| প্রচ্ছদ

ধর্ষকদের পিটিয়ে মারতে বলে বিতর্কে জয়া

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৪৮ বার। প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯ ।

সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ও বলিউড অভিনেত্রী জয়া বচ্চন সোমবার বলেন, ধর্ষণকারীদের জনসমক্ষে পিটিয়ে মারা উচিত। তেলেঙ্গানায় পশু চিকিৎসককে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনা নিয়ে আলোচনার সময় রাজ্যসভায় দাঁড়িয়ে এভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

প্রশ্ন উঠেছে, আইনসভার একজন সদস্য কীভাবে আমজনতাকে আইন হাতে তুলে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন? সমালোচকদের মতে, গণপিটুনি নিয়ে জয়ার বক্তব্য সেকেলে ও হাস্যকর।

সংসদে কেউ চেয়েছেন মৃত্যুদণ্ড, কেউ বলেছেন লিঙ্গচ্ছেদ করা হোক অপরাধীদের। আর জয়ার দাবি, ‘‘আপনারা যদি নিরাপত্তা দিতে না পারেন, তা হলে মানুষের হাতে বিচারের ভার ছেড়ে দিন। এই ধরনের লোকজনকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে মারা উচিত।’’

জয়াকে এ দিন সমর্থন করেন লোকসভার তৃণমূল সাংসদ মিমি চক্রবর্তী। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘‘ওনার সঙ্গে আমি একমত। আমি মনে করি না, ধর্ষকদের নিরাপত্তা দিয়ে আদালতে নিয়ে যাওয়া এবং বিচারের জন্য অপেক্ষা করা উচিত। অবিলম্বে সাজা দিতে হবে।’’

মিমির বক্তব্যে ক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতৃত্ব জানায়, অভিনেত্রী যা বলেছেন, তা তার ব্যক্তিগত মত। তৃণমূল চায় ধর্ষকদের দ্রুত শাস্তি হোক, কিন্তু তা বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে।

সমালোচকদের বক্তব্য, জয়া সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মতো নিয়ে কঠোর আইন প্রণয়নে সরকারকে পরামর্শ দিতে পারতেন। নারীদের নিরাপত্তা বাড়াতে কী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, পুলিশের কী করা উচিত তা-ও বলতে পারতেন। কিন্তু তা নাকরে তিনি প্রতিহিংসার পথই দেখালেন, তাও সংসদে দাঁড়িয়ে।

গত কয়েক বছরে কখনো গরুর গোশত খাওয়া, কখনো চোর বা শিশুচোর সন্দেহে, কখনো বা ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান না-দেওয়ায় গণপিটুনির ঘটনা নিয়ে তোলপাড় হয়েছে ভারতে। অধিকাংশ সময় অভিযোগের আঙুল উঠেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দলের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তাকে খোলা চিঠিও দিয়েছেন বিশিষ্টজনেদের একাংশ।

মন্তব্য