| প্রচ্ছদ

সাকিবকে 'ফাঁসানো' জুয়াড়ি কে এই আগারওয়াল?

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ১৩ বার। প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০১৯ ।

জুয়াড়িদের তালিকায় দিপক আগারওয়ালের নাম নতুন নয়। ভারতীয় দিপক আগারওয়াল দেশটির কালো তালিকাভূক্ত জুয়াড়িদের একজন। আইসিসির অ্যান্টিকরাপশন ইউনিটের নজরদারিতে আছে সে। আন্তর্জাতিক এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক লিগের ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফিক্সিংয়ে প্ররোচিত করাই তার কাজ।

 আইসিসির বিবৃতি অনুযায়ী, বাংলাদেশ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে ২০১৮ সালে তিনবার ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব দেয় জুয়াড়ি দিপক আগারওয়াল। সাকিব তার প্রস্তাবে রাজী হননি। আবার আইসিসি কিংবা অ্যান্টিকরাপশন ইউনিটকে জুয়াড়ির প্রস্তাবের বিষয়টিও বলেননি। আইসিসি তারই সাজা দিয়েছে বাংলাদেশ অলরাউন্ডার সাকিবকে। খবর সমকাল অনলাইন

তবে দিপক আগারওয়ালের বিরুদ্ধে আইসিসি কোন ব্যবস্থা নিতে বলবে কি-না। কিংবা ভারত কোন ব্যবস্থা নেবে কি-না তা এখনও জানা যায়নি। ভারতের কালো তালিকাভুক্ত জুয়াড়ি আগারওয়াল ২০১৭ সালের এপ্রিলে তার দুই সঙ্গীসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। কিন্তু অভিযোগের যথেষ্ট প্রমাণ না থাকায় তেমন কোন সাজা হয়নি তার। এছাড়া দেশটির প্রচলিত আইনে জুয়াকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে দেখা হয়। যার সাজাও বেশি দিন নয়। আগারওয়াল তাই কিছুদিন পরেই ছাড়া পেয়ে যায়।

অথচ ২০১১ সালে দিপক আগারওয়ালের বিরুদ্ধে 'সুইসাইড নোট' লিখে আত্মহত্যা করেন ভারতের এক তরুণ ক্রিকেটার। ভারত তখন সদ্য (২ এপ্রিল ২০১১) বিশ্বকাপ জিতেছে। সারা দেশ আনন্দে ভাসছে। এরই মধ্যে হতাশায় ডুবে ১২ এপ্রিল ২৯ বছর বসয়ী ক্রিকেটার বিজয় কুমার উদয়পুরে আত্মহত্যা করেন। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে জুয়াড়ির ফাঁদে পড়ে ওই ক্রিকেটারের আত্মহত্যার খবর আসে।

বিজয়ের সুইসাইড নোটের কথা উল্লেখ করে উদয়পুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তেজরাজ সিং সে সময় বলেন, 'তিনি একটা সুইসাইড নোট রেখে গেছেন। যাতে লিখে গেছেন, ধার-দেনা করে পাঁচ লাখ টাকা এক জুয়াড়িকে দিয়েছিলেন তিনি। ওই অর্থ হারানোয় হতাশ হয়ে পড়েন। দিপক আগারওয়াল নামের এক জুয়াড়ি তাকে টাকা লগ্নি করতে প্ররোচিত করে বলে উল্লেখ করে গেছেন বিজয়। সুইসাইড নোটে বিজয় অনুরোধ করেছেন, দিপক আগারওয়ালের থেকে ওই অর্থ আদায় করে যেন তার পরিবারকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।'

ওই ঘটনার ছয় বছর পরে আটক হওয়া আগারওয়ালকে শাস্তি দিতে বিজয়ের সুইসাইড নোটকে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। পুলিশের জিম্মা থেকে বের হয়ে ২০১৭ সালের নভেম্বরেই সাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ করে দিপক আগারওয়ালের। এরপর ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশে আয়োজিত ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের দুই ম্যাচে সাকিবকে বার্তা পাঠায় আগারওয়াল। আইপিএলের এক ম্যাচে সাকিবকে প্ররোচিত করে দলের তথ্য পাচারে। তার সঙ্গে যোগাযোগ হওয়ার শাস্তি ভোগ করছেন সাকিব। অন্যদিকে জুয়াড়ি দিপক আগারওয়াল হয়তো 'নিশ্চিন্তে' নতুন কোন ফাঁদ তৈরি করছে নামি-দামি কিংবা তরুণ কোন ক্রিকেটারকে ফাঁসানোর।

মন্তব্য