| প্রচ্ছদ

চীনে করোনোভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬

পুন্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৪৪ বার। প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারী ২০২০ ।

চীনে নিউমোনিয়া সদৃশ করোনোভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যাও ইতোমধ্যে আটশর বেশি ছাড়িয়ে গেছে।

মৃত্যু এবং আক্রান্তদের বেশিরভাগই হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান শহরের। এখান থেকেই গত বছর নতুন এ করোনাভাইরাস উদ্ভূত হয়েছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবর বলছে, চীনের বাইরে আরও ৭টি দেশে ভাইরাসটির অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও সেখানে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার চীনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশন ভাইরাসটিতে আক্রান্ত ২৬ জনের মৃত্যু এবং আরও ৮৩০ জনের আক্রান্ত হওয়ার তথ্য দিয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১৭৭ জনের অবস্থা গুরুতর বলেও জানিয়েছে তারা।

সন্দেহভাজন আরও এক হাজার ৭২ জনের পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে।

চীনা নববর্ষের ছুটির মধ্যে দেশটির কোটি কোটি মানুষ একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে যাতায়াত করলে সংক্রমণ হু হু করে বাড়তে পারে বলেও কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে। শনিবার থেকে চীনে লুনার নিউ ইয়ারের সপ্তাহব্যাপী ছুটি শুরু হচ্ছে।

ভাইরাসটির প্রতিরোধে চীনের অন্তত দুটো শহর সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। বিবিসি বলছে, ভাইরাসটির উৎপত্তিস্থল হুবেই প্রদেশের ১ কোটি ১০ লাখ নাগরিকের শহর উহানে সব গণপরিবহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

শহরের বাসিন্দাদেরও শহর ত্যাগে নিষেধ করা হয়েছে। উহানের পাশেই প্রায় ৭৫ লাখ অধিবাসীর শহর হুয়াংগ্যাংয়েও বাস ও ট্রেন যোগাযোগ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করা হয়েছে।

মাসখানেক আগে (৩১ ডিসেম্বর, ২০১৯) হুবেই প্রদেশের রাজধানী শহর উহানে প্রথম এই ফ্লু টাইপের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে। মনে করা হচ্ছে, শহরের সামুদ্রিক মাছের একটি বাজার থেকে এ সংক্রমণ হয়েছে।

ওই বাজারে পশু-পাখিও বেঁচাকেনা হয়। উৎপত্তির পর ভাইরাসটি রাজধানী বেইজিংসহ অন্য প্রদেশেও ছড়িয়ে পড়ে। মাসখানেকের মধ্যে প্রতিবেশী জাপান, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, ম্যাকাওয়ে ছড়ায়।

চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়াতেও এ ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকায় চীনা কর্তৃপক্ষ বুধবার উহান থেকে চলাচলকারী সব যানবাহন বন্ধ ঘোষণা করে।

হুবেই প্রদেশ ও এর রাজধানী উহান ছাড়াও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ভ্রমণে কড়া সতর্কতা জারি করে সরকার। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ শহরের বাসিন্দাদের ভিড়ের মধ্যে না যেতে বা গণজমায়েত না হতেও পরামর্শ দিয়েছে।

এমন সময় এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব হল, যখন লাখো চীনা নাগরিক চান্দ্রবর্ষ বরণ উপলক্ষে বিভিন্ন শহরে ভ্রমণ করছেন। চীনের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ভাইরাসটির ব্যাপক প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সরকারের পক্ষ থেকে তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

এছাড়া করোনাভাইরাস মোকাবেলায় কী কী পদক্ষেপ নেয়া হবে, তা নির্ধারণে বুধবার বৈঠক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত যে ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে, তিনি সম্প্রতি চীন ভ্রমণ করেন। চীন থেকে ফেরার পর গত শনিবার ও রোববার অসুস্থ ছিলেন তিনি। এরপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানা যায়, তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত।

এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর চীনের হুবেই প্রদেশ ভ্রমণে সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া উহান থেকে যারা যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন, তাদের স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

১৯৬০ সালে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এটি মূলত ভাইরাসের বড় একটি গোত্র। বর্তমানে করোনাভাইরাসের যে প্রজাতির সংক্রমণ ঘটেছে, তা এর আগে দেখা যায়নি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ ভাইরাসের সংক্রমণে সাধারণ সর্দি-ঠাণ্ডা থেকে শুরু করে সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম (সার্স) পর্যন্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাইরাসটি মানুষ এবং পশু- উভয়ে ছড়াতে পারে।

কোনোরকম স্পর্শ ছাড়াই মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হয় ভাইরাসটি। ফ্রান্সের প্যারিসের ইন্সটিটিউট প্যাস্তয়োয়ের রোগতত্ত্ব বিভাগের প্রধান আর্নদ ফন্তানেত বলেন, সার্স ভাইরাসের সঙ্গে বর্তমান ভাইরাসটির চরিত্রের ৮০ শতাংশ মিল রয়েছে। তবে সার্সের মতো আগ্রাসী নয় এ ভাইরাস।

ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণে শ্বাসকষ্ট হয়। অনেক রোগীর জ্বর ও কফ হয়। এটি মারাত্মক আকার ধারণ করলে রোগীর নিউমোনিয়া হতে পারে। ব্রংকাইটিসও হতে পারে এর সংক্রমণে।

এছাড়া কিডনি অকার্যকর হওয়ার আশঙ্কা আছে। ডেইলি মেইল বলছে, যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান দেশের ভেতরে হুমকির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মৃতের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে তা ১৯১৮ সালের স্প্যানিশ ফ্লুর মতোই। স্প্যানিশ ফ্লুতে ৫০ মিলিয়ন মানুষ মারা যায়।

মন্তব্য