| প্রচ্ছদ

বগুড়া পৌরসভার হতাশার বাজেট: অবকাঠামো উন্নয়নে প্রয়োজন ২০০ কোটি আর সরকারি বরাদ্দ পৌণে ২ কোটি টাকা !

পুণ্ড্রকথা রিপোর্ট:
পঠিত হয়েছে ৬৮৮ বার। প্রকাশ: ১২ মে ২০১৮ । আপডেট: ১২ মে ২০১৮ ।

বগুড়া শহরের বেহাল সড়কগুলোর উন্নয়নে বরাদ্দ ছাড়াই ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরের পৌরসভার বাজেট ঘোষণা করলেন মেয়র অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবুর রহমান। এতে বাজেট বক্তৃতা শুনতে যাওয়া নাগরিকরা হতাশ হয়েছেন। শনিবার সকালে পৌরসভা মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং নাগরিকদের সামনে ৫০ কোটি ৩৯ লাখ ১৭ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়। বাজেট ঘোষণার আগে উপস্থিত সবার হাতে নতুন এবং বিদায়ী অর্থ বছরের তুলনামূলক আয়-ব্যয়ের পরিসংখ্যান সম্বলিত বই সরবরাহ করা হয়।

প্রায় দেড়শ’ বছরের প্রাচীন বগুড়া পৌরসভায় বসত-বাড়ি থেকে আদায় করা করসহ বিভিন্নখাতে প্রতি বছর ১২ কোটি টাকা আদায় করা হয়। অন্যদিকে পৌরসভার মেয়র এবং কাউন্সিলরদের ভাতা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাবদ বছরে ব্যয় হয় প্রায় ৯ কোটি টাকা। উদ্বৃত্ত ৩ কোটি টাকা দিয়ে প্রায় ৭০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের পৌরসভার রাস্তা-ঘাট উন্নয়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পৌরসভার ৬০ শতাংশ সড়কের অবস্থায় এখন বেহাল। তাছাড়া নতুন ৭টি ওয়ার্ডে এখনও ন্যুনতম নাগরিক সুবিধা সৃষ্টি করা সম্ভব হয়নি। উল্টো মুল শহরের সড়কে সড়ক বাতি জ¦ালানোর জন্য বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কাছ থেকে কেনা বিদ্যুতের বিলই পরিশোধ করতে পারছে না পৌরসভা। যে কারণে গেল কয়েক বছরে প্রায় ২২ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়াও পড়েছে।

শনিবার বাজেট বক্তৃতা শেষে নাগরিকদের প্রশ্নের জবাবে মেয়র প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নয়ন কাজ করতে না পারার কথা স্বীকার করেন। তবে তিনি এর দায় সরকারের ওপর চাপিয়ে বলেন, পৌরসভার আয়তন এবং জনসংখ্যা অনুপাতে সামগ্রিক অবকাঠামো উন্নয়নে অন্তত ২০০ কোটি টাকা প্রয়োজন। কিন্তু সেই তুলনায় সরকারি কোন সহায়তা কিংবা অনুদান মিলছে না। উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বিদায়ী অর্থ বছরে সরকারি তরফে বরাদ্দ মিলেছে মাত্র ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। স্বল্প এই বরাদ্দ দিয়ে কোন কাজ করা সম্ভব হয় না। যে কারণে বর্ধিত পৌর এলাকার বেশিরভাগ রাস্তাই কাঁচা এবং শহরের যে সব রাস্তা আগে করা হয়েছে সেগুলোও নিয়মিত সংস্কারের অভাবে চলাফেরা করা দুর্বিসহ হয়ে পড়েছে।’

তবে বাজেট বক্তৃতায় মেয়র অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমান তাঁর কিছু উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২১টি ওয়ার্ডে একটি করে শিশু পার্ক, শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় শিক্ষার্থী ও যাত্রী ছাউনি, শহরের কেন্দ্রস্থল সপ্তপদী মার্কেট ভেঙ্গে ২০ তলা বিশিষ্ট বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

বাজেট পেশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত বগুড়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী নারীদের উন্নয়ন এবং প্রতিটি পাড়া মহল্লায় সাংস্কৃতিক কর্মকা- এবং খেলাধুলার জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখার দাবি জানান। তিনি এসব খাত বাজেটে অন্তর্ভূক্ত  রাখার সুপারিশ কর বলেন, ‘বগুড়া শহরকে পরিছন্ন রাখা এবং শহরকে অন্য জেলার মানুষের নিকট তুলে ধরতে বগুড়াবাসীকেই আগে এগিয়ে আসতে হবে। সবকিছু সরকারের উপর নির্ভর করে থাকলে চলবেনা। উন্নয়নের জন্য নিয়মিত পৌরকর প্রদান করা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।’ বাজেট বক্তৃতাকালে অন্যান্যের মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক সুফিয়া নাজিমসহ প্যানেল মেয়র এবং কাউন্সিলরবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য