| প্রচ্ছদ

গ্রামাঞ্চলে শিক্ষা ও মানবিকতার প্রসারে কাজ করছে বগুড়ার এডুকেশন ফাউন্ডেশন

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
পঠিত হয়েছে ৩৬৫ বার। প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারী ২০২০ ।

বাংলাদেশের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া উপজেলার জিয়ানগরের (শহর থেকে ২৭ কিলোমিটার দূরে) এক ঝাঁক মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীর দ্বারা গঠিত ‘এডুকেশন ফাউন্ডেশন’। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সংগঠনটি পল্লী এলাকার স্কুল-কলেজে পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছে। ২০১০ সালে অফিসিয়ালি প্রতিষ্ঠিত হলেও এই সংগঠনে জড়িত অনেক ভলান্টিয়ার ২০০৪ সাল থেকেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে এলাকায় শিক্ষা বিস্তারে কাজ করছে। বর্তমানে প্রায় ৭১ টি প্রতিষ্ঠানে এডুকেশন ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।যাতে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে প্রায় ২০ হাজার ছাত্র-ছাত্রী যুক্ত রয়েছে। শিক্ষার প্রসার তথা এলাকার শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে এডুকেশন ফাউন্ডেশনের সুদুরপ্রসারী পরিকল্পনা  রয়েছে। এডুকেশন ফাউন্ডেশন এমন কিছু ভাল মানুষ তৈরি করতে চায়- যারা অগ্রজদের মতই একই কাজ করতে থাকবে।

সদ্য সমাপ্ত ২০১৯ সালে এডুকেশন ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম পাশের জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর উপজেলায় সম্প্রসারণের পর এখন বগুড়া জেলা সদর সংলগ্ন শাহজানপুর উপজেলার খরনা এবং গোহাইল ইউনিয়নের কয়েকটি স্কুলেও ছড়িয়ে পড়েছে। 

এডুকেশন ফাউন্ডেশন তার সদস্যদের পাশাপাশি এই সংগঠনে সহায়তা করে থাকেন-এমন ডোনারদের সহায়তায় গেল বছর সব কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। সত্যি কথা বলতে কি ডোনারদের সহায়তা এডুকেশন ফাউন্ডেশনকে আরও বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখিয়েছে। এজন্য তাদের কাছে সংগঠনের প্রতিটি সদস্য কৃতজ্ঞ। বছর শেষে যে হিসাব পাওয়া গেছে তাতে দেখা যাচ্ছে এ পর্যন্ত ১০ লাখ ২ হাজার ৫৮৬ টাকার ডোনেশন বা আর্থিক সহায়তা মিলেছে। খরচ করা হয়েছে ৯ লাখ ৯১ হাজার ১১২ টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানবিক খাতে খরচ হয়েছে ৫ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯০ টাকা। আর শিক্ষা খাতে খরচ হয়েছে ৪ লাখ ৫২ হাজার ৩২২ টাকা। এডুকেশন ফাউন্ডেশন আশা করে বিগত বছরের মত ২০২০ সালেও সবার সহায়তা অব্যাহত থাকবে ।

এডুকেশন ফাউন্ডেশনের চলমান প্রকল্পগুলোর বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো-

১. মেধা যাচাই পরীক্ষা:
এডুকেশন ফাউন্ডেশন প্রতি বছরই গণিত, কুইজ এবং উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে, যা সংগঠনের সবচেয়ে বড় আয়োজন। এই প্রতিযোগিতায় প্রাথমিক, জুনিয়র এবং মাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীরা 
অংশগ্রহণ করে থাকে। নিয়ম অনুযায়ী অনুষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে দিক নির্দেশনামূলক বক্তৃতা দেন আগের বছর পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়া এডুকেশন ফাউন্ডেশনের সদস্যরা। এই প্রতিযোগিতার প্রশ্নগুলো দেশের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার আদলে করা হয়। যে কারণে এ ধরনের পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করা শিক্ষার্থীরা দেশের পাবলিক ইউনিভার্সিটিগুলোতে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে। গেল বছর  ৩টি সেন্টারে প্রায় ৫৫ টি প্রতিষ্ঠানের ৯৮০ জন ছাত্র-ছাত্রী পরীক্ষা দিয়েছে । এডুকেশন ফাউন্ডেশনের মেধা যাচাই পরীক্ষা নিজ এলাকার গণ্ডি পেরিয়ে বগুড়ার শাহজানপুর উপজেলাতেও অনুষ্ঠিত হয়েছে । তাতে প্রায় ১৬ টি প্রতিষ্ঠানের ২২৯ জন ছাত্র-ছাত্রী অংশ নেয়।

২.এডুকেশন ফাউন্ডেশন স্টুডেন্ট অফ দি ইয়ার:
ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির সব চেয়ে ভালো স্টুডেন্টকে (সার্বিক দিক দিয়ে ভালো মানুষ) খুঁজে বের করে অনুপ্রেরণা দেয়ার জন্যেই এই পুরস্কারের প্রবর্তন করাে হয়েছে।
 এতে স্কুলের সব ভালো শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি সুস্থ নীরব প্রতিযোগিতা থাকবে। এখানে গড় নম্বরের পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের ভালো ব্যবহার এবং এক্সট্রা কারিকুলামের দিকে মনোযোগ দেয়া হয়- যাতে করে তারা নিজেদের ভালো মানুষ হিসাবে গড়ে তুলতে পারে। এডুকেশন ফাউন্ডেশন মনে করে,একজন ভালো শিক্ষার্থী হওয়ার চেয়ে ভালো মানুষ হওয়া অনেক বেশি জরুরি। আচার-ব্যবহার এবং এক্সট্রা কারিকুলামের উপর উক্ত প্রতিষ্ঠানের ৩ জন শিক্ষক আবেদনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের নম্বর দেন।এভাবে সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত (পরীক্ষার্থীর গড় নম্বর + আচার ব্যবহার + এক্সট্রা কারিকুলাম+ এডুকেশন ফাউন্ডেশনের মেধা যাচাই পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর) ছাত্র-ছাত্রীদের ১ম, ২য় ও ৩য় বিজয়ী হিসাবে ঘোষণা করা হয়। ২০১৯ সালে ৪৩ টি উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ধরনের পুরষ্কার দেওয়া হয়েছে।

৩.এডুকেশন ফাউন্ডেশন দীর্ঘমেয়াদি মেধা বৃত্তি:
এলাকার অদম্য মেধাবী এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল ছাত্রছাত্রীদের জন্য ২০১৮ সালে এই বৃত্তি দেয়া শুরু হয় । ২০১৯ সালে অন্তত ১০ শিক্ষার্থীর জন্য এই বৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২০২০ সালেও এই বৃত্তির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। বিভিন্ন বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী যারা আর্থিকভাবে অসচ্ছল তাদের বেশির ভাগের (মেয়ে) বিয়ে হয়ে যায় হাইস্কুলে নয়তো কলেজ পড়ার সময়।তাছাড়া ছেলেরা পড়াশুনা বাদ দিয়ে অন্য পেশায় ঝুঁকে পড়ে- যাতে তারা পরিবারকে সহায়তা করতে পারে। এমন অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে 
এডুকেশন ফাউন্ডেশন দাতাদের সহায়তায়  তাদেরকে মাসিক বৃত্তির আওতায় নিয়ে এসেছে। কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজায় পৌঁছে দেবার আগে পর্যন্ত এই সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে।

৪.এডুকেশন ফাউন্ডেশন শিক্ষা মেলা:
এডুকেশন ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এবারই প্রথম ‘ভার্সিটি এডমিশন তথ্য মেলা’র আয়োজন করা হয়। ‘মেডিকেল এডমিশন স্টল’, ‘ইঞ্জিনিয়ারিং এডমিশন স্টল’ ও ‘ভার্সিটি এডমিশন স্টল’ নামে তিনটি স্টলে
 অভিভাবক এবং ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা ভর্তি সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য এবং পড়াশুনা সংক্রান্ত দিকনির্দেশনা পেয়েছে।

৫.এডুকেশন ফাউন্ডেশন সেমিনার:
এই সেমিনারের মূল উদ্দেশ্য হলো ছাত্র ছাত্রীদের দিক নির্দেশনা দেয়া। প্রতি স্কুলে গিয়ে গিয়ে এই সেমিনার করা হয়। ২০১৯ সালের সেমিনারের থিম ছিল "Guidelines of Admission into Public Universities for Rural Students." ২০১৯ সালে প্রায় ৪৩ টি মতো স্কুল কভার করা হয়েছে।

৬.এডুকেশন ফাউন্ডেশন ফ্রি ক্লাস:
গ্রামীণ এলাকার ছাত্র-ছাত্রীদের এগিয়ে নিতে এডুকেশন ফাউন্ডেশনের একটি প্রকল্প হলো-
এডুকেশন ফাউন্ডেশন ফ্রি ক্লাস। গেল বছর ১৯ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত জিয়ানগর প্রাইমারি স্কুলে মেডিকেল, বুয়েট , রুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এডুকেশন ফাউন্ডেশনের সদস্যরা নবম – দশম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের পদার্থ, রসায়ন এবং জীববিজ্ঞান বিষয়ের উপর ফ্রি ক্লাসের ব্যবস্থা করে।

৭.অসহায় মানুষের পাশে এডুকেশন ফাউন্ডেশন:
২০১৯ সালে ক্যানসার আক্রান্ত জটিল রোগী, পা ভাঙ্গা,  রক্ত শূন্যতা, স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগী, ছেলের মৃত্যুতে শোকাহত মা- এরকম মানুষের পাশে থেকে এডুকেশন ফাউন্ডেশন আর্থিক ও মানসিক ভাবে সহায়তা প্রদান করেছে।

৮.এডুকেশন ফাউন্ডেশন ক্লাসরুম লাইব্রেরি:
এডুকেশন ফাউন্ডেশনের নতুন একটি প্রজেক্ট ‘ক্লাসরুম লাইব্রেরি’। প্রতিটি ক্লাসরুম হবে একেকটি লাইব্রেরি। জ্ঞানের সমুদ্র। ২০১৯ সালে ৫টি প্রতিষ্ঠানে সমসংখ্যক ক্লাসরুমকে লাইব্রেরিতে রূপান্তর করা হয়েছে। আগামী বছরগুলোতে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে ক্লাসরুম লাইব্রেরির ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

৯.এডুকেশন ফাউন্ডেশন শিক্ষা সচেতনা প্রোগ্রাম:
এমন অনেক গ্রাম আছে যেখানে শিক্ষার হার খুবই কম। শিক্ষা নিয়ে মানুষের আগ্রহ তেমন নেই। হাতে গোনা কয়েকজন শিক্ষিত মানুষ। এসব গ্রামে এডুকেশন ফাউন্ডেশন টিম গিয়ে অভিভাবক এবং ছেলে মেয়েদের শিক্ষা সচেতন করতে তাদের সাথে কথা বলে এবং বিভিন্ন ধরণের দিক নির্দেশনা দিয়ে থাকে ।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:
২০২৫ সালের দিকে এডুকেশন ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে একটি স্কুল বানানোর স্বপ্ন আছে, যাতে করে গ্রামের ছেলে-মেয়েরা মান সম্মত শিক্ষা পায়। বাড়ছে এডুকেশন ফাউন্ডেশনের কার্যপরিধি। প্রথমে একটি ইউনিয়ন দিয়ে শুরু হলেও প্রতি বছর নতুন নতুন প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। ২০২০ সালে নতুন ১০টি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা হবে।

আপনারা এডুকেশন ফাউন্ডেশনের কাজগুলো দেখতে পারেন এডুকেশন ফাউন্ডেশনের ফেইসবুক পেজে অথবা এডুকেশন ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে। এডুকেশন ফাউন্ডেশনের ফেইসবুক পেজ :
https://www.facebook.com/EducationFoundationBangladesh
এডুকেশন ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট:
http://efcharity.org/gallery.html

মন্তব্য