| প্রচ্ছদ

জয়নাল আবেদীন কমার্স কলেজে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার

করোনাভাইরাসঃ বগুড়ায় সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল প্রস্তুত করা হচ্ছে

পুণ্ড্রকথা রিপোর্ট
পঠিত হয়েছে ৩২৮ বার। প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২০ ।

প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বগুড়া সদর উপজেলায় কোয়ারেন্টাইন সেন্টার খোলা হয়েছে। পাশাপাশি সন্দেহভাজন রোগীদের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) ও ২৫০ শয্যার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে পৃথক দু’টি করোনা ইউনিট চালু করা হয়েছে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ে কন্ট্রোল রুম চালুসহ সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই জেলার শাজাহানপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অন্তত ৪০ শয্যার ও মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে আরও ৬০ শয্যাসহ মোট ১০০ শয্যার করোনা ইউনিট চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া জেলার বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক মালিকদেরকেও করোনা ইউনিট চালু করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়ার সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক মালিকর সংগঠনÑ বগুড়া জেলা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনোস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েনের সঙ্গে বৈঠককালে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
ওই সভায় উপস্থিত সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সামির হোসেন মিশু জানান, বগুড়া সদরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য শহরতলীর রাজাপুর এলাকায় অবস্থিত জয়নাল আবেদীন কমার্স কলেজ নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে পরিণত করা হয়েছে। এছাড়া বেসরকারি টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এরই মধ্যে ২০ শয্যার করোনা ইউনিট চালু করা হয়েছে। 
ওই সভায় উপস্থিত অন্য ক্লিনিক মালিকরাও তাদের সাধ্য অনুযায়ী একাধিক শয্যার করোনা ইউনিট চালু করার অঙ্গীকার করেছেন। সভায় করোনাভাইরাস এবং কিভাবে তার সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব তা নিয়ে উপস্থিত বেসরকারি হসপাতাল ও ক্লিনিক মালিকদেরকে ধারণা দেওয়া হয়। সভাপতিত্ব করেন জেলার সিভিল সার্জন ডা. গাওসুল আজিম চৌধুরী। সভায় বগুড়া জেলা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনোস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. মুশিহুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক জি এম সাকলায়েন বিটুল বক্তৃতা করেন।
বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের সহকারি পরিচালক আব্দুল ওয়াদুদ জানান, ওই হাসপাতালের পাঁচতলায় নারী ও পুরুষের জন্য ৭টি করে ১৪ শয্যার পৃথক করোনা ইউনিট চালু করা হয়েছে। শজিমেকের মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের চিকিৎসক ওই ইউনিটের দায়িত্বে রয়েছেন। বগুড়ার ২৫০ শয্যার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. এটিএম নুরুজ্জামান সঞ্চয় জানান, ওই হাসপাতালের মূল ভবনের পেছনে দ্বিতল ভবনে করোনা ইউনিট খোলা হয়েছে। সেখানে ১০টি শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি জানান, হাসপাতালের চিকিৎসকরাই পর্যায়ক্রমে ওই ইউনিটের দায়িত্বে রয়েছেন।
বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. গাওসুল আজিম চৌধুরী জানান, করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারিভাবে প্রতিটি জেলায় অন্তত ১০০ শয্যার হাসপাতাল প্রস্তুত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু বগুড়ায়  কোন হাসপতালেই এককভাবে ১০০ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা সম্ভব নয় সে কারণে দু’টি হাসপাতাল মিলে তা করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ওই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জেলার শাজাহানপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪০গতিভ এবং শহরে ২৫০ শয্যার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে আরও ৬০ শয্যার আইসোলেটেড ইউনিট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার খোলা হবে। তিনি বলেন, ‘বগুড়ায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোন রোগী নেই। কিন্তু তথাপিও আমরা এর সংক্রমণ যাতে না ঘটে সেজন্য পূর্ব প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নানামুখি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আমরা বগুড়াবাসীর উদ্দেশ্যে বলতে চাই আপনারা অহেতুক আতঙ্কিত হবেন না। তবে সচেতনতা বাড়াতে হবে।’

মন্তব্য