| প্রচ্ছদ

কলাগাছ ও বাঁশ-কাঠের শহীদ মিনারই ভরসা!

বগুড়ার শেরপুরে ৩৮৮ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই

আইয়ুব আলী
পঠিত হয়েছে ১৬৩ বার। প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ।

বগুড়ার শেরপুরে ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের ঘটনা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে স্মরণীয় করে রাখতে আজও উল্লেখ্যযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৮বছর পেরিয়ে গেলেও এই উপজেলার ৩৮৮টি সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সেই ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি। অথচ এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী লেখাপড়া করেন। এদিকে জনগুরুত্বপুর্ণ এলাকাগুলোতে শহীদ মিনার না থাকায় কলাগাছ ও বাঁশ-কাঠ দিয়ে শহীদ মিনার বানিয়ে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান শিশু-কিশোররা। তবে এবার মুজিববর্ষ উদযাপনকে ঘিরে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শহীদ মিনার গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই উপজেলায় সরকারি-বেসরকারি প্রায় ৪৪২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এরমধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১৩৮টি, সরকারি ও বেসরকারি কলেজ রয়েছে ৬টি, স্কুল এন্ড কলেজ ৪টি, মাদ্রাসা রয়েছে ৪২টি, কারিগরি কলেজ ৬টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৪৬টি, কিন্ডার গার্ডেন ও স্কুল রয়েছে প্রায় ২০০টি। সবমিলিয়ে ৪৪২ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শহীদ মিনার রয়েছে মাত্র ৫৪টি প্রতিষ্ঠানে। বাকি ৩৮৮ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একটিতেও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য আজ পর্যন্ত কোন শহীদ মিনার গড়ে ওঠেনি। অথচ এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৫-৩৮হাজার, দাখিল, আলিম, ফাযিল, কামিল ও এবতেদায়ি মাদ্রাসায় প্রায় ২৫হাজার এবং মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ২৮হাজার ছাত্র-ছাত্রী লেখাপড়া করে থাকেন। কিন্তু ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর স্থায়ী কোন ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় সাধারণ মানুষ আজ ভাষা শহীদদের নাম পর্যন্ত ভুলে যেতে বসেছেন। এমনকি আগামির ভবিষ্যৎ ও জাতীর কর্ণধার বলে বিবেচিত শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের অবস্থাও একই। তবে এসব শিশুরা শহীদদের নাম ও আত্মত্যাগের কৃতকর্ম কেবল বইপুস্তকে যতটুকু পাচ্ছে তাই বুলি আওড়িয়ে মুখস্ত করে চলছে। প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্মৃতিস্তম্ভ না থাকায় ভাষা আন্দোলন ও শহীদদের সম্পর্কে তাদের কোন বাস্তব ধ্যান ধারণার সৃষ্টি হচ্ছে না। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা গোলাম রব্বানী, শাহাদত হোসেন, আনিছুর রহমান ঠাণ্ডু, শহিদুল ইসলাম, শাহিনুর রহমান, আবু রায়হানসহ একাধিক অভিভাবক জানান, তাদের শিশু সন্তানরা যে সব প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করেন সেখানে কোন শহীদ মিনার  নেই। ফলে তারা বিদ্যালয়গুলোতে গিয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে পারেন না। এ অবস্থায় অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও আসছে ২১ফেব্রুয়ারিতে কলাগাছ, বাঁশ-কাঠ দিয়ে শহীদ মিনার বানিয়ে দিবসটি পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান তারা।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. লিয়াকত আলী সেখ জানান, প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের উচিত ছিল অনেক আগেই নিজ উদ্যোগে শহীদ মিনার নির্মাণ করা। কিন্তু এতদিনেও তা করা হয়নি। তবে তিনি এ উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই বিষয়টিকে গুরত্বের সঙ্গে নিয়ে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই সেসব প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। তাই চলতি মুজিববর্ষেই এ উপজেলার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই কর্মকর্তা জানান।

মন্তব্য