| প্রচ্ছদ

মাগনের গানে বগুড়া মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজে বসন্ত বরণ

স্টাফ রিপোর্টার
পঠিত হয়েছে ২১৮ বার। প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ।

ঢেঁকিতে পাড় দিচ্ছেন দুই নারী। তার সামনের দিকের গর্তে একটু পর পর হাত নাড়ছেন আরেকজন। চাল থেকে আটা তৈরিতে ব্যস্ত তারা। খানিকটা দূরে উঠানে দুই পা বিছিয়ে কাঁথা সেলাই করছেন আরেক নারী। তাদের পাশেই বসা দু’জনের একজন আরেকজনের মাথার উকুন তুলছেনÑসঙ্গে চলছে দাম্পত্য জীবনের নানান খুনসুটি। এরই মাঝে ঘুঙুর বাঁধা লাঠি নিয়ে গান গাইতে গাইতে হাজির ‘মাগনের দল’। 
এগার জনের সেই দলের সদস্যরা বাড়ি বাড়ি দিয়ে গাইছে ‘আল্যাম রে ভাই অরণে/মাও লোক্কি চরণে/মাও লোক্কি দিলো বাও/ধান কুলে দুই ব্যও করে ন্যাও’। ওদের গান শুনে কেউ তাদের দিচ্ছেন চাল আবার কেউ বেগুন, ফুলকপিসহ নানা ধরনের সবজি। দু’একজন টাকা-পয়সাও দিচ্ছেন- এটি কোন নাটকের দৃশ্য নয়। বসন্ত বরণ উপলক্ষ্যে বাঙালির চিরায়ত লোক সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গকে ফুটিয়ে তুলতেই নিজেদের ক্যাম্পাসে ব্যতিক্রমী এমন আয়োজন করেছিলেন বগুড়া সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা। 
কলেজের শিক্ষার্থীদের দেখানো বাঙালিয়ানার সেই রূপ দেখে মুগ্ধ আমন্ত্রিত অতিথি, অভিভাবক ও শিক্ষকরা। শুধু কি তাই! তারা অতিথিদের আপ্যায়নও করেছেন নিজেদের তৈরি পিঠা দিয়ে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি কলেজ প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী বসন্ত বরণ ও পিঠা উৎসবের উদ্বোধন করেন সরকারি মুজিবুর রহমান  মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর জোহরা ওয়াহিদা রহমান। উৎসবে শতাধিক অতিথির মধ্যে হাজির ছিলেন বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান মজনু, সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু, সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর শামসুল-আলম জয়, নাসিমা আকতার জাহান, হোসনে আরা হায়দার, উপাধ্যক্ষ ড. বেল্লাল হোসেন বগুড়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি প্রদীপ ভট্টাচার্য শঙ্কর এবং কবি মিতা নূর।
সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান দেব দুলাল দাস জানান, এবারের আয়োজনে নতুন অনুষঙ্গ ছিল ‘মাগন’। তিনি বলেন, এটি বাঙালি সংস্কৃতির প্রাচীণ একটি প্রথা- যা অনেক আগেই হারিয়ে গেছে। তিনি বলেন, সধারণ পৌষ মাসের প্রথম দিন সন্ধ্যা থেকে ছেলেরা দল বেঁধে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ছড়া বা গান গেয়ে চাল সংগ্রহ করে। মাগন সংগ্রহ চলে পৌষের শেষ দিন পর্যন্ত। কোন রাতে কোন বাড়ি থেকে মাগন সংগ্রহ করা হবে সেটি তাদের দলপতি নির্ধারণ করে থাকেন। দলের প্রতিটি সদস্য ঘুঙুর বাঁধা লাঠি নিয়ে মাগন সংগ্রহ করে। বগুড়া মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর শামসুল-আলম জয় বলেন, ‘মাগন সংস্কৃতি অনেক আগে বগুড়ার বিভিন্ন অঞ্চলে চালু ছিল। তবে কালের বিবর্তনে সেটি এখন হারিয়ে গেছে- এমনকি আমরাও তা দেখতে পাইনি। শুধু মাগনের কথা শুনেই এসেছি। আজ সেটি নিজের চোখে দেখলাম।’
বগুড়া সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর জোহরা ওয়াহিদা রহমান জানান, বর্তমান প্রজন্মের কাছে বাঙালি সংস্কৃতির রূপ-রস তুলে ধরতেই তাদের এই আয়োজন। তিনি বলেন, ‘ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। ঋতুগুলো একটি থেকে আরেকটি আলাদা। আমরা প্রত্যেকটি ঋতুর বৈচিত্র ফুটিয়ে তুলতে চাই।’

 

মন্তব্য