| প্রচ্ছদ

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা সেই লেখিকার মামলা

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ২৮ বার। প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০১৯ ।

লেখিকা ই জিন ক্যারল একটি বইয়ে দাবি করেন, দুই দশক আগে শপিং মলের ড্রেসিং রুমে তাকে ধর্ষণ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। জুনে ওঠা অভিযোগটি উড়িয়ে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তারই জেরে সোমবার মানহানির মামলা করলেন ক্যারল। খবর দেশ রুপান্তর অনলাইন

এলি ম্যাগাজিনের অ্যাডভাইস কলামনিস্ট ক্যারল ম্যানহাটনের নিউইয়র্ক স্টেট কোর্টে অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি জানান, ঘটনাটি নিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ট্রাম্প তাকে আক্রমণ করেছেন। এতে তার মর্যাদা, সততা ও নিষ্ঠা ক্ষুণ্ন হয়েছে।

দ্রুত এর জবাবও দিয়েছে হোয়াইট হাউস। এক বিবৃতিতে প্রেস সচিব স্টিফানি গ্রিশাম জানান, মামলাটি অসার। নিজের লেখার মতোই ক্যারল প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। লেখিকা বই বিক্রি বাড়ানোর জন্য এই কাজ করছেন।

ট্রাম্পও জানান, তিনি ক্যারলকে ধর্ষণ করেননি। এমনকি কখনো তাদের দেখাও হয়নি। বই বিক্রির জন্য তিনি পুরোটাই মিথ্যা বলছেন।

এর আগে জুনে গার্ডিয়ান পত্রিকাকে ক্যারল জানান, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার পর অনলাইনে হুমকি পেয়েছেন। এরপর থেকে ঘুমাতে যাওয়ার সময় সঙ্গে পিস্তল রাখেন।

ক্যারলের দাবি অনুযায়ী, ঘটনাটি ১৯৯৫ সালের শেষের দিকে বা পরের বছরের শুরুর দিকের। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ওই শপিং মলে একটি টিভি অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করছিলেন তিনি। শো শেষ হওয়ার পর শপিং মল বন্ধ হওয়ার মুখে তার ও ট্রাম্প দেখা। ট্রাম্প বলেন, “আপনি তো সেই উপদেশ দেওয়া মহিলা।”

ক্যারলের দাবি, কোনো এক নারীর জন্য উপহার কিনতে তাকে সাহায্য করার আরজি জানান ট্রাম্প। তার পর ক্যারল সেই মহিলার বয়স জিজ্ঞেস করেন। সেটা না জানিয়ে বরং ক্যারলের বয়স জিজ্ঞেস করেন ভবিষ্যৎ মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ক্যারল নিজের বয়স ৫২ বছর বলার পর ট্রাম্প তাকে বলেন, “আপনি অনেকটাই বয়স্ক।” সেই সময় ট্রাম্পের বয়স ছিল ৪৯ বছর।

ক্যারলের বক্তব্য, “ট্রাম্প তখন একটি টুপি কেনেন এবং উপহার কেনার নাম করে মলের ওপরের তলায় একটি অন্তর্বাসের দোকানে নিয়ে যান। সেই সময় যেহেতু শপিং মল বন্ধ হচ্ছিল, তাই ওই এলাকায় কেউ ছিল না। ট্রাম্প কয়েকটি অন্তর্বাস ও একটি স্বচ্ছ গাউন নেন এবং আমাকে পরতে বলেন।”

তার শরীরের সঙ্গে পোশাক মানানসই বলেও ট্রাম্প মন্তব্য করেন বলে দাবি ক্যারলের। পাল্টা ট্রাম্পকেই সেগুলো পরতে বলেন তিনি।

ক্যারলের দাবি অনুযায়ী, এরপরই শুরু হয় তার অগ্নিপরীক্ষা। একটি ড্রেসিং রুমের কাছে যেতেই ট্রাম্প তাকে দেওয়ালের সঙ্গে চেপে ধরেন। সেখানেই তাকে চুমু খান। তার পর জোর করে তার অন্তর্বাস খুলে যৌনাঙ্গে হাত দেন। এর পর নিজের প্যান্টের চেনও খুলে ফেলেন। এভাবে মিনিট তিনেক অতিবাহিত হওয়ার পর তিনি রক্ষা পান। কোনো রকমে ধাক্কা দিয়ে ট্রাম্পকে সরিয়ে দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যান।

কিন্তু এত দিন কেন সেই ঘটনা সামনে আনেননি ক্যারল? এমনকি, ২০১৬-১৭ সালে যখন মার্কিন মুলুকে #মিটু আন্দোলনের ঝড় উঠেছিল, তখনো সামনে আসেননি কেন? লেখিকার দাবি, “তার জন্য আমি নিজেকে দোষারোপ করেছি, আমি নীরব ছিলাম এবং আমি ভেতরে-ভেতরে পাপবোধ করেছি।”

নিজের অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে সেই সময় দুই বন্ধুর কাছে ঘটনার বিবরণ দিয়েছিলেন বলেও দাবি করেছেন ক্যারল। ওয়াশিংটন পোস্টের পক্ষ থেকে সেই দুই বান্ধবীর একজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তিনিও স্বীকার করেছেন যে, ক্যারল সেই সময় তাকে ঘটনার কথা বলেছিলেন।

মন্তব্য