| প্রচ্ছদ

নওগাঁর রাণীনগরে লোকসানের ভার কাঁধে নিয়ে কৃষকদের ধান রোপণ শুরু

কাজী আনিছুর রহমান, রাণীনগর (নওগাঁ)
পঠিত হয়েছে ৫৩ বার। প্রকাশ: ২০ জানুয়ারী ২০২০ ।

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার কৃষকরা গত আমন মৌসুমের লোকসানের ভার কাঁধে নিয়ে চলতি ইরি/বোরো ধান রোপন শুরু করেছেন। গত সপ্তাহ থেকে উপজেলার নিন্মাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় ধান রোপন করছেন কৃষকরা। এ মৌসুমে প্রায় ১৭ হাজার ৭৯৫ হেক্টর জমিতে ধান রোপনের সম্ভাব্য লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি অধিদপ্তর।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে উপজেলা জুরে ধান আবাদে নানা রকম দূর্যোগে লোকসান হয়ে আসছে। কখনো বন্যা, কখনো প্রাকৃতিক দূর্যোগ আবার কখনো নানা রকম রোগ বালাইয়ের কারনে ধানের ফলন বিপর্যয় দেখা দেয়। এছাড়া বাজারে ন্যায্য মূল্যে ধান বিক্রি করতে না পারায় চরম ভাবে লোকসান হয়ে আসছে ধান আবাদে । গত আমন মৌসুমে শুরুতে ধানে তেমন কোন রোগ বালাই না থাকলেও ধান গামর হবার সময় রোগে আক্রান্ত হয়ে চরমভাবে ফলন বির্পযয় দেখা দেয় । এছাড়া সরকার নির্ধারীত দামে ধান বিক্রি করতে না পারায় বিঘাপ্রতি প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা লোকসানের কবলে পরেন কৃষকরা। আর সেই লোকসানের ভার কাঁধে নিয়েই ইরি/বোরো ধান রোপন শুরু করেছেন তারা।

উপজেলার সিম্বা গ্রামের কৃষক সুফল আহম্মেদ, মেহেদি হাসান, ভাটকৈ গ্রামের কৃষক ময়নুল হক মিঠুসহ অন্যান্য কৃষকরা বলেন, 'রাণীনগর উপজেলা কৃষি নির্ভরশীল এলাকা । আমাদের প্রধান কর্মই কৃষি এবং ধান উৎপাদন। লোকসান হলেও ধান আবাদ করতে হবে আবার লাভ হলেও ধানের আবাদ করতে হবে। তাই গত মৌসুমের লোকসানের ভার কাঁধে নিয়েই ধান রোপণ শুরু করা হয়েছে। তবে সারের দাম কমিয়ে দেয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে কৃষকদের বাঁচাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।' 

রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, 'চলতি মৌসুমে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে প্রায় ১৭ হাজার ৭৯৫ হেক্টর জমিতে ইরি/বোরো ধান রোপনের সম্ভাব্য লক্ষ মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে আগামী ১০/১৫ দিনের মধ্যে ধান রোপন শেষ হবে এমনটায় আশা করছেন এই কর্মকর্তা।'

মন্তব্য