| প্রচ্ছদ

অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা হচ্ছে: কাদের

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৩৭ বার। প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০১৯ ।

আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেছেন, সারা দেশে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনে বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটিতে যাতে বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারীরা স্থান করে নিতে না পারে, সে জন্য এসব ব্যক্তিদের একটি তালিকা করা হয়েছে। খবর দেশ রুপান্তর

তিনি জানান, তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে দলটির বিভিন্ন শাখা ও সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীলদের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির সম্পাদকমণ্ডলীর সভা শেষে এ কথা জানান তিনি।

ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ফরিদুন্নাহার লাইলী, আবদুস সোবহান গোলাপ, দেলোয়ার হোসেন, শাম্মী আহমেদ, শ ম রেজাউল করিম, আফজাল হোসেন, মৃণাল কান্তি দাস, আব্দুস সবুর, শেখ মো. আব্দুল্লাহ, বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য রিয়াজুল কবির কাওছার প্রমুখ। 

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিতর্কিত কোনো ব্যক্তি আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে আসতে পারবে না। সহযোগী সংগঠনেও যেন কোনো বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারী প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য যথেষ্ট সতর্ক আছি। নেত্রীও (শেখ হাসিনা) তার নিজস্ব কিছু লোকজনকে দিয়ে এবং গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন সব মিলিয়ে অনুপ্রবেশকারীদের একটি তালিকা তিনি অলরেডি করেছেন এবং সেটি পার্টি অফিসে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমি আমার বিভাগীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বিষয়টি শেয়ারও করেছি। তারা এই তালিকা নিয়ে বিভিন্ন শাখা ও সহযোগী সংগঠনের যে সম্মেলন হচ্ছে, সেখানে বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারী হিসেবে যাদের নাম আছে, তারা যেন কমিটিতে আসতে না পারে সেই ব্যাপারে সতর্ক থাকবে এবং ব্যবস্থা নেবে। 

তালিকায় কতজনের নাম এসেছে এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, সব বিভাগেই কমবেশি আছে। তবে নির্দিষ্ট সংখ্যা বলতে পারছি না। পরের মিটিংয়ে বলব।

উপজেলা নির্বাচনের বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাদের সহযোগীরা  সম্মেলনের মাধ্যমে নেতৃত্বে আসতে পারবে কি না, এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাদের বলেন, সে বিষয়ে আমাদেরে ‘কেস টু কেস’ বিবেচনায় রয়েছে। তবে পার্টিতে থাকলে তারা তো কাউন্সিলের সব কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন এবং নেতৃত্বেও আসতে পারবেন।

মেয়াদোত্তীর্ণ ২৭টি জেলায় সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বেশ কিছু উপজেলায় মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি আছে। সেগুলোরও সম্মেলন প্রস্তুতি চলছে। ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যায়সহ সারা দেশের জাতীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে পুরোদমে তৃণমূল পর্যন্ত তাদের সাংগঠনিক শক্তি বিস্তারে সম্মেলনের দিকে নজর দিয়েছে।

ওবায়দুল কাদের জানান, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগের সম্মেলন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একই মঞ্চে হবে। সে লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি চলছে। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা এ বিষয়ে দেখভাল করছেন। প্রস্তুতি থেমে নেই, সম্মেলন সঠিক সময়ে হবে। ২০ ডিসেম্বর উদ্বোধন অনুষ্ঠান এবং ২১ ডিসেম্বর কাউন্সিল অধিবেশন ।

গত তিন বছরের যতগুলো প্রতিনিধি সভা হয়েছে, এত প্রতিনিধি সভা আওয়ামী লীগের ইতিহাসে হয়নি বলেও দাবি করেন ওবায়দুল কাদের। 

তিনি বলেন, এ সময়ে রোড মার্চ, ট্রেন মার্চ করেছি। পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচন ফেস করেছি। বেশ কিছু ইউনিয়ন পর্যায়ের ও পৌরসভার নির্বাচন ফেস করেছি। সিলেট ছাড়া বাকি সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোতে আমরা জিতেছি। এ সময় স্থানীয় নির্বাচনে শতকরা ৯০ ভাগ ক্ষেত্রে আমরা বিজয়ী হয়েছি। ২২ বছর পর কুমিল্লা মহানগরের প্রথম কমিটি হয়েছে এ সময়ে। অন্তত ৩০টি কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হয়েছে যেখানে শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিল। এরপরও এই কমিটি কিছুই করতে পারেনি বলে যে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে সেটি সঠিক নয়। 

ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা না হওয়ায় নেতাকর্মীদের মনে প্রশ্ন রয়েছে এ সম্পর্কে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের বিষয়টি রয়েছে। আমরা অপেক্ষায় আছি নির্বাচন কমিশন শিডিউলটা কীভাবে দেয়। এ তিন মহানগরে নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণার সঙ্গে মিল রেখে সম্মেলনের তারিখ দেওয়া হবে। এ বিষয়ে আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে।

নতুন সড়ক আইন সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, নতুন সড়ক আইন কার্যকর করতে যাচ্ছি। তবে আইনটা কার্যকর করার আগে এর ফলাফল কী দাঁড়ায় আইন বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় গেলে সবাই বুঝতে পারবেন। আইনের প্রায়োগিক বাস্তবতা জনস্বার্থে কতটা কাজে লাগে সেটি আইন কার্যকর করলে বোঝা যাবে।

তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যে পরিসংখ্যান, সেই পরিসংখ্যানে বাংলাদেশের দুর্ঘটনা কিন্তু কমে গেছে। এখানে দুর্ঘটনা যতটা না বেশি তার চেয়ে ক্যাজুয়ালটি বেশি। দুর্ঘটনার মৃত্যু বেশি। ছোট ছোট যান যেমন নছিমন, করিমন এসব গাড়িতে টোকা লাগলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটে। এ জন্য হারটা বেশি। আমার মনে হয় প্রধানমন্ত্রী এ সম্পর্কে যে বক্তব্য দিয়েছেন সেই নির্দেশনা আমরা সবাই চালক, যাত্রী, পথচারী অনুসরণ করি তাহলে দুর্ঘটনা অনেক কমে যাবে।

মন্তব্য