| প্রচ্ছদ

পরকীয়ায় বাধা পেয়ে বগুড়ায় বন্ধুকে দিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা

স্টাফ রিপোর্টার
পঠিত হয়েছে ৮১৫ বার। প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ।

পরকীয়া সম্পর্কে বাধা দেওয়ায় বগুড়ায় রফিকুল ইসলাম (২৬) নামে এক পরিবহণ শ্রমিক তার বন্ধুকে দিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণ করানোর পর আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার দুপুরে শহরের চকলোমান এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে। 
স্থানীয় এলাকাবাসী অগ্নিদগ্ধ ওই নারীকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করেছে। ঘটনার পর থেকে রফিকুল ইসলাম পলাতক রয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, ওই নারীর পেটসহ শরীরের একাধিক স্থানে ফোস্কা পড়েছে। তবে তার অবস্থা আশংকাজনক নয়। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, পুরো ঘটনাটি তারা তদন্ত করে দেখছেন।
শহরের চকলোকমান এলাকার বাসিন্দা সুরাইয়া খন্দকার জানান, বগুড়ার গাবতলী এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ‘হানিফ পরিবহনের’ সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত। রফিকুল গত ২৪ জানুয়ারি স্ত্রী ও ৬ বছর বয়সী এক কন্যাকে নিয়ে তার ভাইয়ের বাসা ভাড়া নেন। তিনি বলেন, রফিকুল ইসলাম কয়েকদিন পর পর বাসায় আসতেন। তার সঙ্গে একাধিক নারীর পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে বলে তার স্ত্রী ইতিপূর্বে তাদের কাছে অভিযোগ করেছেন। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া বিবাদও হতো। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে রফিকুল ইসলামের স্ত্রী হঠাৎ চিৎকার দিয়ে বাড়ির বাইরে আসে। এ সময় তার জামায় আগুন জ্বলছিল এবং দু’হাত বাঁধা ছিল। এ দৃশ্য দেখার পর হোসেন নামে স্থানীয় এক ব্যক্তিকে আগুন নিভিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
ওই নারীর ৬ বছর বয়সী কন্যা জানায়, শনিবার সকালে তার বাবা মোবাইল ফোনে এক মহিলার সঙ্গে কথা বলছিল। বিষয়টি নিয়ে তার বাবার সঙ্গে মায়ের ঝগড়া শুরু হয়। পরবর্তীতে স্কুলে যাওয়ার পর সে আর কিছু দেখেনি। তবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই নারী সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন, তার স্বামী রফিকুল ইসলাম সকালে তার এক বন্ধুকে নিয়ে বাসায় প্রবেশ করে। এক পর্যায়ে তারা দু’জনে মিলে তার হাত ও মুখ বেঁধে ফেলে। এরপর একটি ঘরে তুলে স্বামী তার বন্ধুকে ওই ঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে তাকে ধর্ষণের নির্দেশ দিয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে। ধর্ষণের পর তাকে মারপিটের পর মাথার বেশ কিছু চুল কেটে ফেলে ফেলে হয়। এক পর্যায়ে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে বাড়ির বাইরে চলে যায়।
বগুড়ার শাজাহানপুর থানার ওসি আজিম উদ্দিন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পরই তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বিকেলে হাসপাতালে গিয়ে মহিলার সঙ্গে কথা বলেছি। এখন পর্যন্ত মামলা হয়নি। তবে ওই নারী আমাদের কাছে অভিযোগ করেছেন তার স্বামী এক বন্ধুকে দিয়ে তাকে ধর্ষণ করিয়েছেন। আমরা তার শরীরে বেøড বা ধারালো কিছু দিয়ে আঘাত করার চিহ্ন দেখতে পেয়েছি। এছাড়া মাথা থেকে কিছু চুলও কাটা হয়েছে। ওই নারী আমাদের আরও জানিয়েছেন তার স্বামীর বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলাও রয়েছে। আমরা তার অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখছি।’
বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের সহকারি পরিচালক আব্দুল ওয়াদুদ জানান, ওই নারীকে গাইনি ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার পেটসহ শরীরের একাধিক স্থানে ফোস্কা এবং মাথার কিছু চুল কাটা রয়েছে। তিনি বলেন, যেহেতু ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তাই ফরেনসিক পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।

 

মন্তব্য