন্ধী (অটিস্টিক, ডাউন সিনড্রোম, সেলিপলসি) পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বৃদ্ধিসহ শিক্ষক/ অভিভাবক/ সাহায্যকারীর বিশেষ সহায়তায় পরীক্ষা প্রদানের সুযোগ দেয়া হয়েছে।

৬। অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত সকল শিক্ষার্থীই এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে, কোনো নির্বাচনী কিংবা প্রাক-মূল্যায়ন পরীক্ষা দিতে হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে কোনো বৃত্তি পরীক্ষাও দিতে হবে না ।

৭। পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে শিক্ষক, ছাত্র ও কর্মচারীদের মোবাইল, মোবাইল ফোনের সুবিধাসহ ঘড়ি, কলম এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে ব্যবহারের অনুমতিবিহীন যে কোনো ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে ।

৮। পরীক্ষা চলাকালে এবং এর আগে-পরে পরীক্ষার্থী ও পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যতীত অন্যদের পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ থাকবে। এ সময়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশকারী অননুমোদিত ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৯। আসন্ন জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষে ২৫ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত সকল কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

১০। প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ফাঁসের গুজবমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করার লক্ষে কোনো প্রতারক যাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে ভুয়া বা মিথ্যা প্রশ্নপত্র তৈরি করে প্রতারণা কিংবা গুজব সৃষ্টি করতে না পারে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে সজাগ থাকতে হবে।

২ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) এবং জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা। এ বছর মোট ২৬ লাখ ৬১ হাজার ৬৮২ শিক্ষার্থী এ দুই পরীক্ষায় অংশ নেবে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২৬ লাখ ৭০ হাজার ৩৩৩ জন। এবার জেএসসিতে ২২ লাখ ৬০ হাজার ৭১৬ জন এবং জেডিসিতে ৪ লাখ ৯৬৬ শিক্ষার্থী অংশ নেবে।

সংবাদ সম্মেলনে দীপু মনি জানান, এবার সারা দেশে ২৯ হাজার ২৬২টি পরীক্ষাকেন্দ্রে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর ২৯ হাজার ৬৭৭টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবার সারা দেশে ২৬ লাখ ৬১ হাজার ৬৮২ শিক্ষার্থী জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নেবে। এর মধ্যে ১২ লাখ ২১ হাজার ৬৯৫ ছাত্র ও ১৪ লাখ ৩৯ হাজার ৯৮৭ ছাত্রী রয়েছে। ২০১৯ সালের জেএসডিতে অনিয়মিত ২ লাখ ৩৩ হাজার ৩১০ এবং জেডিসি পরীক্ষায় ৩০ হাজার ২৯১ পরীক্ষার্থী রয়েছে।

মন্তব্য