| প্রচ্ছদ

কী হতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ায়

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৫৩ বার। প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ পদত্যাগ করেছেন, আর এর মধ্য দিয়ে গুজব ছড়িয়ে পড়েছে যে আনোয়ার ইব্রাহীমকে বাদ দিয়েই তিনি নতুন একটি কোয়ালিশন সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে পদত্যাগের খবর নিশ্চিত করলেও বিস্তারিত আর কিছু জানানো হয়নি।

শুধুমাত্র মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর পদই নয়, পার্টি প্রিবুমি বেরসাতু মালয়েশিয়ার (পিপিবিএম) চেয়ারম্যান পদ থেকেও সরে গেছেন মাহাথির মোহাম্মদ। একইসঙ্গে ভেঙে গেছে মালয়েশিয়ার ক্ষমতাসীন জোট পাকাতান হারাপান (পিএইচ)।

সব মিলিয়ে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন টালমাটাল। এদিকে কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, সাড়ে তিন বছর আগে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক দলটির অন্য সদস্যদের সঙ্গে একমত হতে পারেননি ৯৪ বছর বয়সী মাহাথির, তাই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এখন মালয়ভিত্তিক কয়েকটি দলকে সঙ্গে নিয়ে নতুন জোট গঠন করবে প্রিবুমি বেরসাতু পার্টি। জোট থেকে তারা আগের সঙ্গী ছোট রাজনৈতিক দলগুলোকে বের করে দেবে। ক্ষমতাসীন জোট ভেঙে যাওয়ার কারণে,  এখন আর আনোয়ার ইব্রাহীমকে দেওয়া কথা রাখতে হবে না মাহাথিরকে। তাই প্রধানমন্ত্রী পদে আর আসা হচ্ছে না আনোয়ার ইব্রাহীমের।

এদিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করার একদিন পর দেশটির অর্ন্তবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজে যোগ দিয়েছেন মাহাথির মোহাম্মদ। মঙ্গলবার পুত্রাজায়ার দপ্তরে এসে গাড়ি থেকে নামার পর মাহাথির কোনো মন্তব্য করেননি।

মাহাথির মোহাম্মদ প্রধানমন্ত্রীর পদ ত্যাগ করার পর মালয়েশিয়ায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত পর্যায়ে সাক্ষাৎকারের জন্য মঙ্গলবার ৯০ জন এমপিকে রাজপ্রাসাদে ডেকেছেন রাজা ইয়াং ডি-পার্তুয়ান আগং।  প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা কী হবে এবং পরবর্তীতে কীভাবে নতুন সরকার গঠন করা যাবে; সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য এমন উদ্যোগ নিয়েছেন রাজা। রাজপ্রাসাদের কম্পট্রোলার আহমেদ ফাদিল শামসুদ্দিন মিডিয়ার সঙ্গে বিশেষ এক ব্রিফিংয়ে বলেছেন, সাক্ষাৎকারে প্রতি এমপিকে ২ থেকে ৩ মিনিট সময় দেয়া হবে। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় ওই সাক্ষাতকার শেষ হতে পারে। কেন্দ্রীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৩(২)-এর অধীনে এই সাক্ষাতকার গ্রহণ করা হবে।

কোন কোন এমপিকে ডাকা হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে রাজপ্রাসাদের কম্পট্রোলার বলেন,  তাদের নাম আমরা প্রকাশ করতে চাই না। সংশ্লিষ্ট এমপিদের এরইমধ্যে বিষয়টি জানিয়ে দেয়া হয়েছে। বাকি ১৩১ জন এমপিকেও বুধবার রাজা একইভাবে সাক্ষাৎকারে ডাকবেন।

অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ড. মাহাথির মোহাম্মদ (৯৪) কতদিন দায়িত্ব পালন করবেন, তা নিশ্চিত নয়। কবে নাগাদ একটি নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে তাও স্পষ্ট নয়। পরবর্তী সরকার কবে গঠন হবে তা নিয়েও রয়েছে অস্পষ্টতা। সবমিলে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে মালয়েশিয়ার রাজনীতি।

অ্যাটর্নি জেনারেল টম্মি থমাস সাংবাদিকদের বলেছেন, একজন অন্তর্বর্তী নেতা কতদিন ক্ষমতায় থাকতে পারবেন তার কোনও সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একজন অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতা আছে। তিনি নিজের মতো করে একটি মন্ত্রিসভা গঠনসহ যে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

নির্বাচনের আগে মাহাথির পুরনো শত্রু, নিজের প্রথমদিককার ক্ষমতার মেয়াদে উপপ্রধানমন্ত্রী থাকা আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে জোট বেঁধেছিলেন। সেই জোট ২০১৮ সালে দুর্নীতি বিরোধী প্রচারণায় বিস্ময়করভাবে ক্ষমতায় আসে। তবে ক্রমশ জনপ্রিয়তা হারাতে থাকে। জোটের এমন ভঙ্গুর অবস্থার মধ্যেই পদত্যাগ করে বসেন মাহাথির। কিন্তু নির্বাচনের আগে আনোয়ার ইব্রাহিমকে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ক্ষমতা অর্ধেক মেয়াদে তিনি থাকবেন, বাকিটা সময় প্রধানমন্ত্রী হবেন আনোয়ার ইব্রাহিম।

সপ্তাহান্তে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে। এ সময় অভিযোগ ওঠে যে, আনোয়ার ইব্রাহিমকে বাদ দিয়ে নতুন একটি জোট সরকার গঠনের জন্য মাহাথিরের মিত্ররা এর আগে ক্ষমতাসীন নাজিব রাজাকের দলের সঙ্গে জোট বাধার ষড়যন্ত্র করছে। এ অবস্থায় কবে নাগাদ ক্ষমতা হস্তান্তর করছেন মাহাথির তা জানতে চেয়ে জোর দাবি তোলেন আনোয়ার ইব্রাহিমের অনুগতরা। এতে দৃশ্যত ক্ষুব্ধ হন মাহাথির।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ের পর পাকাতান হারাপান জোটের প্রধান হিসেবে ওই বছরের ১০ মে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন মাহাথির মোহাম্মদ।

নির্বাচনের আগে দুই বছরের মাথায় জোট নেতা আনোয়ার ইব্রাহিমকে প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্ব দিয়ে বিদায় নেয়ার কথা থাকলেও এতদিন ক্ষমতা ছাড়েননি মাহাথির।

এর আগে ১৯৮১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাহাথির। সেসময় উপ-প্রধানমন্ত্রী ছিলেন আনোয়ার।

১৯৯৮ সালে অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলা করা নিয়ে দ্বন্দ্বে তাকে বহিষ্কার করেন মাহাথির। সমকামিতার অভিযোগে ১৯৯৯ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত কারাভোগ করতে হয় আনোয়ারকে। পরে ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে মাহাথির আবারও তার সঙ্গে জোট গঠন করেন। সূত্র : ডেইলি মালয় মেইল

মন্তব্য