| প্রচ্ছদ

সুন্দরবন বাঁচানোসহ উপকূলের কৃষি, মৎস্যখাতের টেকসই উন্নয়নের দাবিতে সেমিনার

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
পঠিত হয়েছে ১৬৩ বার। প্রকাশ: ২৩ নভেম্বর ২০১৯ ।

সুন্দরবন বাঁচানোসহ উপকূলের কৃষি, মৎস্যখাতের টেকসই উন্নয়নের দাবিতে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বিসেফ ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ কৃষি সাংবাদিক ফোরাম ও হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড এর যৌথ আয়োজনে শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক নাগরিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

বাপা সভাপতি ও সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ডাঃ আব্দুল মতিন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নাগরিক সেমিনারে বিষয়ভিত্তিক বক্তব্য তুলে ধরেন হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড এর কান্ট্রি ডিরেক্টর আতাউর রহমান মিটন, বাপা’র সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল, বাংলাদেশ কৃষি সাংবাদিক ফোরাম এর সভাপতি আলতাব হোসেন, কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডঃ তারিক হাসান, কৃষি বিজ্ঞানী ডঃ সৈয়দ মনোয়ার হোসেন, ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভারনমেন্ট এর সভাপতি ডাঃ আবু সাঈদ, মৎস্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডঃ সৈয়দ আরিফ আজাদ ও সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক।

সভায় বক্তারা বলেন, 'সুন্দরবন আমাদের ‘মা’। মায়ের মত করে সুন্দরবন সবসময় সকল দুর্যোগে আমাদের আগলে রেখেছে। সেই মায়ের সুরক্ষা নিয়ে কোন সংশয়, কোন ভিন্নমত থাকতে পারে না। সুন্দরবন রক্ষার জন্য স্বতন্ত্র ‘সুন্দরবন গবেষণা ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান’ গড়ে তোলা দরকার। দরকার সুন্দরবন ও উপকূলীয় টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয়ে ‘সমন্বিত উদ্যোগ’। এর জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ থাকতে হবে যাতে করে প্রান্তিক কৃষক, মৎসজীবী ও অন্যান্য পেশার মানুষদের আর্থিক সহায়তা দিয়ে জীবনযাত্রার মানের টেকসই উন্নয়ন সাধন করা সম্ভব হয়।'

বক্তারা আর বলেন, 'অতীতের ন্যায় এবারও সুন্দরবন আমাদের প্রাণ বাঁচিয়েছে। অথচ আমরা সুন্দরবন ধ্বংসে সহায়তা করছি। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আমরা গাছ লাগাইয়া সুন্দরবন পয়দা করি নাই, স্বাভাবিক অবস্থায় প্রকৃতি এটাকে করে দিয়েছে বাংলাদেশকে রক্ষা করার জন্য’। আমাদের এমন কোন কাজ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে করা উচিত নয় যা সুন্দরবন ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের জীব-বৈচিত্র্য ধ্বংস করে দেয়।'

নাগরিক সেমিনারে সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক বলেন, যে কৃষকের মেধা ও ঘামে বাংলাদেশ খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ সেই কৃষক সমাজই আজ বঞ্চিত। এবারের ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর তান্ডবে কৃষিতে এবার প্রায় ৮০১ কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতি হলেও কৃষকদের পুনর্বাসনে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে মাত্র কিছু বীজ ও সামান্য সার। দেশের একটি ধনীক গোষ্ঠীর নেয়া প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা ঋণ মওকুফ করা হলেও সরকার কৃষককে যথেষ্ঠ প্রণোদনা বা শূন্য হার সুদে ঋণ দিতে আগ্রহী নয়। ‘বুলবুল’ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কৃষি, মৎস্য ও প্রাণীসম্পদখাতের পুনর্বাসনে সরকারের উচিত অবিলম্বে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা। উপকূলের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ রক্ষায় মনযোগ না নিলে আগামীতে দেশের খাদ্য স্বয়ম্ভরতা হুমকির সম্মুখে পতিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সুন্দরবনসহ উপকূলের কৃষি ও মৎস্যখাতের উন্নয়নে সরকার চাইলে নাগরিক সমাজ তাদের মতামত ও অভিজ্ঞতা দিয়ে সরকারকে টেকসই পরিকল্পনা প্রণয়নে সহযোগিতা করতে পারে। সুন্দরবনসহ উপকূলের টেকসই উন্নয়নে ব্যর্থ হলে আগামী প্রজন্মের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। জাতিসংঘ ঘোষিত ‘ক্লাইমেট ইমারজেন্সী’ মোকাবেলায় নাগরিক সমাজকে সচেতন উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। আমাদের পরিবেশ আমাদের স্বার্থেই রক্ষা করতে হবে। আমরা ব্যর্থ হলে বিপদে পড়বে আমাদের প্রিয় ভবিষ্যত প্রজন্ম। চেতনাগত প্রতিবন্ধকতা যেন আমাদের গ্রাস না করে ফেলে সে ব্যাপারে আমাদের সজাগ হতে হবে। সবার আগের পরিবেশ। প্রকৃতি ও প্রাণের ভারসাম্য রক্ষায় সকলকে নির্মোহভাবে এগিয়ে আসতে হবে। এটি আমাদের নাগরিক কর্তব্য।

মন্তব্য