| প্রচ্ছদ

‘আমার সাথে আমার দুই মেয়েকেও ওরা বেইজ্জতি করল’

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৫৪ বার। প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ।

দাঙ্গাবাজরা ঘরে ঢুকে আমাদের বেইজ্জতি শুরু করলে জখম থেকে বাঁচতে শরীরের চারদিকে দুপাট্টা পেঁচিয়ে আমরা দোতলা থেকে লাফ দেই।’ উত্তর-পূর্ব দিল্লির আল হিন্দ হাসপাতালে বসে ৪৫ বছর বয়সী এক নারী দুই মেয়ে সহ কীভাবে পালাতে বাধ্য হয়েছেন সে গল্প বলছিলেন।

বুধবার রাতের ওই দুঃস্বপ্নের বর্ণনায় ওই নারী বলেন, ‘যখন দাঙ্গবাজরা আসে তখন আমি ঘরেই ছিলাম। তারা আমাকে ও আমার দুই মেয়েকে বেইজ্জতি করে। আমাদের পোশাক ছিঁড়ে ফেলে দেয়।’ এসময় চোখে পানি চলে আসে  কারাওয়াল নগরের একটি এনজিও’র পরিচালক ওই মধ্যবয়সী নারীর।

তিনি বলেন, দোতলা থেকে লাফ দিয়ে পালানোর পরও দাঙ্গাবাজরা তাদেরকে ধর্ষণ ও হত্যা করার জন্য ধাওয়া করতে থাকে। তবে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় পৌঁছে আইয়ুব আহমেদ নামের এক মুদি দোকানির বাসায় আশ্রয় নেওয়ার পর দাঙ্গাবাজরা চলে যায়।

‘আহমেদ আমাদেরকে খাবার এবং পোশাক দেওয়ার পর আমরা  আল হিন্দ হাসপাতালে আসি। আমি ওই দাঙ্গাবাজদেরকে সনাক্ত করতে পারবো। কেননা তারা আমাদের লেনেরই বাসিন্দা ছিলো’, জানান ওই নারী।

উত্তরপূর্ব দিল্লিতে সশস্ত্র দাঙ্গাবাজদের হামলার পর কয়েকদিনে অনেক মানুষই আল হিন্দ হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়েছেন। তাদের প্রত্যেকেরই এমন ভয়ঙ্কর সব গল্প আছে বলার।

কারাওয়াল নগরের বাসিন্দা সালমান খান (২০) বলেন, মঙ্গলবার রাতে তার ঘরের কাছে দাঁড়ানো ছিলেন তিনি। আর তখনই দাঙ্গাবাজরা তার পিঠে অ্যাসিড ঢেলে দেয়। এরপর তার পিঠে আগুনের মতো জ্বলতে থাকে। রাত ১১টার দিকে পুলিশ তাকে হাসপাতালে পৌঁছে দেয়।

প্রাইভেট কম্পানিতে কর্মরত আকিল সাইফি (৩০) জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি অফিস থেকে মোটর সাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। তার পেছনে বসা ছিলো তার এক বন্ধু। যার মাথায় টুপি ছিলো। আর টুপি দেখে তাকে দাঙ্গাবাজরা আটক করে মারধর করে ছেড়ে দেয়।

গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে মুসলিমদের ওপর উগ্র হিন্দুত্ববাদী দাঙ্গাবাজদের একতরফা হামলায় নিহতের সংখ্যা ৪০ ছাড়িয়ে গেছে। এতে আহত হয়েছেন অসংখ্য মানুষ।

 

মন্তব্য