| প্রচ্ছদ

অধিনায়ক মাশরাফির ‘শেষ’ বলেই গ্যালারিতে গর্জন

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৫১ বার। প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২০ ।

জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশের লক্ষ্যে মাঠে নেমেছে মাশরাফি বাহিনী। দারুণ সূচনাও করেছে বাংলাদেশ।

ব্যাট হাতে প্রথমে নেমেই বিনা উইকেটে দলগত সেঞ্চুরি করে ফেলেছেন টাইগাররা।

ইতিমধ্যে শতক হাঁকিয়েছেন ওপেনার লিটন দাস। লিটনের শতকে গ্যালারির দর্শকের অভিনন্দনের গর্জনটা আজ বেশ জোরেশোরেই শোনা গেল।

খেলার শুরু থেকেই গ্যালারি থেকে গর্জন শোনা যাচ্ছে। টিভি ক্যামেরা জানান দিচ্ছে, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামটি আজ কানায় কানায় পূর্ণ।

অথচ প্রথম দুই ওয়ানডেতে দর্শক উপস্থিতি ছিল খুবই নগণ্য। টিকিট কাউন্টারে দর্শক আনাগোনো ছিল না, ফলে গ্যালারিও ছিল নিরুত্তাপ।

দুর্বল জিম্বাবুয়েকে টাইগাররা হারাবেই সে কথা যেন জানা ছিল ক্রিকেটপ্রেমীদের। তাই খেলা নিয়ে তেমন একটা উচ্ছ্বাস দেখা যায়নি গত দুই ম্যাচে।

কিন্তু হঠাৎ করেই চিত্র ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেল।

জানা গেছে, আজ ম্যাচ শুরুর প্রায় ঘণ্টা চারেক আগে থেকেই স্টেডিয়ামের টিকিট কাউন্টারে ভিড় জমিয়েছেন সমর্থকরা। একটি টিকিট পেতে মরিয়া হয়ে এদিক-ওদিক ছুঁতে দেখা গেছে।

অনেকেই কাঙ্ক্ষিত টিকিট না পেয়ে স্টেডিয়ামের বাইরে মনমরা হয়ে দাঁড়িয়ে এখনও।

হঠাৎই ক্রিকেট নিয়ে সিলেটবাসীর এই উন্মাদনার কারণ জানা গেছে।

এর পেছনে যে বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার হাত রয়েছে।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তৃতীয় ম্যাচটিই তার অধিনায়ক হিসেবে শেষ ম্যাচ ঘোষণা দিয়েছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের দিন বদলের অধিনায়ক।

তাই আজকের এই ম্যাচকে ঐতিহাসিক হিসেবেই নিয়েছে ক্রিকেট সমর্থকরা।

এই ম্যাচের সাক্ষী হতে গ্যালারিতে একটু ঠাঁই পেতে মরিয়া তারা।

যে কারণে সকাল থেকেই প্রিয় অধিনায়কের ছবিসংবলিত বড় বড় ব্যানার হাতে অগণিত দর্শক স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে সমবেত হয়েছে।

শুক্রবার সকালে স্টেডিয়ামের প্রধান ফটকে গিয়ে দেখা গেছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশেন (বিসিএসএ) মাশরাফির বিদায়ী ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখতে জম্পেশ এক আয়োজন করেছে। ঢাক, ঢোল বাজিয়ে মাশরাফি, মাশরাফি কোরাসে নড়াইল এক্সপ্রেসের শেষ রাঙাতে এসেছেন।

শুধু সিলেটের স্থানীয় দর্শকরাই নন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকেও অনেকেই এই ম্যাচ দেখতে ছুটে এসেছেন।

প্রসঙ্গত ২০১৪ সালে মুশফিককে বাদ দিয়ে ওয়ানডে ও টি টোয়েন্টির দায়িত্ব তুলে দেয়া হয় মাশরাফির কাঁধে। এর পরই একের পর এক সাফল্য আসতে থাকে।

মাশরাফির ক্যারিশমাটিক নেতৃত্বে ওই বছরের নভেম্বরে জিম্বাবুয়েকে ৫-০তে হোয়াটওয়াশ করেন টাইগাররা।

পরের বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপে গিয়ে তার নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে খেলে বাংলাদেশ।

বিশ্বকাপ শেষে দেশে ফিরে পাকিস্তানকে প্রথমবারের মতো ৩-০ তে হোয়াটওয়াশ করে বাংলাদেশ।

মে মাসে খেলতে আসা পরাশক্তি ভারত ও জুলাইয়ে আসা সব সময়ের শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকাকেও হারায় বাংলাদেশ।

২০১৬ সালে ঘরের মাঠে আয়োজিত এশিয়া কাপেও মাশরাফির নেতৃত্ব ছিল লিখে রাখার মতো। সেবার দল ফাইনালে ওঠে।

২০১৭ সালে প্রথমবারে মতো আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে ঠাঁই হয় বাংলাদেশ দলের।

সেখানে মাশরাফির নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে ক্রিকেটবিশ্ব।

সবমিলিঢে ওয়ানডে ক্রিকেটে মাশরাফির নেতৃত্বে ৬৯ ম্যাচের ৪৯টিতেই জিতেছে বাংলাদেশ। আজ জয় পেলে নেতৃত্বের দিক দিয়ে ওয়ানডে জয়ের হাফসেঞ্চুরি হবে মাশরাফির।

মন্তব্য