| প্রচ্ছদ

রাণীনগরে ২শ’১৮ বছরের প্রাচীন বাঁশবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইট মাটি ও কাগজ দিয়ে নির্মিত শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন

নওগাঁ প্রতিনিধি
পঠিত হয়েছে ৫৭ বার। প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ।

নওগাঁর রানীনগর উপজেলার ২শ’১৮ বছরের প্রাচীন বাঁশবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইট,মাটি ও কাগজ দিয়ে অস্থায়ীভাবে নির্মিত শহীদ মিনারে পুস্প স্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে পালন করা হয়েছে শহীদ দিবস ও আর্ন্তজাতিক মার্তৃভাষা দিবস। স্কুলের উদ্যোগে ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় গতকাল শুক্রবার ভাষা শহীদদের বিনম্্র শ্রদ্ধা,প্রভাত ফেরী,আলোচনা  সভা,দোওয়া ও তবারোক বিতরণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ওই স্কুল কর্তৃপক্ষ নিজেদের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করে আসলেও সেখানে এখনো স্থায়ী কোন শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি। এবিষয়ে অনেকবার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন নিবেদন করেও কোন কাজ হয়নি। এনিয়ে ওই বিদ্যালযের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। 
জানা গেছে এলাকার কয়েকজন শিক্ষানুরাগী জেলার সবচেয়ে প্রাচীন এই বিদ্যাপিট নির্মাণ করেন ১৮০২ সালে। মহান স্বাধীনতার পর থেকে যথাযথ ভাবে ভাষা শহীদদের বিনম্র শ্রদ্ধা জানানো হলেও শহীদ মিনার করা হয়নি আজও। তারপরও ভাষা শহীদদের ভাষার প্রতি ভালোবাসা, ভাষা আন্দোলন, তাদের কর্মজীবনী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে সকালে র‌্যালী, পুষ্পস্তবক অর্পণ,আলোচনা সভা ও দোওয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। প্রতি বছরের মতো এ বছরও র‌্যালী, আলোচনা সভা ও অস্থায়ী ভাবে শহীদ মিনার নির্মাণ করে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। স্কুল পরিচালনা কমিটির বিদায়ী সভাপতি সায়েদ আলীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন কমিটির নবাগত সভাপতি বিদ্যুৎ কান্তি,সদস্য ইউসুফ আলী, সহকারী শিক্ষক তস্ময় ভৌমিক প্রমুখ।
ওই স্কুলের ৫ম শ্রেনীর ছাত্রী মেঘলা খাতুন,৪র্থ শ্রেনীর শিক্ষার্থী  বিজয় কুমার,সোমা রানীসহ অনেকেই জানাই র্দীঘদিন ধরে তারা এই ভাবে শহীদ দিবস পালন করে আসছে। তারা বলেন তাদের পিতা-মাতারাও এই ভাবে শহীদ দিবস পালন করেছে। সহকারী শিক্ষক তন্ময় ভৌমিক বলেন পাশের আকনা উচ্চ বিদ্যালয়ে শহীদ দিবস পালন না করার কারনে ওই স্কুলের অনেক শিক্ষার্থী এখানে এসে তারা শহীদ দিবস পালন করে। পরিচালানা কমিটির বিদায়ী সভাপতি সায়েদ আলী বলেন এ স্কুলে একটি স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মানের জন্য অনেক আবেদন নিবেদন করা হয়েছে কিন্তু কোন কাজ হয়নি। 
বাঁশবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোরঞ্জন সরকার বলেন স্কুলের বিভিন্ন ফান্ড থেকে অর্থ বাচিয়ে ও নিজেদের অর্থ এবং এলাকাবাসীর সহযোগীতায় প্রতিবছর এভাবেই শহীদ দিবস পালন করা হচ্ছে। তিনি বলেন বিদ্যালয়ের স্থায়ী ভাবে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হলে আরো যথাযথভাবে শহীদ দিবস ও আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবস পালনা করা সম্ভব হতো।
রানীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আল মামুন আয়োজকদের সাধুবাদ জানিয়ে বলেন অচিরেই ওই স্কুলসহ যে সব স্কুল-মাদ্রাসায় শহীদ মিনার নেই । সেইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হবে।

 

মন্তব্য