| প্রচ্ছদ

কিশোরী ধর্ষণ এবং তাকে ও তার মাকে নির্যাতন

বগুড়ায় সেই তুফান সরকার ও তার সহযোগীদের বিচার শুরু

স্টাফ রিপোর্টার
পঠিত হয়েছে ৪৬৫ বার। প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ।

বগুড়ায় কিশোরী ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর মামলায় অভিযুক্ত সেই তুফান সরকারসহ ১০ আসামীর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেছেন আদালত। বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক একেএম ফজলুল হক বুধবার শুনানী শেষে চার্জ গঠনের আদেশন দেন। এর মধ্য দিয়ে প্রায় আড়াই বছর আগে সংগঠিত এবং দেশজুড়ে আলোচিত ওই ধর্ষণ মামলার বিচার শুরু হলো। আদালত আগামী ৬ জুন সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য তারিখ ধার্য্য করেছেন।

যাদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়েছে তারা হলো- বহিস্কৃত শ্রমিক লীগ নেতা তুফান সরকার, তার স্ত্রী তাছমিন রহমান ওরফে আশা সরকার, আশা সরকারের বড় বোন বগুড়া পৌরসভার সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মার্জিয়া হাসান রুমকি, আশার মা লাভলী রহমান রুমি, তুফান সরকারের সহযোগী আতিকুল ইসলাম আতিক, মুন্না, আলী আযম দিপু, মেহেদী হাসান রুপম, সামিউল হক শিমুল এবং ইমারত আলম খান জিতু। আসামীদের মধ্যে একমাত্র তুফান ছাড়া সবাই বর্তমানে জামিনে রয়েছে। বুধবার চার্জ গঠনের সময় আসামী তুফান সরকারের পক্ষে জামিন আবেদন করা হলে আদালত তা নাকচ করেন।

অবশ্য ওই কিশোরী ও তার মাকে অপহরণ এবং তাদের মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার অভিযোগে পৃথক ধারায় আড়াই মাস আগেই উল্লেখিত ১০জনসহ মোট ১২ আসামীর বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জ গঠন করা হয়েছে। ওই মামলায় আগামী ২০ মার্চ সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে। 
ভাল কলেজে ভর্তির প্রলোভন দেখিয়ে ২০১৭ সালের ১৭ জুলাই বগুড়ায় এক কিশোরীকে ধর্ষণ করেন শ্রমিক লীগ বগুড়া শহর শাখার তৎকালীন আহবায়ক তুফান সরকার। বিষয়টি জানার পর ১০দিন পর ২৭ জুলাই তুফান সরকারের স্ত্রী আশা ও তার বড় বোন বগুড়া পৌরসভার সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মার্জিয়া হাসান রুমকির নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী ওই কিশোরী এবং তার মাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়।

 
পরে শহরের চকসুত্রাপুর এলাকায় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মার্জিয়া হাসান রুমকির বাড়িতে মা ও মেয়ের মাথা ন্যাড়া করে বেধড়ক পেটানো হয়। ওই ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ তুফান সরকারকে তার ৩সহযোগীসহ গ্রেফতার করে। মামলায় তুফানের স্ত্রী আশাসহ ১৩জনকে আসামী করা হয়। পরবর্তীতে তুফান সরকারকে শ্রমিক লীগ থেকে বহিষ্কারও করা হয়।

 
চাঞ্চল্যকর ওই মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার তৎকালীন ওসি (অপারেশন্স) আবুল কালাম আজাদ ২০১৭ সালের ১০ অক্টোবর পৃথক দু’টি ধারায় ওই মামলার আলাদা দু’টি চার্জশীট বগুড়ার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দাখিল করেন। ধর্ষণ এবং নির্যাতনের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে দাখিল করা চার্জশীটে এজাহারভুক্ত ১০জনকে অভিযুক্ত করা হয়। তবে অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনায় এজাহারভুক্ত ওই ১০জনের সঙ্গে আরও ২জনকে অভিযুক্ত করা হয়। পৃথক দু’টি চার্জশীটে মামলার বাদী তার কিশোরী কন্যা, পুলিশ এবং চিকিৎসক মোট ২৩জনকে সাক্ষী করা হয়।


দু’টি মামলার মধ্যে ধর্ষণ মামলায় চার্জ গঠনের আগে ওই কিশোরী ও তার মাকে নির্যাতন এবং তাদের মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার অভিযোগে বগুড়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ শাহরিয়া তারিক গত বছরের ৭ নভেম্বর তাদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন। তাতে ধর্ষণ মামলার ১০ আসামীর সঙ্গে মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া নাপিত জীবন রবি দাস ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর মার্জিয়া হাসান রুমকির বাড়ির গৃহপরিচারিকা আঞ্জুয়ারা বেগমকেও অভিযুক্ত করা হয়।


বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নরেশ মুখার্জ্জী জানান, অনেক আগে চার্জশীট দাখিল করা হলেও আসামীদের মধ্যে একজন পলাতক থাকায় চার্জ গঠন বিলম্বিত হচ্ছিল। তিনি বলেন, ‘আশাকরি চাঞ্চল্যকর ওই মামলার বিচার কাজ দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে।’
 

মন্তব্য