| প্রচ্ছদ

আবার উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৩২ বার। প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০১৯ ।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য ফারজানা ইসলামের অপসারণের দাবিতে বুধবার সন্ধ্যায় আবার তার বাসভবন ঘেরাও করেছেন আন্দোলনকারীরা।

এর আগে বুধবার বেলা ১১টায় বিক্ষোভ মিছিল করেন আন্দোলনকারীরা। এতে বিভিন্ন বিভাগের ২৫-৩০ শিক্ষক সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন। বিক্ষোভ মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে সমাবেশ করে। পরে বিকেল ৫টায় উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন তারা।

মঙ্গলবার উপাচার্যের বাসভবনের সামনে ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে ও উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে এবং হল ত্যাগের নির্দেশ অমান্য করে বুধবার বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন তারা।

সমাবেশে আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেছেন, আমরা পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমাদের আন্দোলনকে ধাপে ধাপে এগিয়ে নিয়ে যাব।

তিনি বলেন, 'গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর যে হামলা চালানো হয়েছে এবং চলমান আন্দোলন দমাতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ও হল খালির ঘোষণাকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। একই সঙ্গে আবারও বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করব।'

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব এবং অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহম্মদ বলেন, ‘সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন না হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বাঁচান যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের চিন্তা বাদ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিকশিত হতে দিন’।

তিনি উপাচার্যকে অনুরোধ করে বলেন, ‘যেটুকু সম্মান আছে তা নিয়ে দয়া করে দায়িত্ব ছেড়ে দেন। বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেন’।

এদিকে দুপুর ১২টায় এক জরুরি বৈঠক ডেকে বিকেল সাড়ে ৩টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিষয়ে প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি অধ্যাপক বশির আহমেদ বলেন, এই সময়ের পর আন্দোলনকারী, সাধারণ শিক্ষার্থী, ছাত্রলীগ কেউই হলে থাকতে পারবে না। প্রয়োজন হলে প্রশাসন আবাসিক হলে পুলিশ তল্লাশি চালাবে।

ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। উপাচার্যের বাসভবনের সামনে মোতায়েন করা হয়েছে শতাধিক পুলিশ।

উপাচার্যের বাসার সামনে দায়িত্বরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী তিন শ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে ক্যাম্পাসে দেড় শ পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আর বাইরে রিজার্ভ রয়েছে আরো দেড় শ’।

সন্ধ্যায় আন্দোলনকারীরা বলেন, উপাচার্যের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তারা তাদের অবস্থান থেকে সরবেন না।

আন্দোলনের সমন্বয়ক রায়হান রাইন বলেন, ‘আমরা আন্দোলন বন্ধ করব না। আজকের মতো আমরা এখান থেকে উঠে যাব। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টায় মুরাদ চত্বরে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ করব।’

আন্দোলনের শিক্ষার্থী সংগঠক ও ছাত্র ইউনিয়নের জাবি সংসদের সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয় বলেন, ‘প্রশাসন গায়ের জোরে হল খালি করতে বলেছে। আমরা রাতে হলে থাকার চেষ্টা করব। যদি প্রশাসন বাধা দেয় তাহলে আমরা ক্যাম্পাসের আশপাশে থাকব এবং আগামীকাল ফের আন্দোলন করব।’

মন্তব্য