| প্রচ্ছদ

যে নিয়মে লিটনের বদলে খেলছেন মিরাজ

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৫৫ বার। প্রকাশ: ২২ নভেম্বর ২০১৯ ।

কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে ফ্লাডলাইটের কৃত্রিম আলো আর গোলাপি বলের চ্যালেঞ্জ নিয়ে মুখোমুখী ভারত ও বাংলাদেশ। গোলাপি বলে প্রথম টেস্ট খেলছে দুই দলই। 

ঐতিহাসিক এ টেস্টে একটি বিরল ঘটনার জন্ম দিয়েছেন টাইগার ব্যাটসম্যান লিটন দাস। ইশান্ত শর্মা এবং মোহাম্মদ শামির দুটি বল লাফিয়ে উঠলে দুটিই লিটনের মাথায় আঘাত করে। হেলমেট থাকায় বড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলেও প্রথম সেশনের পর আর ব্যাটিংয়ে নামেননি তিনি। ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ার আগে তিনি করেন ২৪ রান।

লিটন দাসে বদলি হিসেবে নামানো হয় মেহেদি হাসান মিরাজকে; যিনি কিনা একাদশেই ছিলেন না। 

গত ১ আগস্ট থেকে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির প্লেয়িং কন্ডিশনে নতুন একটি ধারা যুক্ত হয়। সেদিন থেকে নারী-পুরুষদের সব আন্তর্জাতিক ম্যাচে চালু হয় ‘কনকাশন রিপ্লেসমেন্ট’ নিয়ম। বিশ্বব্যাপী প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও এ পদ্ধতি প্রযোজ্য হচ্ছে।

এই নিয়ম অনুযায়ী, এরকম মাথায় বা ঘাড়ে আঘাত পাওয়া ক্রিকেটারের বদলি নামতে পারবেন- যিনি করতে পারবেন ব্যাটিং বোলিং সবকিছুই। 

আইসিসির নিয়মটা এক্ষেত্রে আসলে কেমন-

খেলার সময় এবং খেলার নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যে ক্রিকেটার যদি তার ঘাড় বা মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন; যার ফলে তার কনকাশন হতে পারে, সেক্ষেত্রে এই নিয়মের মধ্যে ফেলা যায়। 

এক্ষেত্রে দলের মেডিকেল টিম কনকাশন নির্ধারণ করবে। কোনো ক্রিকেটার কনকাশন টেস্ট উৎরাতে ব্যর্থ হলে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে সে রিপোর্ট জমা দিয়ে একজন বদলির আবেদন করতে পারবে দল। 

বদলি প্লেয়ার কেমন হবে সেটাও বলে দেয়া আছে এই নিয়মে। আইসিসির প্লেয়িং কন্ডিশন অনুযায়ী, বদলি ক্রিকেটারকে হতে হবে ‘লাইক-টু-লাইক’, অর্থাৎ, ব্যাটসম্যানের বদলে ব্যাটসম্যান, পেসারের বদলে পেসার, স্পিনারের বদলে স্পিনার, অলরাউন্ডারের পরিবর্তে অলরাউন্ডার। প্লেয়িং কন্ডিশন অনুযায়ী যেকোনো ক্রিকেটার, যিনি ওই দলের হয়ে খেলার যোগ্যতা রাখেন, তিনিই কনকাশন-বদলি হিসেবে নামতে পারবেন। 

মূলত কনকাশন-বদলি হিসেবে একজনের নাম জমা দেবে সংশ্লিষ্ট দলের মেডিকেল টিম। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ম্যাচ রেফারি। তার সিদ্ধান্ত অপরিবর্তনযোগ্য এবং ওই সিদ্ধান্ত বিরুদ্ধে আপিলও করা যাবে না।

লিটন দাসের পরিবর্তে বাংলাদেশ দল নামিয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজকে। এক্ষেত্র আইসিসির 'লাইক-টু-লাইক' নিয়মটির স্বাভাবিক অনুসরণ হয়নি। কারণ লিটন দাস একজন উইকেট-কিপার ব্যাটসম্যান। তার পরিবর্তে কেবল একজন ব্যাটসম্যানই নামানোর সুযোগ আছে। কিন্তু বাংলাদেশ স্কোয়াডে অতিরিক্ত ব্যাটসম্যান না থাকায় অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরজাকে নামানো হয়।

এখন লিটনের পরিবর্তে ব্যাট করেছেন মিরাজ। কিন্তু তিনি বোলিং করতে পারবেন কিনা ম্যাচের বিবেচনায় সেই সিদ্ধান্ত নেবেন ম্যাচ রেফারি। 

একজন অলরাউন্ডার একজন ব্যাটসম্যানের বদলি হিসেবে নামতে পারেন, তবে সেক্ষেত্রে সেই অলরাউন্ডার শুধু ব্যাটিং করতে পারবেন- এমন নিয়ম বেঁধে দিতে পারেন ম্যাচ রেফারি। কলকাতা টেস্টেও মিরাজ কেবল ব্যাটিং এবং ফিল্ডিং করতে পারবেন। বোলিং করতে পারবেন না। আর যেহেতু লিটন দাসের বদলি হিসেবে মিরাজ এতোমধ্যে খেলা শুরু করেছেন তাই লিটন সুস্থ হয়ে ফিরে আসলেও আর এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না।

মাথায় আঘাত পেলে বদলি খেলোয়াড় নামানোর আলোচনা বেশ কয়েক বছর ধরেই চলেছে। ২০১৪ সালের নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ওপেনার ফিলিপ হিউজ শেফিল্ড শিল্ডে ব্যাটিংয়ের সময় মাথায় আঘাত পেয়ে মারা যান। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ওই ঘটনার তদন্ত করার পরই সচেতন হয়ে উঠেছিল। 

২০১৬-১৭ মৌসুমে ছেলে ও মেয়েদের ঘরোয়া ক্রিকেটে মাথায় আঘাত পাওয়া খেলোয়াড়ের বদলি নামানোর নিয়ম চালু করে অস্ট্রেলিয়া। তবে শেফিল্ড শিল্ডে সেই নিয়ম চালুর জন্য তাদের আইসিসির অনুমতি পাওয়ার অপেক্ষা করতে হয়েছে ২০১৭ সালের মে মাস পর্যন্ত।

মন্তব্য