| প্রচ্ছদ

কবিতা শোনাতে ছাত্রীদের মোবাইল নম্বর চাইতেন মহিলা কলেজের শিক্ষক

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ১৪৬ বার। প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ।

নেত্রকোনা সরকারি মহিলা কলেজের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকজন অনার্স পড়ুয়া কলেজছাত্রীকে হেনস্তা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হেনস্তার শিকার ওই শিক্ষার্থীদের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর অভিযুক্ত শিক্ষক রাশিদ আহমেদ ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।

সোমবার সকালে নেত্রকোনা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থীদের ফেইসবুক ও মেসেঞ্জারে ওই শিক্ষকের পাঠানো মেসেজের স্ক্রিনশট প্রকাশিত হয়। সেগুলো মুহূর্তেই ফেইসবুকে ভাইরাল হয় এবং অভিভাবকদের নজরে আসে। এদিন দুপুরে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং মহিলা পরিষদের নেতৃবৃন্দ কলেজের অধ্যক্ষের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।

প্রাথমিকভাবে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক শিক্ষার্থীকে বিভিন্নভাবে হেনস্তার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে- কবিতা শোনাতে ছাত্রীদের মোবাইল নম্বর চাওয়া এবং তা না দিলে পরীক্ষার হলে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া, কবিতার বই বিক্রি করে দেয়ার জন্যও তিনি ছাত্রীদের বাধ্য করতেন।

অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যাওয়ার পর রাশিদ আহমেদকে পরীক্ষার ডিউটি থেকে সাময়িকভাবে অপসারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে কলেজ কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের নিশ্চিত করেছে।

মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তাহেজা বেগম এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে কোন শিক্ষার্থীদের যেন বিরক্ত না করা হয় সে জন্য ওই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

কলেজের উপাধ্যক্ষ কাজী ফারুক বলেন, একটি মেয়ের অভিযোগ থাকলে একটা কথা ছিল। এমন একাধিক মেয়ের সঙ্গে একই আচরণ বারবার করা হয়েছে। এমন অপরাধের জন্য ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দেন তিনি।

কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, ছাত্রীদের পরীক্ষার কথা বলে হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাই অভিযুক্ত শিক্ষককে পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা না নেয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে।

এদিকে, এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক রাশিদ আহমেদ বলেন, ফেইসবুকে ছাত্রীদের সাথে বন্ধুত্ব থাকতেই পারে, আজকাল এটা ব্যাপার না। মেসেঞ্জারের কথায় কারও খারাপ লেগে থাকলে তার জন্য ক্ষমা চাই।

মন্তব্য