| প্রচ্ছদ

যে বার্তা পেয়ে ইউক্রেনের বিমান বিধ্বস্ত করে ইরান

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৪১ বার। প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারী ২০২০ ।

সীমান্তে মার্কিন যুদ্ধবিমান উড়ার খবরে ঘাবড়ে গিয়ে ইউক্রেনের বিমান বিধ্বস্ত করেছে ইরান।

এ মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। খবর রুশ সংবাদমাধ্যম স্পুটনিক নিউজের।

ল্যাভরভ বলেছেন, ওই সময় ইরান সীমান্তে অত্যাধুনিক ছয়টি মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ উড়ছিল বলে সংবাদ পায় ইরানের প্রতিরক্ষা দফতর। আর এ বার্তা পেয়ে ঘাবড়ে যায় তারা। তাই কোনো বাঁধবিচার না করেই তেহরানে উড্ডয়নরত ইউক্রেনের যাত্রীবাহী বিমানটি ভূপাতিত করে তারা।

শুক্রবার রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে বার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে এসব মন্তব্য করেন ল্যাভরভ।

তবে মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ সত্যি সত্যি ইরান সীমান্তে উড়ছিল কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান ল্যাভরভ।

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী যোগ করেন, আমাদের গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, গত ৮ তারিখে ইরাকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর ইরান যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কা করছিল। সে জন্য তারা বেশ সর্তক ছিল। এরইমধ্যে সীমান্তে মার্কিন যুদ্ধবিমান ওড়ার সংবাদে ইরানের বিপ্লবী গার্ড ভুলবশত ইউক্রেনের বিমানকে ভূপাতিত করে।

প্রসঙ্গত গত ৮ জানুয়ারি ভুলবশত ইউক্রেনের একটি যাত্রীবাহী বিমান গুলি করে ভূপাতিত করে তেহরান। কিয়েভগামী ইউক্রেনের আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস বোয়িংয়ের ৭৩৭-৮০০-তে ১৭৬ যাত্রী ছিল।

যেখানে ইরানের ৮২ জন, কানাডার ৫৭, ইউক্রেনের ১১, সুইডেনের ১০, আফগানিস্তানের চারজন এবং যুক্তরাজ্যের তিনজন নিহত হন।

এমন ঘটনায় তেহরানে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

বিক্ষোভ থামাতে গত বুধবার জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।

ইরানে মতানৈক্যের বিরল দৃষ্টান্তের মধ্যেই কীভাবে বিমানটি ভূপাতিত হয়েছে, তার পূর্ণ বিবরণ দিতে সামরিক বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রুহানি।

গত ৩ জানুয়ারি বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন ইরানি জেনারেল ও কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানি।

তাকে হত্যার দায় স্বীকার করে হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিবৃতি দেন, ঈশ্বর আমাদের পাশে রয়েছেন।

এর পরই জেনারেল সোলাইমানি হত্যার প্রতিশোধে গত ৮ জানুয়ারি ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায় তেহরান। এর কয়েক ঘণ্টার পরই ইউক্রেনের যাত্রীবাহী বিমানটিকে ভুলবশত ভূপাতিত করেন ইরানের সেনারা।

ওই দুর্ঘটনার তিন দিন পর দায় স্বীকার করে স্বচ্ছভাবে ব্ল্যাকবক্সের তথ্য বিশ্লেষণের প্রতিশ্রুতি দেয় ইরান।

মন্তব্য