| প্রচ্ছদ

বগুড়ায় কর্মশালায় বক্তাদের অভিমত

নদ-নদী রক্ষায় নদীপাড়ের মানুষগুলো জাগতে হবে

পুণ্ড্রকথা রিপোর্ট
পঠিত হয়েছে ৮৪ বার। প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ।

বাংলাদেশের নদ-নদীগুলোতে বাঁচানোর জন্য এগুলোর পানি প্রবাহ উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদী সংগঠনের কর্মীরা। পাশাপাশি নদ-নদীকে রক্ষায় তারা নদীপাড়ের লোকজনদের জেগে ওঠার আহবান জানিয়ে বলেছেন, নদীপাড়ের মানুষগুলো না জাগলে নদ-নদীগুলো রক্ষা করা যাবে না।
বুধবার সকালে বগুড়ায় এক কর্মশালায় নদী রক্ষা আন্দোলনে নিয়োজিত কর্মীরা নদ-নদী রক্ষায় করণীয়গুলো তুলে ধরে আরও বলেন, পানি প্রবাহ ছাড়া যেহেতু নদ-নদীগুলোকে বাঁচানো যাবে না তাই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেÑ এমন কোন বাঁধও নদীতে রাখা যাবে না। কর্মশালায় বক্তারা ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন হ্রাসসহ এক্ষেত্রে সুষ্ঠু নীতিমালা প্রণয়নেরও দাবি জানান। 
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সহায়তায় ‘ড্রাফট ওয়াটারশেড ম্যানেজমেন্ট পলিসি অ্যান্ড ডেভলপিং ইমপ্লিমেন্টেশন ফ্রেমওয়ার্ক’ শীর্ষক ওই কর্মশালা থেকে এসব দাবি উত্থাপন করা হয়। শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকার একটি হোটেলে আয়োজিত ওই কর্মশালার আয়োজন করে প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠনÑ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার (আইইউসিএন)। 
অর্ধবেলার ওই কর্মশালাটি সঞ্চালনা করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. চৌধুরী সারওয়ার জাহান। এতে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রকৃতি ও পরিবেশ বিষয়ক গবেষক, জনপ্রতিনিধি, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সচেতন নাগরিক কমিটির নেতৃবৃন্দ, পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কর্মী ও নদী রক্ষায় কাজ করা সংগঠন রিভারাইন পিপলের প্রতিনিধিসহ গণমাধ্যমের কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় পানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে আলাদাভাবে লিখিত মতামতও গ্রহণ করা হয়। কর্মশালায় স্বাগত বক্তৃতায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, নদ-নদী রক্ষায় অনেক আইন আছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো এগুলোর তেমন প্রয়োগ নেই, তাছাড়া শুধু আইন দিয়ে কাজও হয় না। তাই সকলকে তার নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে।
কর্মশালায় অংশ নিয়ে নদী রক্ষায় কাজ করা সংগঠন রিভারাইন পিপলের পরিচালক বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক তুহিন ওয়াদুদ বলেন, দেশের নদ-নদীগুলোকে বাঁচাতে হলে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার খুলশিতে স্লুইস গেট নির্মাণ করে করতোয়া নদী এবং উৎসমুখে বাঁধ দিয়ে তিস্তার শাখা ঘাঘট নদীতে পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি পাউবোকে নদীর সর্বনাশকারী প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে বলেন, গোবিন্দগঞ্জের খুলশিতে স্লুইস গেট নির্মাণ করে করতোয়া নদীর প্রবাহ বন্ধ করে পরিবেশের যে ক্ষতি করেছে তাতে ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। ভারত অভিন্ন সব নদীর পানি একেএকে প্রত্যাহার করে নেবে দাবি করে তুহিন ওয়াদুদ বলেন, ‘ভারত সরকার ৩৩ বছর মেয়াদী প্রকল্প নিয়েছে। তারই অংশ হিসেবে তারা প্রথমে তিস্তা নদীর পানি প্রত্যাহার করেছে। এরপর বাংলাদেশে প্রবেশ করা অন্যান্য নদীর পানিও একেএকে প্রত্যাহার করে নেবে।’
তুহিন ওয়াদুদ আন্তর্জাতিক পানি প্রবাহ আইনে বাংলাদেশ সরকারের অনুসমর্থন না করার সমালোচনা করে বলেন, ‘১৯৯৭ সালে আন্তর্জাতিক পানি প্রবাহ কনভেনশন হয়েছে। যখন এই কনভেনশন হয় সেখানে ভারত পাকিস্তান প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করেছে। বাংলাদেশ সেখানে সমর্থন দিয়ে এসেছে। সেই আন্তর্জাতিক পানি প্রবাহ কনভেনশনে বলা হয়েছিল ৩৫টি দেশ অনুসমর্থন করবার পর  আইনে পরিণত হবে। ৩৪টি দেশ অনুসমর্থন করবার পর দীর্ঘদিন এটি ঝুলে ছিল। পৃথিবীতে যতগুলো দেশ আছে তাদের মধ্যে এই আইনটি বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে জরুরী। বাংলাদেশ সরকার অনুসমর্থন করলেই সেটি আইনে পরিণত হয় কিন্তু বাংলাদেশ সরকার অনুসমর্থন করেনি। ২০১৪ সালে এটি ভিয়েতনাম অনুসমর্থন করবার পর সেই ১৯৯৭ সালের আন্তর্জাতিক কনভেশন অনুযায়ী তার ৯০দিন পর ১৭ আগস্ট এটি আইনে পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিকভাবে আমরা যদি এর প্রতিকার চাই তার সুযোগটা আমাদের আছে। কিন্তু তার আগে এটি সংসদে অনুসমর্থন হতে হবে। কিন্তু কেন তা করা হচ্ছে না সেটি আমাদের কাছে বড় প্রশ্ন।’ 
কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে বগুড়া পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমান, পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) যুগ্ম পরিচালক ড. শেখ মেহেদী মোহাম্মদ, উপ-পরিচালক মাকসুদ আলম, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইন্সটিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শাহ্ মোহাম্মদ গোলাম মওলা, বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের শিক্ষক মতিউর রহমান, আব্দুল হাই, শফি মাহমুদ, বাপা বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি আনোয়ারুল করিম দুলাল, সচেতন নাগরিক কমিটির সাবেক সভাপতি বজলুল করিম বাহার, নিভা রাণী সরকার ও দৈনিক করতোয়ার বার্তা সম্পাদক প্রদীপ ভট্টাচার্য শঙ্কর বক্তৃতা করেন।

 

মন্তব্য