| প্রচ্ছদ

দায় স্বীকার করে ঘাতকের জবানবন্দি

বগুড়ার শেরপুরে শিশু আশিক হত্যার রহস্য উদঘাটনঃফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ-মানববন্ধন

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
পঠিত হয়েছে ৬০ বার। প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০১৯ ।

বগুড়ার শেরপুরে আট বছরের শিশু আশিকুর রহমান আশিক খুনের রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। বলাৎকারে বাধা দেয়ায় হাত-পা বেঁধে মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে শিশুটিকে হত্যা করা হয়। পরে তার লাশ গুম করতে তা বস্তায় ভরে খাটের নিচে রাখা হয়েছিল বলে-স্বীকার করেছে এই হত্যাকা-ের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া মূল ঘাতক সিয়াম আহম্মেদ তুহিন। আর এই কাজে তাকে সহযোগিতা করেন তার বাবা, মা ও বড় ভাই। বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে এমনটাই স্বীকার করেছে তুহিন।


এদিকে শিশু আশিকুর রহমান আশিকের হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার (০২নভেম্বর) দুপুরের দিকে স্থানীয় কৃষ্ণপুর-যমুনা এলাকাবাসীর ব্যানারে শতাধিক নারী-পুরুষ একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপুর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে স্থানীয় বাসষ্ট্যান্ডে ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করেন তারা। কর্মসূচি চলাকালে বক্তারা, স্কুলছাত্র আশিক হত্যা মামলাটি দ্রুত বিচার আদালতে স্থানান্তরসহ হত্যাকারিদের ফাঁসি দাবি করেন।


ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শেরপুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) পুতুল মোহন্ত এই হত্যাকা-ের দায় স্বীকার করে ঘাতকের দেয়া জবানবন্দীর তথ্য নিশ্চিত করে জানান, জবানবন্দি রেকর্ড শেষে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রধান অভিযুক্ত সিয়াম আহম্মেদ তুহিকে বগুড়ার জেল সুপারের মাধ্যমে যশোরের পুলেরহাটে শিশু-কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এছাড়া তার বাবা সুরুজ্জামান, মা হামিদা পারভিন ও ভাই সোহাগকে বগুড়া কারাগারে পাঠিয়ে দেন আদালত।

পুলিশের এই তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও বলেন, উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর যমুনাপাড়া গ্রামের চাতাল ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল ইসলামের ছেলে স্থানীয় শেরুয়া আদর্শ স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র আশিকুর রহমান আশিক গত ৩০অক্টোবর দুপুরের দিকে বাড়ির পাশে ব্রাজিলের জার্সি পরে খেলাধুলা করছিল। এসময় একই গ্রামের প্রতিবেশী সুরুজ্জামানের ছেলে ধড়মোকাম উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্র সিয়াম আহম্মেদ ওরফে তুহিন বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে তাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে বলাৎকারের চেষ্টা চালায়। কিন্তু আশিক বলাৎকারে বাধা দেয়ায় তার হাত-পা বেঁধে মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেছে সে। পরে লাশ গুম করতে তা বস্তায় ভরে খাটের নিচে রাখে সে ও তার বাবা, মা ও বড় ভাই।

এদিকে স্কুলছাত্র আশিক সন্ধ্যার পর বাড়িতে ফিরে না আসায় তার পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি শুরু করেন। একপর্যায় ঘাতক সিয়ামের বাড়ির লোকজনদের আচারণে সন্দেহ তৈরী হয়। পরে স্থানীয় এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আশিকের পরিবারের লোকজন তাদের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। এমনকি সিয়ামের শয়নকক্ষের খাটের নিচ থেকে বস্তাবন্দী আশিকের লাশ উদ্ধার করে থানায় সংবাদ দেয়। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের লাশ উদ্ধারের পাশাপাশি ঘাতক সিয়ামসহ চারজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। পরদিন বৃহস্পতিবার (৩১অক্টোবর) নিহত স্কুলছাত্রের বাবা চাতাল ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল ইসলাম বাদি হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন বলে এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান।
 

মন্তব্য