| প্রচ্ছদ

কোয়ারেন্টাইন কী, কেন রাখা হয়?

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ১৫৩ বার। প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২০ ।

করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। বিশ্বে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১১ লক্ষ ১৩ হাজার ৬৩৬ জন। মারা গেছে ৪ হাজার ১৪ জন। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৪ হাজার ২৬৬ জন।
 

এদিকে এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতেই কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। সবশেষ ইতালি দেশটির ১৬ মিলিয়ন মানুষকে বাধ্যতামূলকভাবে কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য আদেশ দেয়া হয়। এছাড়া বিশ্বের যে কোনো জায়গাতেই করোনার উপসর্গ দেখা দিলেই তাকে কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

কোয়ারেন্টাইন কী:
কোয়ারেন্টাইন অর্থ একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পৃথক থাকা। তবে কোয়ারেন্টাইন মানে এই নয় যে, আপনাকে সম্পূর্ণ আলাদা করে দেয়া হলো। যদি কোন ব্যক্তির করোনা ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে তাকে জনবহুল এলাকা থেকে দূরে রাখতে এবং ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে অন্তত ১৪ দিন আলাদা থাকতে বলা হয়। কেননা এ ভাইরাস ধীরে ধীরে সুস্থ কোষের সঙ্গে মেশে। আর এই সময়ের মধ্যে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে নিয়মিত সময়ে শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলা ও জ্বর কমাতে ওষুধ গ্রহণসহ ভালো স্বাস্থ্যবিধি অনুশীলন করানো হয়।

ইউনিভার্সিটি অব নটিংহামের মলিকুলার ভাইরোলজির বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জোনাথন বল বলেন, গবেষণার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভাইরাসটির উন্মেষ পর্ব ১৪ দিন থাকে এবং এ কারণেই কোয়ারেন্টিনে ১৪ দিন রাখার কথা বলা হয়।

কোয়ারেন্টাইনে কতজনকে রাখা যায়:  
কোয়ারেন্টাইন মানে বাড়িতে বা বদ্ধ ঘরে থেকে অথবা সম্পূর্ণ নিরাপদ স্থানে থেকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কোয়ারেন্টাইনে সর্বোচ্চ চার থেকে ছয়জনকে একসঙ্গে রাখা যায়। এর বেশি হলে সেটা আর কোয়ারেন্টাইন নয়। আলাদা করে সবাইকে রাখা হচ্ছে। অবজারভেশনে রাখা না হলে এ রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে বিভিন্ন নির্দেশনা দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এর মধ্যে প্রধান দুটি নির্দেশনা হলো - হাত না ধুয়ে নিজের চোখ, মুখ ও নাক স্পর্শ না করা। আর প্রতিদিন কয়েকবার সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড হাত ধুতে হবে।

করোনা উৎপত্তি:
মধ্য চীনের উহান শহর থেকে এই রোগের সূচনা। ৩১ ডিসেম্বর এই শহরে নিউমোনিয়ার মতো একটি রোগ ছড়াতে দেখে প্রথম চীনের কর্তৃপক্ষ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে সতর্ক করে। এরপর ১১ জানুয়ারি প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। তবে ঠিক কীভাবে এর সংক্রমণ শুরু হয়েছিল, তা এখনও নিশ্চিত করে বলতে পারেন নি বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, সম্ভবত কোনও প্রাণী এর উৎস ছিল। প্রাণী থেকেই প্রথমে ভাইরাসটি কোনও মানুষের দেহে ঢুকেছে এবং তারপর মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়েছে।

মন্তব্য