| প্রচ্ছদ

নিষিদ্ধ ইরানি নির্মাতার গোপনে বানানো সিনেমা জিতল গোল্ডেন বিয়ার

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৫০ বার। প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২০ ।

ইরানে নিষিদ্ধ ঘোষিত এক পরিচালকের বানানো সিনেমা জিতে নিলো বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের গোল্ডেন বিয়ার পুরস্কার।

বিবিসি জানায়, ২০১৭ সালে ইরান সরকার মোহাম্মাদ রাসুলফের চলচ্চিত্র নির্মাণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর মধ্যে গোপনে তিনি নির্মাণ করেন ‘দেয়ার ইজ নো ইভল’ নামে একটি সিনেমা।

এর আগে বানানো সিনেমা নিয়ে কর্তৃপক্ষের আপত্তির রাসুলফকে বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি দেয়া হয়নি।

‘দেয়ার ইজ নো ইভল’ সিনেমাটি জিতে নিয়েছে আন্তর্জাতিক সিনেমা অঙ্গনের অন্যতম সম্মানজনক পুরস্কার। বার্লিনে রাসুলফের মেয়ে বারান বাবার পক্ষের এই পুরস্কার গ্রহণ করেন। বারান নিজেও সিনেমাটিতে অভিনয় করেন।

জুরি প্রেসিডেন্ট জেরেমি আয়রনস বলেন, ‘সিনেমায় চারটি মৃত্যুদণ্ড নিয়ে চারটি গল্প রয়েছে, যাতে দেখা যায়-কর্তৃত্ববাদী সরকারের বোনা জালে বাধা পড়েছে বহু সাধারণ মানুষ, তাদের মধ্যকার মানবিকতাও হারিয়ে যাচ্ছে ক্রমশ।’

ভিডিও কলের মাধ্যমে রাসুলফ জানিয়েছেন, ‘দেয়ার ইজ নো ইভল’ সিনেমাটি মূলত মানুষের দায়িত্ব নেয়ার গল্প।

তিনি বলেন, ‘আমি এমন মানুষদের কথা কথা বলতে চেয়েছিলাম যারা কোনো কিছু হলে নিজে দায়িত্ব না নিয়ে বলে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু তারা আসলে 'না' বলে দিতে পারে, আর সেটাই তাদের শক্তি।’

বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার বিতরণের আগের দিন আয়োজকদের সঙ্গে স্কাইপে কথোপকথনের সময় রাসুলফ বলেন, ‘সিনেমার প্রতিটি ভাগের গল্প আসলে আমার নিজের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে বানানো।’

এরপর তিনি ব্যাখ্যা করছিলেন, সিনেমার একটি অংশে তিনি একজন ব্যক্তির চরিত্র আছে, যেটি তিনি নির্মাণ করেছেন এমন একজনের কথা ভেবে যিনি তাকে জেলখানায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন।

ওই লোকটিকে কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণের পর রাসুলফ বুঝতে পেরেছিলেন, তিনি কতো সাধারণ ছিলেন এবং অন্য সবার সঙ্গে তার কত মিল।

রাসুলফ বলেন, ‘আমি বুঝতে পারলাম ওনার মধ্যে কোনো দৈত্যকে দেখছি না আমি, আমার সামনে কোনো শয়তান নাই। আমার সামনে এমন একজন মানুষ বসে আছে যে কেবল নিজের কর্মকাণ্ডকেই প্রশ্ন করছে না।’

মানবাধিকার কর্মীরা জানিয়েছেন, ইরানে প্রতিবছর শত শত মানুষকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে থাকে।

মন্তব্য