| প্রচ্ছদ

ডিআইজি বজলুর রশীদের জামিন আবেদন খারিজ

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৫৫ বার। প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারী ২০২০ ।

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের দায়ের করা মামলায় কারা অধিদফতরের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) বজলুর রশীদের জামিন হয়নি। এ বিষয়ে জারি করা রুল খারিজ করে আগামী ৬ মাসের মধ্যে তদন্ত কাজ শেষ করতে দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আদালত আদেশে বলেছেন, মামলার এই পর্যায়ে তার মতো একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জামিন দিলে বিচার বিভাগ সম্পর্কে জনমনে হতাশা দেখা দিতে পারে। তিনি মামলার তদন্ত কাজে প্রভাবিত করতে পারেন।

বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার রুল নিষ্পত্তি করে এ রায় দেন।

গত মঙ্গলবার কারা অধিদফতরের ডিআইজি বজলুর রশীদের বিরুদ্ধে দুদকের করা মামলার নথিসহ তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেন হাইকোর্ট। সেই মোতাবেক দুদকের উপ-পরির্দশক নাসির উদ্দিন বুধবার নথিসহ হাইকোর্টে হাজির হন। কারা ডিআইজি বজলুর রশীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার যাবতীয় কাগজপত্র আদালতে উপস্থাপন করেন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। আদালত তাদের নথিপত্রে কোনো অসঙ্গতি না পেয়ে রুল নিষ্পত্তি করে এ রায় দেন।

আদালতে বজলুর রশীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুল মতিন খসরু। অন্যদিকে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হেলেনা বেগম চায়না।

এর আগে কারা ডিআইজি বজলুর রশীদ অবৈধ সম্পদের অর্থ থেকে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীতে একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল অ্যাপার্টমেন্ট কেনার জন্য রূপায়ণ হাউজিং এস্টেটের সঙ্গে বজলুর রশীদ চুক্তি করেছিলেন। এরপর ২০১৮ সালের ৭ জুন পর্যন্ত ৫৪ হাজার টাকা ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের মাধ্যমে চেকে পরিশোধ করেন। আর বাকি ৩ কোটি ৭ লাখ ৪৬ হাজার টাকা নগদে পরিশোধ করেন। দাম হিসাবে পরিশোধ করা ওই টাকার কোনো বৈধ উৎস তিনি প্রদর্শন করতে পারেননি।

এমনকি অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয়সংক্রান্ত কোনো তথ্যও তার আয়কর নথিতে প্রদর্শন করেননি। তাই জ্ঞাত আয়ের উৎস অসঙ্গতিপূর্ণ হওয়ায় দুদকের উপ-পরিচালক সালাহউদ্দিন বাদী হয়ে বজলুর রশীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় এই বিষয়ে দুদকের নজরে আসে। রূপায়ণ হাউজিং থেকে তার তথ্য যাচাই করে ফ্ল্যাট কেনার সত্যতা পাওয়া যায়। কিন্তু ফ্ল্যাট কেনার অর্থের উৎসের বিষয়ে যথাযথ ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি। পরে তিনি গ্রেফতার হন।

ওই মামলায় গত ডিসেম্বরে তিনি হাইকোর্টে জামিন আবেদন করলে আদালত তাকে সরাসরি জামিন না দিয়ে রুল জারির আদেশ দেন।

১৯৯৩ সালে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পাওয়া বজলুর রশীদ ঢাকায় কারা সদর দফতরের দায়িত্ব পালন করছিলেন। ডিআইজি হিসেবে এর আগে সর্বশেষ রাজশাহীতে ছিলেন।

মন্তব্য