| প্রচ্ছদ

সংস্কারের অভাবে

নওগাঁর আবাদপুকুরে ডাকঘরেরর কার্যক্রম চলছে ফলের দোকানে !

কাজী আনিছুর রহমান, রাণীনগর (নওগাঁ)
পঠিত হয়েছে ৭৭ বার। প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯ ।

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার সদর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার পূর্বে জনগুরুত্বপূর্ণ এবং বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে পরিচিত আবাদপুকুর হাটে স্থাপিত মাটির  ঘরের পোস্ট অফিসটি। তিন মাস আগে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝড়ের কারণে এই ঘরটি ভেঙ্গে পড়ে। ফলে সংস্কারের অভাবে দাপ্তরিক কার্যক্রম চলছে একটি ফলের দোকানে।

গ্রাম থেকে সেবা নেওয়ার জন্য আসা গ্রাহকরা প্রথমে এই ভাঙাচূড়া ঘর দেখে থমকে দাঁড়ায়। পরে স্থানীয় দোকানীদের সহযোগীতায় পোস্ট আফিস খুঁজে পায় একটি ফলের দোকানে।

আবাদপুকুর হাট শাখা পোস্ট অফিস হিসেবে প্রতি মাসে পায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা রাজস্ব আয় হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-নজরের অভাবে প্রতিষ্ঠাকাল থেকে মাটির ঘরে কার্যক্রম চললেও ওই অফিসের সকল স্টাফ ও সেবা নিতে আসা গ্রাহকরা ঝুঁকিপূর্ণ মাটির ঘরে রাষ্টের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছিলো। ঘরটি ভেঙ্গে পড়ায় নির্ধারিত ভাড়ায় কোন ঘর না পাওয়ার জন্য এক স্টাফের ফলের দোকানে চলছে এর কার্যক্রম। এলাকাবাসি বলছে স্থানীয় সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম ও কালিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামসহ মান্যগন্য ব্যক্তিবর্গরা উদ্যোগ নিলে পোস্ট অফিসের একটি পাকা ভবন তৈরি করলে এই অফিসের সেবার মান আরো বৃদ্ধি পাবে।

জানা গেছে, পাকিস্তান সরকারের আমলে রাণীনগর উপজেলার পূর্ব অঞ্চলের সুবিধা বঞ্চিত বিশাল জনগোষ্ঠীর ডাক বিভাগের সেবার আওতায় আনার লক্ষ্যে তৎকালীন সময়ে আবাদপুকুর একটি সাব-পোস্ট অফিস স্থাপন করা হয়। এই অফিসের পার্শ্ববর্তী এলাকায় বসবাসরত গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের প্রচেষ্টায় কালীগ্রাম মৌজার এক নম্বর খাস খতিয়ান ভূক্ত দুই শতক জমির উপর বাঁশের বেড়া দিয়ে ছোট্ট একটি ঘর তৈরি করে পোস্ট অফিস তার গ্রাহক সেবার কাজ শুরু করে। ওই দুই শতক জমি এক পর্যায়ে পোস্ট অফিসের নামেই রেকর্ড ভূক্ত হয়ে যায়। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে এই ঘরটি কয়েক দফা ভেঙ্গে গেলেও স্থানীয় কিছু প্রতিষ্ঠান প্রেমী ব্যক্তির একান্ত প্রচেষ্টায় ডাক বিভাগের সেবার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার কথা ভেবে কয়েক দফায় আর্থিক সহযোগীতায় বাঁশের ঘর থেকে মাটির দেয়াল দিয়ে ঘরটি তৈরি করা হয়।

পোস্ট মাস্টার, পোস্ট ম্যান ও এক জন রানার নিরলস ভাবে গ্রাহক সেবা দিয়ে প্রতি মাসে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা রাজস্ব আয় করলেও উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে ইট দিয়ে নিজস্ব ভবন তৈরি করতে না পারায় এই পোস্ট অফিসটি রুগ্ন দশা থেকে মুক্ত পাচ্ছে না। উপজেলার কালীগ্রাম, একডালা ইউনিয়ন, বগুড়া জেলার আদমদিঘী উপজেলার চাপাপুর ইউনিয়নের আংশিক সহ প্রায় ৬০টি গ্রামের বাসিন্দাদের জরুরি ডাক সেবা প্রদান করে যাচ্ছে এই অফিসটি। ইতিমধ্যেই শাখাটি ডিজিটাল করণের লক্ষ্যে একটি ল্যাপটপ, পিন্টারসহ বিভিন্ন উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে তথ্যপ্রযুক্তির যুগে আধুনিক জিনিসপত্র ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তবে ব্যবহারের সহজলব্য হওয়ায় ইলেকট্রোনিক ম্যানি অর্ডার (ইএমও) সার্ভিস গ্রহদের টাকা-পয়সা লেনদেনের সুবিধার্থে চালু হওয়ায় ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।

আবাদপুকুর পোস্ট অফিস মাস্টার এমদাদুল আলম জানান, এই প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পাকা ভবনের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম এম.পির সুপারিশ সহ ২০১২ সালে নিঃকন্ঠক জমির জন্য জেলা প্রশাসকের বরাবরে আবেদন করলে তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে আর্থিক বরাদ্দের প্রযোজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আদেশ দিলে ফাইলটি আমি নিজে ডেপুটি পোস্ট মাস্টার জেনারেল বগুড়া ডিভিশনে জমা দিই। সেখান থেকে পোস্ট মাস্টার জেনারেল উত্তর অঞ্চল রাজশাহীতে প্রেরণ করলে ফাইলটি এখন পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। ইতি মধ্যে ঝড়ের কারণে গত তিন মাস আগে মাটির ঘরটি ভেঙ্গে পড়ায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নষ্ট হলেও গ্রাহক সেবা চালু রাখার লক্ষ্যে আমার এক অফিস স্টাফ নয়নের ফলের দোকানে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। 

মন্তব্য