| প্রচ্ছদ

পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু: সবার নজর এখন তৃণমুলে

বগুড়ায় বিএনপিতে সাবেকরাই নেতৃত্ব ফিরে পেতে আগ্রহী

পুণ্ড্রকথা রিপোর্ট
পঠিত হয়েছে ৯৬ বার। প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০১৯ ।

বগুড়ায় বিএনপিতে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের লক্ষ্যে উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ের ইউনিটগুলোতে আহবায়ক কমিটি গঠনের পর এবার তৃণমুলে অর্থাৎ ওয়ার্ড এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটিগুলোকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দলীয় সুত্রগুলো জানায়, চলতি বছর অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই জেলার ১০৮টি ইউনিয়ন, তার আওতাধীন ৯৭২ ওয়ার্ড এবং ১২টি পৌরসভার আরও ১২০টি ওয়ার্ডসহ তৃণমুলের মোট ১ হাজার ২০০টি সাংগঠনিক ইউনিটে নেতৃত্ব নির্বাচন শেষ করার চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। 
তবে ইতিপূর্বে উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে বিলুপ্ত করা ২৪টি সাংগঠনিক ইউনিটে আহবায়ক কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে না পারায় তৃণমুলে সহ¯্রাধিক কমিটি গঠনের কাজ মাত্র দুই মাসেরও কম সময়ে সম্পন্ন করা আদৌ সম্ভব হবে কি’না তা নিয়ে নেতা-কর্মীরা সংশয়ে রয়েছেন। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে যেহেতু তৃণমুলে গঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দই আগামীতে পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের মূল নিয়ামক হবেন তাই নেতৃত্ব প্রত্যাশীরা নিজেদের কাক্সিক্ষত পদ-পদবী নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ডে নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করবেন। এমনটা হলে তৃণমুলে কমিটি পুনর্গঠন সম্পন্ন করতে কয়েক মাস লেগে যেতে পারে।
সূত্রগুলো জানায়, উপজেলা এবং পৌরসভা পর্যায়ের ২৪টি কমিটিতে ইতিপূর্বে যারা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া অন্যরা আবারও নেতৃত্বে আসতে চাচ্ছেন। তবে তার বাইরে আরও শতাধিক নেতা তাদের নিজ নিজ উপজেলা কিংবা পৌরসভায় সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে ইচ্ছুক। একই অবস্থা জেলা কমিটিতেও। সাবেক কয়েকজন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আবার ওই একই পদে ফিরতে চাচ্ছেন। এর পাশাপাশি আরও অর্ধডজন সিনিয়র নেতার নাম আলোচিত হচ্ছে। জানা গেছে, জেলা কমিটিতে নেতৃত্ব প্রত্যাশী কয়েকজন তাদের পদ-পদবী নিশ্চিত করতে উপজেলা এবং পৌরসভা পর্যায়ে গঠিত আহবায়ক কমিটিতে নিজ অনুসারীদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে বসানোর জন্য এখন তৃণমুলে পুনর্গঠনের দিকে নজর দিয়েছেন। 
বগুড়ায় ২০১১ সালে গঠিত জেলা বিএনপির মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি পুনর্গঠনের দাবি দীর্ঘদিনের। তৃণমুলের নেতা-কর্মীদের দাবির মুখে কেন্দ্র থেকে ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত কয়েক দফা উদ্যোগ নেওয়া হলেও জেলার শীর্ষ নেতাদের আভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে তা ভেস্তে যায়। এমন পরিস্থিতিতে চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল জেলা নেতাদের ঢাকায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে আগামীতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হবেন না-এমন সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে আহবায়ক ও যুগ্ম আহবায়ক মনোনীত করে একটি অন্তবর্তীকালীন কমিটি গঠনের জন্য জেলা নেতৃবৃন্দকে বলা হয়। তবে এ নিয়ে তৎকালীন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম এবং তার অনুসারীদের সঙ্গে সাংসদ গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের বিরোধ সৃষ্টি হয়। যার ফলে উভয় পক্ষ বগুড়ায় ফিরে ২৯ এপ্রিল পাল্টা-পাল্টি আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করেন। 
তবে কেন্দ্র কোন কমিটিকেই অনুমোদন না দিয়ে গেল ১৫ মে মেয়াদ উত্তীর্ণ জেলা কমিটি বিলুপ্ত করে গোলাম মোহাম্মদ সিরাজকে প্রধান করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট জেলা আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করেন। অবশ্য ঘোষিত ওই কমিটি বাতিলের দাবিতে সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলামের অনুসারীরা আন্দোলনে নামেন। এমনকি দলীয় কার্যালয়ে তালাও ঝুলিয়ে দেন। বিদ্রোহীদের শায়েস্তা করতে এক পর্যায়ে বগুড়ায় বিএনপি ও যুবদলের ১৪ নেতার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও বিদ্রোহীরা বশে না আসলে লন্ডনে নির্বাসিত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কঠোর মনোভাব দেখালে গত ৬ জুন তারা আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ান। তার প্রায় আড়াই মাস পর গত ১৬ আগস্ট জেলায় বিএনপির সব উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। তখন বলা হয়েছিল ৩১ আগস্টের মধ্যে উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ের ২৪টি ইউনিটে আহবায়ক কমিটি গঠনের কাজ শেষ করে অক্টোবরের মধ্যে সম্মেলন শেষ করে জেলা সম্মেলন করা হবে।
 খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের পরে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে উপজেলা ও পৌরসভাগুলোতে আহবায়ক কমিটি গঠনের কাজ শুরু হয়। ২৪টি সাংগঠনিক ইউনিটের মধ্যে ৪ সেপ্টেম্বর প্রথম ধাপে ১১টিতে আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এরপর ১১ অক্টোবর আরও ১০টিতে এবং সর্বশেষ গত ২১ অক্টোবার বাকি ৩টি সাংগঠনক ইউনিটে আহবায়ক কমিটি গঠন সম্পন্ন হয়। ইউনিট ভেদে ২১ থেকে ৪১ সদস্যের উপজেলা ও পৌর কমিটিতে যাদের আহবায়ক ও যুগ্ম আহবায়ক মনোনীত করা হয়েছে তাদের সিংহভাগই নবীন। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে নেতৃত্ব নির্বাচনে অংশগ্রহণেচ্ছুরা আহবায়ক ও যুগ্ম আহবায়ক হতে পারবেন না- তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এমন নির্দেশনা দেওয়ায় পুরানোরা ওই দু’টি পদের পরিবর্তে সদস্য হিসেবে নাম লিখিয়েছেন।
তৃণমুল পর্যায়ে কমিটি পুনর্গঠনের জন্য উপজলো ও পৌর আহবায়ক কমিটির নেতৃত্ব এরই মধ্যে তৎপর হয়ে উঠেছেন। জানা গেছে, নেতৃত্ব নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির পক্ষ থেকে আজ শনিবার দলীয় কার্যালয়ে সভা আহবান করা হয়েছে। একইভাবে অন্যান্য ইউনিটগুলোও ধারাবাহিকভাবে সভা আহবান করতে যাচ্ছে।
 খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বগুড়ায় বিএনপির জেলা কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য অর্ধডজন নেতা নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তাদের মধ্যে ৪জনের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। তারা হলেন- সাবেক জেলা সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন ও সাবেক সহ-সভাপতি আলী আজগর হেনা। পুনর্গঠন প্রক্রিয়া কবে নাগাদ শেষ হবে জানতে চাইলে বগুড়া জেলা বিএনপির আহবায়ক সাংসদ গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে বিলুপ্ত ২৪টি সাংগঠনিক ইউনিটে আহবায়ক কমিটি গঠন করেছি। এখন ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠনের কাজ শুরু হবে। আমরা আশা করছি দুই মাসের মধ্যে সব শেষ করতে পারবো এবং ২০২০ সালের জানুয়ারিতে সম্মেলনের মাধ্যমে দলের নতুন জেলা কমিটি গঠনে সক্ষম হবো।’

 

মন্তব্য