| প্রচ্ছদ

বগুড়ায় বন্ধুকে দিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় স্বামী গ্রেফতার: মামলা দায়ের

স্টাফ রিপোর্টার
পঠিত হয়েছে ১০৪৫ বার। প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ।

পরকীয়া সম্পর্কে বাধা দেওয়ায় বন্ধুকে দিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণ করানোর পর আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় সেই স্বামী রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে।  রোববার দুপুরে শহরের ঠনঠনিয়া কোচ টার্মিনাল থেকে গ্রেফতার করে। এদিকে এ ঘটনায় ওই গৃহবধুর বাবা আলম মন্ডল বাদী হয়ে শাজাহানপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগটি তদন্ত শেষে রোববার সকালে তা এজাহার হিসেবে রেকর্ড করা হয়। মামলায় রফিকুল ইসলামকে প্রধান আসামী করা হয়। আর অজ্ঞাত দেখানো হয় ওই ধর্ষককে।

মামলায় আলম মন্ডল উল্লেখ করেন,বিয়ের পর থেকে রফিকুল ইসলাম তার মেয়েকে অহেতুক নির্যাতন করে আসছিল এবং অন্য মেয়ের সঙ্গে পরকিয়া সর্ম্পক করে আসছিল রফিকুল। নির্যাতন সইতে না পেরে ২০১৮ সালে তার মেয়ে রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন। এ মামলা তুলে নিতে মাঝে মধ্যেই তার মেয়েকে নির্যাতন করতো। এরই এক পর্যায়ে শনিবার দুপুরে শহরের চকলোমান এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় এলাকাবাসী অগ্নিদগ্ধ ওই নারীকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করে। ঘটনার পর থেকে রফিকুল ইসলাম পলাতক ছিল। জেলার গাবতলী এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ‘হানিফ পরিবহনের’ সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত। রফিকুল গত ২৪ জানুয়ারি স্ত্রী ও ৭ বছর বয়সী এক কন্যাকে নিয়ে শহরের চকলোকমান এলাকায় তার ভাইয়ের বাসা ভাড়া নেন।

 
স্থানীয়রা জানান, রফিকুল ইসলাম কয়েকদিন পর পর বাসায় আসতেন। তার সঙ্গে একাধিক নারীর পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে বলে তার স্ত্রী ইতিপূর্বে তাদের কাছে অভিযোগ করেছেন। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া বিবাদও হতো। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে রফিকুল ইসলামের স্ত্রী হঠাৎ চিৎকার দিয়ে বাড়ির বাইরে আসে। এ সময় তার জামায় আগুন জ্বলছিল এবং দু’হাত বাঁধা ছিল। এ দৃশ্য দেখার পর স্থানীয় এক ব্যক্তি আগুন নিভিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।


হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই নারী সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন, তার স্বামী রফিকুল ইসলাম সকালে তার এক বন্ধুকে নিয়ে বাসায় প্রবেশ করে। এক পর্যায়ে তারা দু’জনে মিলে তার হাত ও মুখ বেঁধে ফেলে। এরপর একটি ঘরে তুলে স্বামী তার বন্ধুকে ওই ঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে তাকে ধর্ষণের নির্দেশ দিয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে। ধর্ষণের পর তাকে মারপিটের পর মাথার বেশ কিছু চুল কেটে ফেলে ফেলে হয়। এক পর্যায়ে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে বাড়ির বাইরে চলে যায়।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজীউর রহমান জানান, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ অভিযুক্ত রফিকুলকে গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে। এরই মাঝে ঘটনাস্থল থেকে আলামত হিসেবে আগুনে পোড়া কাপড় ও কাটা চুল সংগ্রহ করা হয়। সেইসঙ্গে তাঁর ডাক্তারি পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে। রাতেই নির্যাতিতা গৃহবধূর বাবা বাদি হয়ে শাজাহানপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। রবিবার দুপুরে শহরের ঠনঠনিয়া বাসস্ট্যাণ্ড এলাকা থেকে ওই মামলার প্রধান আসামী রফিকুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

 

মন্তব্য