| প্রচ্ছদ

শত বছরের ঐতিহ্য

নওগাঁর শীতাতলার মেলায় ছিল পর্যাপ্ত দেশী মাছের আমদানী

নওগাঁ প্রতিনিধি
পঠিত হয়েছে ৪৬ বার। প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারী ২০২০ ।

নওগাঁর আত্রাইয়ে শুরু হয়েছে তিনদিনব্যপী ঐতিহ্যবাহী শীতাতলার মেলা। পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে বুধবার সন্ধ্য থেকে থেকে শুরু হয়েছে এই মেলা। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য অনুযায়ী পৌষ মাসের শেষ দিন থেকে শুরু হয়ে মাঘ মাসের দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত চলে এই মেলা।  এই মেলায় বিশেষ করে বৌ ঝি’রা বেশী অংশ গ্রহন করে বলে এই মেলাকে বৌ মেলা হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়ে তাকে স্থানীয়ভাবে। আত্রাই উপজেলার উপজেলার ভোঁ-পাড়া ইউনিয়নের জামগ্রাম মাঠে একটি প্রাচীন বিশাল বটবৃক্ষের তলায় এই মেলার আয়োজন করা হয়। যুগ যুগ থেকে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এইু এতিহ্যবাহি সীতাতলার মেলা। স্থানীয়ভাবে প্রাচীন কাল থেকেই জনশ্রুতি রয়েছে যে কয়েক যুগ আগে নারায়ন চন্দ্র তার স্ত্রী শীতাকে জামগ্রামের এ মাঠে বনবাস দিয়েছিলেন। সীতা এই বটবৃক্ষের তলায় অঅশ্রয়গ্রহন করেছিল। সেই কারনে এই মেলাকে সীতাতলার মেলা হিসেবে নামকরন করা হয়। 


এখানে সেই প্রাচীন যুগের একটি ইদাঁরা (কুয়া) স্মৃতি হিসেবে আজও বিদ্যমান। আর এ ইদাঁরার (কুয়া) জলে নাকি শীতা স্নান করতেন। তারই স্মরণে হিন্দু সম্প্রদায় পরবর্তীতে এই জামগ্রামে মেলা বসিয়ে বিমেষ করে পৌষ সংক্রান্তির দিনে পূঁজা অর্চনার মধ্য দিয়ে এই স্থানটিকে ধর্মীয়ভাবে স্মরণ করে আসছেন সনাতন ধর্মাবলম্বিরা। ইতি পূর্বে এটি হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে এটি আর হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমা বদ্ধ নেই। এ মেলাতে এখন হিন্দু মুসলিম সকলেই অংশ গ্রহন করেন। এ ছাড়াও মেলাটিকে ঘিরে এলাকায় এখন উৎসবমুখর হয়ে পড়ে। এলাকার বাড়িতে বাড়িতে মেয়ে জামাই,আত্মীয় স্বজন, বন্ধুবান্ধব  বেড়াতে আসে। পিঠা পুলি মিঠাই সহ রকমারী খাবারের আয়োজন করা হয়। এই মেলায় প্রচুর মাছের আমদানী হয়ে থাকে। যেহেতু নদী এবং বিলাঞ্চল এটি সেহেতু নদী এবং বিভিন্ন বিল থেকে প্রচুর মাছ এই মেলায় বিক্রির জন্য নিয়ে আসা হয়।


জামগ্রাম এবং আশ-পাশের গ্রামের জামাই’রা হচ্ছে ওই মেলার মূল ক্রেতা ও দর্শনাথী। তা ছাড়া এই মেলাকে ঘিরে এলাকার জামাইদের মধ্যে চলে এক নীরব প্রতিযোগীতা। আর এই প্রতিযোগীতাটি হচ্ছে কোন জামাই সব চেয়ে বড় মাছটি কিনে শ^শুর বাড়িতে নিয়ে যেতে পারে। মেলার প্রথম দিনে একটা মাছকে ঘিরে ক্রেতা জামাইদের ভীষন জটলা। ৬/৭ কেজি ওজনের একটি চিতল মাছ। ক্রেতাদের মধ্যে স্থানীয় জামগ্রাম এলাকার জামাই আলীমুদ্দিন শেখ মাছটির দাম সর্বোচ্চ ৮হাজার ৪শ টাকা দাম হেঁকেছেন। কিন্তু বিক্রেতা আরো বেশি দাম পাওয়ার আশায় মাছটি ছাড়ছেন না। চলে দরকষাকষি।   
এ মেলায় উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত ছাড়াও পার্শ্ববর্তী নাটোর, জয়পুরহাট, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, পাবনা জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছেন প্রচুর দর্শনার্থী  জেলার সবচেয়ে বড় এই মাছের মেলায়।  এখানে স্থানীয় মাছ ছাড়াও এসেছে বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ।

 
জামগ্রাম শীতা তলা মেলার আয়োজকরা জানান, এ মেলাটি প্রথম অনুষ্ঠিত হতো খুবই ক্ষুদ্র পরিসরে। এটি অগ্রাহায়নের ধান কাটা শেষে পৌষ-সংক্রান্তি ও নবান্ন উৎসবে আয়োজন করা হতো। শতাধিক বছর ধরে মেলাটি আয়োজন করা হয়ে আসছে। সময়ের সাথে সাথে এ মেলাটি একটি সার্বজনীন উৎসবে রুপ নিয়েছে। মেলার আয়োজক কমিটির সদস্য মোসলেম উদ্দিন ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল হানিফ জানান,বৃটিশ শাসনামল থেকে শুরু হওয়া জামগ্রামের শীতা তলার মেলা এখন ঐতিহ্যবাহী মেলা হিসেবে রুপ নিয়েছে। এ মেলা আত্রাই উপজেলার মধ্যে সব চেয়ে বড় মেলা হিসেবে স্বীকৃত।


মাছের মেলা সংলগ্ন ভোঁ-পাড়া ইউনিয়নের সোনাইডাঙ্গা গ্রামের সিরাজ উদ্দিন মৃধা জানান, মাছের মেলাটি এ অঞ্চলের ঐতিহ্যের ধারক। মেলায় বেচা কেনা যতই হোক এ মেলা আমাদের ঐতিহ্যকে বহন করছে এটাই সবচেয়ে বড় কথা। মেলা উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা রয়েছে।

আত্রাই থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোসলেম উদ্দিন বলেন, মেলায় কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে এ জন্য সার্বক্ষণিক সেখানে পুলিশী টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মন্তব্য