| প্রচ্ছদ

আসাদের নির্মমতায় শীতে জমে মারা যাচ্ছে শিশুরা

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৫৮ বার। প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ।

যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়ার ইদলিবে হাজার হাজার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। খোলা মাঠে আশ্রয় নেয়া বাস্তুচ্যুত এসব মানুষ ভয়াবহ শীতের প্রকোপে মৃত্যু ঝুঁকিতে পড়েছে, এমনকি ঠান্ডায় জমে মারা যাচ্ছে শিশুরা। খবর: আলজাজিরা।

গত বছর এপ্রিলে রুশ বাহিনীর সহায়তায় বাশার আল আসাদ বাহিনী ইদলিবে হামলা চালায়। শহরটির ১০ লাখ বাসিন্দাদের অধিকাংশকেই এখানে স্থানান্তরিত করা হয় সরকার নিয়ন্ত্রিত একাধিক এলাকা থেকে।

অঞ্চলটিকে ‘ডি-এস্কেলেশন জোন’ ঘোষণা করে গত ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে চুক্তি সই করে রাশিয়া ও তুরস্ক। এই চুক্তি অনুযায়ী ইদলিবে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া নিষিদ্ধ। চুক্তি কার্যকরের বিষয়টি পর্যবেক্ষণে সেখানে বেশ কিছু পোস্ট বসায় তুরস্ক।

কিন্তু সেই চুক্তি লঙ্ঘন করে গত ১২ জানুয়ারি থেকে ব্যাপক হামলায় চালিয়ে ইদলিবের প্রায় অর্ধেক দখল করে নেয় রাশিয়া ও সিরীয় সরকারি বাহিনী। এতে নিহত হয় প্রায় ১ হাজার ৮০০ জন। বাস্তুচ্যুত হয় কয়েক লাখ সিরীয়।

ফেব্রুয়ারিতে ইদলিবে হামলাকে কেন্দ্র করে আসাদ বাহিনী তুরস্কের সেনাবাহিনীর সঙ্গে রীতিমতো যুদ্ধ জড়িয়ে যায়। এতে শরণার্থী সংকট আরও প্রকট হয়।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, নির্বিচারে বোমাবর্ষণের শিকার হয়ে অন্তত ৮২ হাজার মানুষ প্রচণ্ড ঠান্ডায় খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। 

সংস্থাটির মানবাধিকার কমিটি ওসিএইচএ সূত্রে, নতুন করে বাস্তুচ্যুত হওয়া ৩৬ শতাংশই আত্মীয়-স্বজনদের কাছে আশ্রয় নিয়েছেন। ১৫ শতাংশ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে অসম্পূর্ণ ঘরবাড়িতে। ১২ শতাংশ এখনো কোনো আশ্রয় খুঁজে পাননি।

প্রচণ্ড শীতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে শিশুরা। বিশেষ করে নবজাতক ও অল্পবয়সী শিশুরা মারা পড়ছে। কয়েকদিন আগেও কালবিত ক্যাম্পে মারা গেছে ৫ মাস বয়সী এক শিশু।

বাইরে শীতের কারণে তাঁবুর ভেতরেও রক্ষা নাই। দ্বিতীয়বারের মতো বাস্তুচ্যুত হয়ে  মোস্তাফা হামাদি নামে কিল্লি গ্রামে বাসিন্দা সপরিবারে মারা গেলেন। শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে তাঁবুর ভেতরে গ্যাস হিটার বসিয়েছিলেন তিনি।

সকালে মোস্তাফা, স্ত্রী আমোন, ১২ বছর বয়সী মেয়ে হুদা এবং তিন মাস বয়সী নাতনি হুর সবাই মারা গিয়েছে কার্বন মনোক্সাইডের বিষক্রিয়ায়।

মন্তব্য